• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অপরিচিতা [গদ্য]
অপরিচিতা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন, মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গিয়াছে, কিন্তু আর কিছু দিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গিয়াছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনও তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেই জন্যই তাড়া।

উদ্দীপকের বরের বাপের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।

পণলোভী মানসিকতার দিক দিয়ে মিল থাকলেও খুঁতখুঁতে স্বভাব, কর্তৃত্বপরায়ণতা, পরকে ঠকিয়ে নিজে জিতার প্রবণতা প্রভৃতি দিক দিয়ে উদ্দীপকের বরের বাপের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামার অমিল রয়েছে।

বিয়ে এমন এক সামাজিক রীতি, যা যথাসময়ে সম্পন্ন হওয়াই উত্তম। তবে এ শাশ্বত নিয়মে বাধ সাধে যৌতুক নামক এক সর্বনাশা ব্যাধি। তাছাড়া মহার্ঘ বরের হাটে যোগ্য বর খুঁজে পেতেও কন্যার বাবাকে হিমশিম খেতে হয়। আর যদি বরের অভিভাবকগণ হন যৌতুকলোভী, কর্তৃত্বপরায়ণ ও খুঁতখুঁতে মেজাজের তাহলে তো ভোগান্তির কোনো অন্তই থাকে না। উদ্দীপকের বরের বাবা ও আলোচ্য গল্পের মামা এমন চরিত্রের অধিকারী দুই ব্যক্তি।'

এক সময়ে কন্যাদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার রীতি ছিল। বিয়ের বাজারে বয়স্ক মেয়েদের মূল্য ছিল সবচেয়ে কম। তবে চাহিদানুযায়ী যৌতুক দিতে পারলে বেশি বয়সী মেয়েদের বিয়ে দিতে সমস্যা হতো না। বরের বাবা যৌতুকের লোভে বয়স্কা মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিতো। 'অপরিচিতা' গল্পের মামাও পাত্রীর বয়স বেশি দেখে, বেশি পণ পাবার লোভে অনুপমের বিয়েতে রাজি হন। উদ্দীপকের বরের বাপের ক্ষেত্রেও অনুরূপ মানসিকতা দৃশ্যমান। আর অধিক পণ প্রাপ্তির যে নেশা সেদিক থেকে বরের বাপ ও অনুপমের মামার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। তবে মামার চরিত্রের সামগ্রিকতা বরের বাপের চরিত্রে ফুটে উঠেনি। প্রথমত, মামা ছিলেন কর্তৃত্বপরায়ণ স্বভাবের। পারিবারিক সিদ্ধান্তের দায়িত্ব মামার একার। তাছাড়া মামা ছিল খুঁতখুঁতে স্বভাবের। তিনি স্বর্ণ পরখ করার জন্য বিয়ের আসরেই সেকরা নিয়ে আসেন। কন্যার বাপ যেনো তাদের না ঠকাতে পারে সে জন্য তিনি সদা সজাগ। পণ হিসেবে কী কী দেওয়ার কথা ছিল এবং কী দিচ্ছেন তার সবই তিনি খাতায় লিখে রাখেন। সবুর করে চলার মানসিকতাও অনুপমের মামার চরিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। অনুপমের তাড়া উপেক্ষা করেও মামা অপেক্ষা করেন মনের মতো পরিবারের জন্য। সুতরাং বলা যায়, পাত্রীপক্ষের সম্পদের প্রতি লোভী মানসিতার দিক থেকে উদ্দীপকের বরের বাবা এবং 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামার মধ্যে মিল থাকলেও মামার অন্যান্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের বাবার মাঝে অনুপস্থিত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()