• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অপরিচিতা [গদ্য]
অপরিচিতা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

প্রজাপতির দুই পক্ষ। বরপক্ষ এবং কন্যাপক্ষ। বরপক্ষ কন্যাপক্ষের কাছে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চেয়ে বসল। নিত্যানন্দ রায় কোনো কিছু বিবেচনা না করে তাতেই মেয়ের বিয়ে দিতে সম্মত হয়ে গেল। তার মতে, এমন শিক্ষিত ছেলে আর বনেদি পরিবার কিছুতেই হাতছাড়া করা যায় না। তার ইচ্ছায় যথারীতি আশীর্বাদ পর্ব শেষে শুভবিবাহের দিন ধার্য হয়ে গেল। নিত্যানন্দ অনেক কষ্ট স্বীকার করে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করার পরও নিতান্ত এক তুচ্ছ কারণে বিয়ের আসরেই এই বিয়ে ভেঙে যায়।

তুমি কি মনে কর, যৌতুক প্রথাই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার একমাত্র কারণ? উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে বিচার কর।

আমি মনে করি, যৌতুক প্রথাই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার একমাত্র কারণ নয়।
আমাদের সমাজে বিয়ে কেবলই সামাজিক বন্ধন সৃষ্টির উপলক্ষ নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে ওঠে বাণিজ্যের মঞ্চও। তাই তো দুটি হৃদয়কে জোড়া দেওয়ার এই মহতী অনুষ্ঠানে অনেক সময় দেখা মেলে পরস্পরকে ঠকিয়ে জয়ী হওয়ার কুৎসিত প্রতিযোগিতা। তেমন ক্ষেত্রে বিয়ের অনুষ্ঠান পরিণত হয় মল্লযুদ্ধে, অনেক সময় যার অবসান ঘটে দুই পক্ষেরই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। যৌতুক প্রথা এই লড়াইয়ের প্রধান উপজীব্য হলেও আমাদের হীন মানসিকতা এর জন্য কম দায়ী নয়।

উদ্দীপকে প্রজাপতির দুই পক্ষ অর্থাৎ বর ও কনে পক্ষের কথা বলা হয়েছে। নিত্যানন্দ রায় এদের একটি পক্ষ হয়ে অপর পক্ষ তথা বরপক্ষের সাথে সন্ধির যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করেন। বরপক্ষের দাবিকৃত পণের সমুদয় টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসমেত কনে সম্প্রদানের জন্য তৈরি হন। কিন্তু অতি ঠুনকো কারণে বিয়ের আসরেই বিয়ে ভেঙে যায়। ফলে তাঁর প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। এখানে দেখা যাচ্ছে, ঘৃণিত পণ প্রথার গরল পান করেও নিত্যানন্দ রায় মেয়ের বিয়ে দিতে পারলেন না। এর জন্য পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতা যেমন দায়ী, তেমনি বরপক্ষের লোভী বা হীন মানসিকতাও কম দায়ী নয়। আলোচ্য গল্পেও অনুরূপ ঘটনার দৃষ্টান্ত মেলে। যৌতুকের নামে বরপক্ষের যাবতীয় আদেশ-ফরমায়েশ-আবদার মেনে নিয়েছিলেন শম্ভুনাথ সেন। কিন্তু বিয়ের আসরে গয়না যাচাইয়ের নামে কনের গা থেকে সমস্ত গয়না খুলে নেওয়াকে তিনি বরদাস্ত করতে পারেননি। বিয়ের কনে কল্যাণীও একে দেখেছে নারীত্বের অবমাননারূপে, যার ফলে সে আর বিয়েই করবে না বলে পণ করেছে।

পরিশেষে তাই বলা যায়, যৌতুক প্রথা ছাড়াও সমাজে বিরাজমান নানামুখী বাস্তবতায়, বিশেষত অমোঘ পুরুষতন্ত্র, বরপক্ষের অতি লোভবা হীন মানসিকতার কারণে বিয়ে ভেঙে যায়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()