- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
শফিকের বাবা মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। যুদ্ধের শুরুতেই তিনি গ্রামে চলে আসেন এবং প্রতিবেশী একটি দেশে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেশকে পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে একটি সরকার গঠিত হয়।
যৌথবাহিনী গঠনের ফলে মুক্তিযুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে কেন? ব্যাখ্যা কর।
যৌথবাহিনী গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে। কারণ মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ সর্বাত্মক রূপসাভ করে। যৌথবাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের ফলে পাকিস্তানি। বাহিনী খুব সহজেই পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়। ১৬ই ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর প্রধানের। নিকট পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
বাংলাদেশের গণহত্যা ও বর্বরতার খবর বহির্বিশ্বে প্রথম ছড়িয়ে দেন কারা?
বাংলাদেশের গণহত্যা ও বর্বরতার খবর বহির্বিশ্বে প্রথম ছড়িয়ে দেন বিদেশি সাংবাদিকরা।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শফিকের বাবা কোন বাহিনীর অধীন থেকে যুদ্ধ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শফিকের বাবা অনিয়মিত বাহিনীর অধীনে থেকে যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিবাহিনী সরকারি পর্যায়ে দুটি শাখায় বিভক্ত ছিল। যথা- নিয়মিত বাহিনী ও অনিয়মিত বাহিনী।
উদ্দীপকে শফিকের বাবা যুদ্ধকালীন সময়ে ছাত্র থাকায় তিনি অনিয়মিত বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত একজন যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেন। ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, কৃষক ও সকল পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে অনিয়মিত বাহিনী গঠিত হয়। এই বাহিনীর সরকারি নামকরণ ছিল 'গণবাহিনী' বা এফ, এফ (ফ্রিডম ফাইটার বা মুক্তিযোদ্ধা)। তাদের নিজ নিজ এলাকায় গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করার জন্য প্রেরণ করা হতো। কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী) ও ছাত্র ইউনিয়নের আলাদা গেরিলা দল ছিল। পাকিস্তানের চব্বিশ বছরে বাঙালি জাতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করছে এদেশের ছাত্রসমাজ।
পরিশেষে বলা যায়, শফিকের বাবা যুদ্ধকালীন সময়ে অনিয়মিত বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
মুক্তিযুদ্ধে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সরকার তথা মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননকে নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। উদ্দীপকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলতে এ মুজিবনগর সরকারকেই বোঝানো হয়েছে। ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। মুজিবনগর সরকার প্রধানত দুইভাবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। যেমন-বেসামরিক কার্যক্রম ও সামরিক কার্যক্রম। প্রত্যেক দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনে দপ্তর থাকে। মুজিবনগর সরকারেও তা ছিল। বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। মূলত মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
পরিশেষে বলা যায়, মুজিবনগর সরকার যদি যথাযথভাবে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা না রাখত তবে এত অল্প সময়ে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম না।

