- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- বিলাসী [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বলাই উদার মানসিকতার একজন গ্রামের মানুষ। কিন্তু সমাজের প্রচলিত অসঙ্গতিগুলো উপেক্ষা করার ক্ষমতা তার নেই। তার গ্রামের গোঁড়া হিন্দুরা এক কিশোরী মেয়েকে মৃত বরের চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। বলাই- কাজটিকে মন থেকে সমর্থন না করলেও সে ঘটনায় সে গোঁড়াদের সাথেই ছিল।
"ধর্মীয় গোঁড়ামি মানুষের সহজাত বিকাশের অন্তরায়।"-উদ্দীপক ও 'বিলাসী' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।
ধর্মীয় গোঁড়ামিগুলো মানুষের সহজাত বিকাশের ক্ষেত্রে অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় যার বলি হয় সাধারণ মানুষেরা।
প্রাচীনকাল থেকে সনাতন সমাজের আচার-রীতিগুলো মানুষের জীবনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। এ রীতিগুলো ছিল মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের পথে অন্তরায়। এর ফলে সাধারণ মানুষেরা নিগ্রহের শিকার হচ্ছে।
উদ্দীপকে আমরা নৃশংস একটি ধর্মীয় গোঁড়ামির চিত্র দেখতে পাই। যার শিকার হয়েছে এক কিশোরী। তাকে গ্রামের গোঁড়া হিন্দুরা মৃত বরের চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। যে মানুষেরা এহেন জঘন্য কাজটি করেছে তাদের মানসিক বিকৃতির পেছনের অন্যতম মূল কারণ ধর্মীয় গোঁড়ামি। ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে তারা বিবেকহীন হয়ে পশুতে পরিণত হয়েছে বলেই বর্বরোচিত কাজটি করেছে।
বিলাসী গল্পে অন্নপাপের অপরাধে সমাজের পুরুষরা বিলাসীর মত নিরীহ নারীকে বেদম প্রহার করে। আবার মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত করা হয় এ অপরাধে। এছাড়াও এ গল্পে সমকালীন আচারসর্বস্ব হিন্দু সমাজের অনেক অনাচার স্থান পেয়েছে। এ অনাচারের শিকার হয়েছে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী। শেষপর্যন্ত করুণ মৃত্যু হয় মৃত্যুঞ্জয়ের ও আত্মত্মহনন করে বিলাসী।
উদ্দীপকে ধর্মীয় গোঁড়ামি হরণ করেছে একটি কিশোরীর জীবন। 'বিলাসী' গল্পেও দেখা যায় ধর্মীয় অনাচার ও কুসংস্কার নিঃশেষ করেছে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে, তাদের স্বপ্নকে। আর এই ধর্মীয় গোঁড়ামি পুষে বিকৃত মস্তিস্ক নিয়ে জীবন-যাপন করেছে একদল মানুষ। তাই বলা যায় ধর্মীয় গোঁড়ামি মানুষের স্বাভাবিক বিকাশকে অস্বীকার করে আর ধ্বংস করে তাদের স্বপ্নকে।

