- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
অযুত বর্ণ ফুল ধরেছে
যেথা সবুজ ঘাসে,
তাহার দেশের বাতাস উড়ে
আমার দেশে আসে।
শ্যামল বরণ কায়ার উপর-
মিষ্টি একটা মুখ
চুম্বক টানা চোখের ভেতর
অসীম গভীর সুখ।
হাসে যখন, ঠোঁটটি তাহার
মৃদু মৃদু নড়ে
অমাবস্যায়ও সে মুখেতে
জোছনা ঝরে পড়ে।
"কল্যাণী-ঐ মিষ্টি মুখের মেয়ের চেয়েও আরো কিছু"-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
'অপরিচিতা' গল্পের লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কল্যাণীর রূপ মাধুর্য বর্ণনার পাশাপাশি তার প্রকাশ করেছেন, যা উদ্দীপকের কবিতাংশে শ্যামল বরণ কায়ার মেয়েটির ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় না।
দেশপ্রেম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। প্রতিটি মানুষ তার স্বদেশকে ভালোবাসে। একজন দেশপ্রেমিক বিভিন্নভাবে তার দেশকে ভালোবাসে। দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করার মধ্যেই দেশপ্রেমের পরিচয় ফুটে ওঠে। 'অপরিচিতা' গল্পের লেখক কল্যাণীর সৌন্দর্যের দ্যুতি বর্ণনার সাথে সাথে তার দেশপ্রমের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। কিন্তু উদ্দীপকের কবি শ্যামল বরণ মেয়েটির রূপ বর্ণনা করলেও কল্যাণীর মতো দেশাত্মবোধ চেতনা প্রকাশ করেননি।
'অপরিচিতা' গল্পের নায়িকা, কল্যাণী। অপূর্ব সৌন্দর্যের অধিকারী সে। চপলমতি ও নব যৌবনা কল্যাণীর সৌন্দর্য এতো মনোহর যে কোথাও কোনো ঘাটতি নেই। আর এজন্যই তো অনুপম এবং তার মা নিষ্পলক দৃষ্টিতে কল্যাণীর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তার কণ্ঠ যেন সমুধুর সুর, যার অনুরণন সারাক্ষণ হৃদয়ে বাজতে থাকে। তার চরিত্রকে শুধু তার অনিন্দ্য- সৌন্দর্য উজ্জ্বল করেনি। তার দেশাত্মবোধের চেতনা তার চরিত্রকে আরও মহিমান্বিত করেছে। বিবাহ ভেঙে গেলে কল্যাণী নারী শিক্ষায় ব্রতী হয়ে সমাজের অসহায় ও অবহেলিত নারীদের পাশে এসে দাঁড়ায়। অপরদিকে উদ্দীপকের কবিতাংশে শ্যামল বরণ মেয়েটির সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উপমায়। তার মিষ্টি ও হৃদয়কাড়া মুখের সৌন্দর্যে এবং টানা চোখের চাহনিতে গভীর সুখের ঠিকানা রয়েছে। তার হাসিতে সমস্ত প্রকৃতি পুলকিত হয়, যার আলোর আভায় অমাবস্যার অন্ধকার দূরীভূত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের কবিতায় শ্যামল বরণ মেয়েটির রূপ মাধুর্যের বর্ণনা থাকলেও কল্যাণীর মতো স্বদেশ চেতনার গুণটি প্রতিফলিত হয়নি। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটিকে যথার্থ বলা যায়।

