- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নিঝুম আর অহনা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোবাসে। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়। কিন্তু নিঝুমের পরিবার সেটা মেনে নেয় না। কারণ, নিঝুম শিক্ষিত এবং ধনী পরিবারের একমাত্র সন্তান। অপরদিকে, অহনার পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। নিঝুম পরিবারের সম্মতিতে অন্যত্র বিয়ে করে এবং একসময় অহনাকে ভুলে যায়। অহনার দিন কাটে কষ্টের সমুদ্রে। কারণ, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনও মরে না।
উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম-কল্যাণীর জীবনের বিপরীত প্রতিচ্ছবি- মূল্যায়ন কর।
"উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম-কল্যাণীর জীবনের বিপরীত প্রতিচ্ছবি" - উক্তিটি যথার্থ।
প্রাপ্তিতেই সুখ নয়। তবে প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষাও মাঝে মাঝে পরম তৃপ্তি দিতে পারে। ভালোবাসার মানুষটির সাথে বন্ধন স্বর্গীয় অনুভূতির সমান। আবার প্রিয় মানুষটিকে ছেড়ে যাওয়া যেন কষ্টের এক বিশাল পাহাড়কে সাথী করা। যা সবাই বুঝতে পারে না।
উদ্দীপকের নিঝুম ও অহনা একে অপরকে ভালোবেসেছে। তাদেরও সাধ ছিল একত্রে ঘর বাঁধার। কিন্তু পারিবারিক চাপ তাদের চাওয়াকে পাওয়ায় পরিণত হতে দেয়নি। নিঝুম অন্যত্র বিয়ে করে অহনাকে ভুলে গেছে। যা প্রকৃত প্রেমিকের কাজ নয়। অপরদিকে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম চোখে না দেখেও ভালোবেসেছে কল্যাণীকে। কল্যাণীও আর কাউকে কল্পনা করে নি কোনোদিন। পরিবারের শত বাধা উপেক্ষা করে অনুপম ছুটে গেছে কানপুরে কল্যাণীর সন্ধানে। বিয়ের আশা না করলেও সবসময় কল্যাণীর পাশে থাকবে এটাই। তার চাওয়া। অজানা কণ্ঠের মধুর সুর বছরের পর বছর তাকে মুখ করে রেখেছে। দেখা হয়। কণ্ঠ শোনে। যখন সুবিধা পায় কল্যাণীর কাজ করে দেয় অনুপম। যা করে কল্যাণীর মনে একটু জায়গা চায় সে। প্রেমিকার মন-মন্দিরে একটুখানি জায়গা পেয়েই সে স্বর্গীয় অনুভূতি লাভ করে।
পরিশেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নিঝুম ও অহনা একে অপরকে ভালোবাসলেও তারা পরস্পর পরিণয়ে আবদ্ধ হতে পারেনি। আর নিঝুম বিয়ে করে ভুলে গেছে সব। অপরদিকে গল্পের অনুপম ও কল্যাণী একে অপরকে বিয়ে করতে না পারলেও পাশাপাশি থেকেছে সব সময়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সার্থক।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
"আমার ভাগ্যে প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের কোনো বিরোধ নাই।"- বাক্যটির তাৎপর্য কী?
আলোচ্য বাক্যটির দ্বারা বুঝানো হয়েছে অনুপমের ক্ষেত্রে বিয়ের দেবতার সাথে কোনো অশুভ শক্তির বিরোধ নেই।
মানুষ সামাজিক বন্ধনের ক্ষেত্রে ভাগ্য দেবতাকে বিশ্বাস করে। কোনো ক্ষেত্রে জীবনানুভূতির সাথে ভাগ্য দেবতার মিল খুঁজে পেলে তাকে শুভলক্ষণ মনে করে। অনুপমের ক্ষেত্রে এরকমই ঘটেছে। বিশ্বস্ত বিনু দাদা অনুপমের জন্য পাত্রী দেখে এসে পাত্রীর প্রশংসা করে। এ কারণে অনুপমের কাছে মনে হয় বিয়ে দেবতা তার দিকে মুখ ফিরে তাকিয়েছেন। এখন জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার ক্ষেত্রে পঞ্চশর বা মদন দেবতার কোনো অশুভ দৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। এ জন্য আলোচ্য উক্তিটি যারা অনুপম বুঝাতে চেয়েছে বিয়ের ক্ষেত্রে তার কোনো বাধা নেই। সৌভাগ্যই তার সঙ্গী হতে যাচ্ছে।
বিবাহ ভাঙার পর থেকে কল্যাণী কোন ব্রত গ্রহণ করেছে?
বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কল্যাণী মেয়েদের শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করেছে।
উদ্দীপকের নিঝুমের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের কী বৈসাদৃশ্য রয়েছে লেখ।
উদ্দীপকের নিঝুমের সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের চরিত্রগত বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
ভালোবাসা স্বর্গীয় দান। প্রকৃত ভালোবাসার ব্যক্তিকে কখনও ভোলা যায় না। স্মৃতির পাতায় সে বারংবার কড়া নাড়ে। আর যারা ভুলে যায় তারা প্রকৃত প্রেমিক নয়। উদ্দীপকের নিঝুমকে স্বীয় প্রেম ভুলে অন্যত্র বিয়ে করতে দেখা যায়। নিঝুমের এরূপ প্রতারণামূলক আচরণই তাকে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম থেকে পৃথক করেছে।
উদ্দীপকের নিঝুম ও অহনা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোবেসেছে। তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায়। কিন্তু নিঝুমের পরিবার তা মেনে নিতে নারাজ। কেননা, নিঝুম শিক্ষিত ও ধনী পরিবারের সন্তান। সে পরিবারের সম্মতিতে অন্যত্র বিয়ে করে অহনাকে ভুলে 'যায়। কিন্তু 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মধ্যে এর বৈপরীত্য দেখা যায়। চোখে না দেখেও সে ভালোবেসে ফেলে কল্যাণীকে। তাকে পাবার আশায় সে ব্যাকুল। পরিবারের নিষেধ সত্ত্বেও সে কল্যাণীর সন্ধানে বের হয়। একমাত্র প্রকৃত প্রেমিকের পক্ষেই যা সম্ভব। তাই তো ভালোবাসার গভীরত্বের এই দিকটাতেই উদ্দীপকের নিঝুম ও গল্পের অনুপম চরিত্র বিপরীত ধারায় প্রবাহিত।

