- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
অফিস থেকে ফেরার পথে রাশেদ বাসে দীর্ঘদিন পর দেখতে পেল রাবেয়াকে। মনে পড়ল রাবেয়ার সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার পর হঠাৎ রাশেদের বাবা মোটা অংকের যৌতুক দাবি করে বসে মেয়ের বাবার কাছে। উচ্চশিক্ষিত সুদর্শন পুত্রের জন্য এটা নাকি তার ন্যায্য দাবি। রাবেয়ার বাবার যথেষ্ট সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজি হলেন না যৌতুক দিতে। ক্ষোভে অপমানে তৎক্ষণাৎ ভেঙে দেন বিয়ে। ক্ষুদ্ধ রাবেয়াও সমর্থন করে বাবাকে। বিয়ে ভেঙে গেলেও রাবেয়া থেমে থাকেনি। এক ব্যাংকারকে বিয়ে করে সংসারী হয়েছে। চাকরি করছে একটা কলেজে।
উদ্দীপকের রাবেয়ার বাবার সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের শম্ভুনাথ বাবুর সাদৃশ্য কোথায়?
আত্মসম্মানবোধের দিক থেকে উদ্দীপকের রাবেয়ার বাবার সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের শম্ভুনাথ বাবুর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।
আত্মসম্মানবোধ ব্যক্তিত্ববান মানুষদের প্রধান অলংকার। এই গুণটিই ব্যক্তির স্বকীয়তার পরিচয়বাহী। আত্মসম্মানবোধে জাগ্রত মানুষ অন্যায় বা অপমানের কাছে মাথা নত করে না। দৃঢ়তার সাথে তার প্রতিবাদ জানায়। আর এই মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই উদ্দীপকের রাবেয়ার বাবা ও 'অপরিচিতা' গল্পের নায়িকা কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবু বিয়ে বাড়ি থেকে পাত্রপক্ষকে ফিরিয়ে দেয়।
'অপরিচিতা' গল্পের নায়িকা কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবু আত্মসম্মানবোধে উজ্জীবিত শিক্ষিত মানুষ। মাতৃহারা একমাত্র মেয়ে কল্যাণীকে তিনি প্রচন্ড ভালোবাসেন। মেয়ের সুখের জন্য তিনি সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে রাজি। তাই উচ্চ যৌতুকে অনুপমের সাথে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু বিয়ের দিন অনুপমের মামার অশোভন আচরণের মুখোমুখি হন। পাত্রীর গা থেকে গহনা খুলে পরীক্ষা করানোর মতো হীন কাজ দেখে তিনি বিয়ে ভেঙে দেন। কারণ নিজ মেয়েকে ঠকাবে এরূপ বদ্ধমূল ধারণা যাদের মধ্যে কাজ করে তাদের সাথে আর যাই হোক আত্মীয়তা হতে পারে না। অপরপক্ষে দিচীসক্সারসান্ত বারাত, মাঝেও সন্তানবাৎসল্য প্রবল। মেয়ের বিয়ের জন্য তিনিও বিশাল আয়োজন করেন। কিন্তু সমস্ত আড়ম্বর সম্পন্ন হওয়ার পর পাত্রের বাবা রাবেয়ার বাবার কাছে মোটা অংকের পণ চেয়ে বসে। ক্ষোভে আর অপমানে তিনিও তৎক্ষণাৎ বিয়ে ভেঙে দেন। আর এভাবেই দেখা যায় যে, উদ্দীপকের রাবেয়ার বাবা বরপক্ষের যৌতুকের দাবি উত্থাপনমাত্রই তা প্রত্যাখ্যান করে আর আলোচ্য গল্পের কল্যাণীর বাবা যৌতুক মেনে নিলেও অনুপমের মামার নীচ কর্মকান্ডের জন্য তাদের ফিরিয়ে দেন। মূলত উভয়ের প্রত্যাখ্যানের নেপথ্যে তাদের প্রবল আত্মসম্মানবোধই কাজ করেছে।

