- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ছেলে কৌশিকের মা-বাবা তার মতামত না নিয়েই সুরবালার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। সুরবালার বাবার অঢেল সম্পদ। গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় এ বিয়েতে বরপক্ষকে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যৌতুকের বিষয়টি জানতে পেরে কৌশিক ও সুরবালা বেঁকে বসে এবং সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে পরস্পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
উদ্দীপকের কৌশিকের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের তুলনা কর।
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার দিক দিয়ে উদ্দীপকের কৌশিকের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের কোনো মিল নেই।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৌশিক শিক্ষিত ও সচ্ছল পরিবারের সন্তান। কৌশিকের মা-বাবা তার মতামত না নিয়েই ধনাঢ্য পরিবারের কন্যা সুরবালার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। মা-বাবার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়ে সুবোধ বালকের মতো কৌশিক তা মেনেও নেয়। কিন্তু গোপনে যৌতুক গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে পেরে কৌশিক বিদ্রোহ করে বসে। যৌতুককে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে পাত্র-পাত্রী, উভয়ে পরস্পরকে যৌতুকবিহীনভাবে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে দেখা যায়, কৌশিক মা-বাবার পছন্দকৃত পাত্রীকে বাধ্যগত সন্তানের মতো মেনে নিলেও কোনো সামাজিক অনাচার বা ঘৃণ্য প্রথাকে মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। তার এরূপ বীরোচিত সিদ্ধান্তকে পাঠকমাত্রই সশ্রদ্ধচিত্তে সাধুবাদ জানাবে।
উদ্দীপকের কৌশিকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের ব্যক্তিত্বের কোনো মিল নেই। গল্পের অনুপম যেন তার মামার হাতের পুতুল। মামার মতামতের ওপর ভিত্তি করে তার সকল ভালোলাগা-মন্দলাগা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, মতামতের জলাঞ্জলি দিতে হয়। মামার অন্যায্য যৌতুকের দাবি ও তা আদায়ের কদর্য ভঙ্গি অনুপম মুখ বুজে মেনে নিয়েছে। ফলে মনের মানসীকে পাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে 'তার। নির্লজ্জের মতো তাকে বর বেশে ফিরে আসতে হয়েছে বিয়ে বাড়ি থেকে। কনের বাবা তার মতামত জানতে চাইলেও সে থেকেছে নির্বাক, নিস্তব্ধত্থ। তার এই মেরুদন্ডহীনতা পাঠককূলকে হতাশ করে। তাই বলা যায, প্রয়োজনের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে কৌশিকের ব্যক্তিমর্যাদা যে অনন্য উচ্চতায় আসীন, সেই একই ক্ষেত্রে স্বকীয় সিদ্ধান্তের অভাবে অনুপমের চরিত্র মলিন ও নিষ্প্রভ রূপে ধরা পড়ে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
অনুপমের বাবার পেশা কী ছিল?
অনুপমের বাবার পেশা ছিল ওকালতি।
"এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।" ব্যাখ্যা কর।
'এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি'-উক্তিটি দ্বারা কল্যাণীর কাছাকাছি থাকতে পেরে, তাকে দেখতে পেরে, তার কিছু কাজ করে দিতে পেরেই অনুপম নিজেকে সুখী ও সার্থক ভাবে এই মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে।
মায়ের সাথে যাত্রাপথে গাড়িতে উঠার সময় কল্যাণীর কণ্ঠে অনুপম প্রথম শুনতে পায় 'জায়গা আছে' কথাটি। 'জায়গা আছে' কথাটি অনুপমের কাছে চিরজীবনের গানের ধুয়া হয়ে রয়েছে। কল্যাণীকে বিয়ে করতে পারেনি বলে অনুপমের কোনো কষ্ট নেই, বরং সুযোগ হলে তার ছোটখাটো কাজ পর্যন্ত সে করে দেয়। আর মনে মনে ভাবে, এই তো সে জায়গা পেয়েছে। যদিও তার সম্পূর্ণ পরিচয় পায়নি, আজও সে অপরিচিতা; তবুও ভাগ্য ভালো যে, সে জায়গা পেয়েছে।
"উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পে বর্ণিত সামাজিক অসঙ্গতি অনেকাংশেই প্রতিফলিত।" যাচাই কর।
উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পে বর্ণিত সামাজিক ব্যাধি যৌতুক প্রথার ছায়াপাত ঘটেছে।
সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি কুপ্রথার নাম যৌতুক। সমাজের রন্ধ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে রয়েছে এই কাল নাগিনীর বিষ। প্রতি বছর হাজারো নারী যৌতুকের নিঠুর বলি হয়ে জীবন দিচ্ছে। অনেক নারী বেঁচে থেকেও মরে আছে। সমাজের কোনো শ্রেণি বা অবস্থানের মানুষই যে যৌতুকের করাল থাবা থেকে মুক্ত নয়, তারই প্রমাণ বহন করে উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পটি।
উদ্দীপকের ক্ষুদ্র প্রেক্ষাপটে যৌতুক প্রথার সকরুণ চিত্র উপস্থাপিত। আর্থিকভাবে সচ্ছল কৌশিকের পরিবার এখানে যৌতুক গ্রহণের অভিপ্রায়ে দণ্ডিত। যদিও শিক্ষিত ছেলে কৌশিকের নিকট মা-বাবার এমন অভিলাষ গ্লানিকর ঠেকেছে। একে সে দেখেছে স্বীয় ব্যক্তিত্বের বিসর্জন হিসেবে। তাইতো এই আত্মপ্রত্যয়ী যুবক পেরেছে সমাজের প্রচলিত ঘৃণ্য রীতি-নীতিকে ভাঙতে। এদিকে তার পাত্রী সুরবালার বাবা কিন্তু যৌতুককে অলঙ্ঘনীয় প্রথা হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন। তাই তো কন্যাকে পাত্রস্থ করার লক্ষ্যে অর্থ-কড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট প্রদানেও পিছপা হননি। তবে একে নারীত্বের অবমাননা জ্ঞান করে সুরবালাও কৌশিকের মতো যৌতুকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তবে উদ্দীপক থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, রাষ্ট্র ও সভ্যতাবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও যৌতুকের ন্যায় সামাজিক অসঙ্গতি আজও দোর্দন্ড প্রতাপের সাথে আমাদের সমাজে বিরাজমান।
অনুরূপভাবে বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননার প্রতিবাদ 'অপরিচিতা' গল্পটির অন্যতম উপজীব্য। গল্পে যৌতুক নিয়ে কল্যাণীর চরম অবমাননাকালে তার ব্যক্তিত্বরহিত বর পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুল হয়ে থেকেছে। আসলে, সমাজে ছেঁকে বসা পণপ্রথা যে পুরুষতন্ত্রেরই হাতিয়ার, নারীত্বের অবমাননার দলিল গল্পটি পড়ে সে কথা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। আত্মমর্যাদাশীল কল্যাণী ও তার বাবা তাই সে বিয়ে ভেঙে দিতে একটুও কসুর করেনি। তবে বর্তমান পৃথিবী একবিংশ শতকে প্রবেশ করলেও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় যে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি উদ্দীপকের ঘটনাই তার প্রমাণ।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পে বর্ণিত সামাজিক অসঙ্গতিরই প্রতিফলিত চিত্র।

