- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
শম্ভুনাথ বাবু বরপক্ষকে ফিরিয়ে দিয়েছিল কেন?
বরপক্ষের লোভী ও অবিশ্বাসী মনোভাবের কারণে শম্ভুনাথ বাবু মেয়েকে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বরপক্ষকে ফিরিয়ে দেন।
স্বভাব ও ব্যবহার মনুষ্যত্বের পরিচয় বহন করে। কপট স্বভাবের মানুষ ভালো হয় না। বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ তাদের এড়িয়ে চলে। অনুপমের মামা বিয়ের আসরে গহনার খাদ পরীক্ষা করে লোভী, অবিশ্বাসী ও মনুষ্যত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে। আত্মসচেতন শম্ভুনাথ বাবু এটিকে ঠাট্টার সম্পর্ক বলে ঘৃণা করেছেন। তার মনে হয়েছে, এ ধরনের মানুষের সাথে সামাজিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ শুভ হবে না। এ কারণে শম্ভুনাথ বাবু কন্যা সম্প্রদানে বিরত থেকেছেন।
উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পের কার উপলব্ধির সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পের নায়ক অনুপমের উপলব্ধির সাথে সংগতিপূর্ণ।
মানুষ কখনও কখনও সমাজ বাস্তবতায় ও পারিবারিক জটিলতার সম্মুখীন হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু পরিস্থিতির উত্তরণ হলে, তখন বুঝতে পারে যে কাজটা ভুল ছিল। তখন মানুষ অনুশোচনায় দখ হয়। আর এটি হচ্ছে আত্মোপলব্ধি, যা উদ্দীপক এবং গল্পের অনুপমের মধ্যে লক্ষ করা যায়।
'অপরিচিতা' গল্পের নায়ক অনুপম শিক্ষিত হলেও, পরিবারতন্ত্রের কাছে সে ছিল অসহায় পুতুলমাত্র। তাই পারিবারিক জালকে উপেক্ষা করে যৌতুক বিরোধী পদক্ষেপে সে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে নি। কিন্তু তার এ অসচেতন ভূমিকা তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। তাই যখন ভুল শোধরানোর ন্যূনতম একটা সুযোগ পেয়েছে, তখন পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে নিজেকে খাঁটি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সময়ের কাজ সময়ে না করলে তার কোনো মূল্য থাকে না। অনুপমের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। অনুপম নিজেকে অর্থ, সমাজ আর সংস্কৃতির কাছে নত এক ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। আর উদ্দীপকে আমরা এ উপলব্ধিই দেখতে পাই। এখানে বলা হয়েছে মূল্যবান জিনিস হারিয়ে যাওয়ার পরই মানুষ তার মূল্য বুঝতে পারে এবং নিজের ভুল সংশোধনের চেষ্টা করে। মিথ্যা অহংকার, নিছক সামাজিকতার কারণে অনেক সময় মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দেয়। কিন্তু মোহ কেটে গেলে মানুযের বোধোদয় হয়। উদ্দীপকের এ উপলব্ধিটি গল্পের অনুপমের আত্মোপলব্ধির সাথে পুরোপুরিই সংগতিপূর্ণ।
উদ্দীপকের ন্যায় উপলব্ধিই প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থাকে কুসংস্কারমুক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে- 'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
মিথ্যা অহমিকা আর নিছক লৌকিকতা পরিহার করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করলে প্রচলিত সমাজ অবশ্যই কুসংস্কারমুক্ত হবে। 'অপরিচিত্র' গল্পের শিখনফলও এটি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের এ উপলব্ধিটি যথার্থ ও সঠিক।
আত্মোপলব্ধি মানুষের একটি মহৎ গুণ। এ বোধই মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে। কোনো কিছু হারিয়ে বা কঠিন বিপদ থেকে উত্তরণের পর মানুষের অন্যায় সম্পর্কে বোধোদয় হয়। উদ্দীপকে এমন এক উপলব্ধির ইঙ্গিত রয়েছে। যা আমরা 'অপরিচিতা' গল্পে লক্ষ করি। আর এ ধরনের উপলব্ধিই সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। গল্পের নায়ক অনুপম সমাজ, সংস্কৃতির বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে প্রথমে নিজেকে ব্যক্তিত্বহীন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করলেও গল্পের শেযাংশের বোধোদয় তাকে সামান্য হলেও ভালো চরিত্র বলে প্রমাণ করে। প্রথমে পরিবারতন্ত্র থেকে বের হতে না পেরে সমাজের ঘৃণ্য যৌতুক এবং নারীর অবমাননাকে নীরবে সহ্য করেছে সে, কিন্তু অনেক দিন পর, যখন আকাক্ষিত নারীর সাথে তার দেখা হয়, তখন পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে সে নিজের ভুলকে শুধরে নিতে চেয়েছে। হয়তো তার নায়িকা কল্যাণীকে বিয়ের আসর থেকে হারানোর পরই তার মনুষ্যত্ববোধ জেগে উঠেছে এবং বিবেকের তাড়নায় দগ্ধ হচ্ছে। তাই অর্থ ও সামাজিকতাকে উপেক্ষা করে সে কল্যাণীকে পাশে চেয়েছে। উদ্দীপকেও আমরা এ ধরনের উপলব্ধি লক্ষ করি। প্রতিটি মানুষ যদি এভাবে নিজেদের ভুল সংশোধন করে নেয় এবং মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করে তবে সমাজ থেকে অন্ধ বিশ্বাস আর কুসংস্কার দূরীভূত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রত্যেক মানুষেরই নিজেদের কর্ম সম্পর্কে আত্মসমালোচনা থাকা প্রয়োজন। মানুষ যদি তাদের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করে, তবে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা থেকে মিথ্যা অহমিকা, অন্যায় আচরণ দূর করা সম্ভব হবে।

