আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী - প্রশ্নোত্তর

কবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও ভারত একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করে?

২৭ জানুয়ারি ২০২৬

শেয়ার :

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

প্রশ্ন:

এই বিশ্বকাপের ফরম্যাট কেমন? আগের চেয়ে কী আলাদা?

উত্তর:

এবারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো দলের সংখ্যা। এটাই প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে ৪৮টি দল খেলছে, যা আগের সাত আসরের চেয়ে ১৬টি দল বেশি। দলগুলোকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, প্রতি গ্রুপে চারটি দল। গ্রুপ পর্বের পর নিয়ম একটু জটিল হয়ে গেছে। প্রতি গ্রুপ থেকে প্রথম দুটি দল সরাসরি নকআউটে যাবে, আর সেরা তৃতীয় স্থানের আটটি দলও সুযোগ পাবে। এর মানে মোট ৩২টি দল নকআউট রাউন্ডে খেলবে, যা ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার নতুন একটা রাউন্ড অফ ৩২ যুক্ত হলো। মোট ম্যাচ সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে ১০৪ হয়েছে, এবং টুর্নামেন্টের মোট সময়কাল ৩৯ দিন, যা আগের ৩২ দিনের তুলনায় বেশি। ফাইনালে ওঠা দলগুলোকে এখন সাতটার বদলে আটটা ম্যাচ খেলতে হবে। ফিফা এমন একটা ব্যবস্থা করেছে যাতে শীর্ষ র‍্যাংকড দলগুলো সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি না হয়। যেমন স্পেন আর আর্জেন্টিনা, বা ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড আলাদা পাথওয়েতে রাখা হয়েছে, যাতে এই চার দল গ্রুপ জিতলে সেমিফাইনালের আগে দেখা না হয়।

প্রশ্ন:

কোন কোন দেশ এবারের বিশ্বকাপে নতুন এসেছে?

উত্তর:

এই বিশ্বকাপে কয়েকটা দেশ প্রথমবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রাখছে। কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তান তাদের প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে। এটা দলগুলোর জন্য বিশাল একটা ব্যাপার, বিশেষ করে কেপ ভার্দের মতো ছোট একটা দ্বীপদেশের জন্য, যাদের জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখের মতো। আবার কিছু পরিচিত দেশ এবার বাদ পড়েছে, যা অনেককে চমকে দিয়েছে। চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফ ফাইনালে পেনাল্টিতে হেরে বাদ পড়ে যায়, এবং এটা টানা তৃতীয়বার যে ইতালি বিশ্বকাপ মিস করল। কোস্টা রিকাও ২০১০ সালের পর প্রথমবার বাদ পড়েছে। ইরাকও দীর্ঘ বিরতির পর ফিরেছে, ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে।

প্রশ্ন:

এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল আর মাসকট কী?

উত্তর:

প্রতিটা বিশ্বকাপেই একটা থিমভিত্তিক বল আর মাসকট থাকে, আর এবার সেটা তিনটা দেশের যৌথ আয়োজনের কারণে একটু আলাদা। অফিসিয়াল ম্যাচ বলের নাম অ্যাডিডাস ত্রিওন্দা। নামটা স্প্যানিশ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ "তিন ঢেউ", এবং এর লাল, সবুজ আর নীল রঙের নকশা তিনটা স্বাগতিক দেশকে উপস্থাপন করে। বলে কানাডার জন্য ম্যাপল লিফ, মেক্সিকোর জন্য একটা ইগল আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটা তারা আঁকা আছে। মাসকটের ক্ষেত্রেও তিনটা দেশের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। তিনটা অফিসিয়াল মাসকট হলো ম্যাপল (একটা মুস, কানাডার প্রতিনিধি), জায়ু (একটা জাগুয়ার, মেক্সিকোর প্রতিনিধি) এবং ক্লাচ (একটা বল্ড ঈগল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি)। এগুলো ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রশ্ন:

আর্জেন্টিনা কি এবার তাদের শিরোপা ধরে রাখার চেষ্টা করছে?

উত্তর:

হ্যাঁ, এবং এটা একটা বড় গল্প। আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই টুর্নামেন্টে নেমেছে, কারণ তারা ২০২২ সালে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিল। তারা যদি শিরোপা ধরে রাখতে পারে, তাহলে ইতিহাসে তারা হবে মাত্র তৃতীয় দল যারা ব্যাক টু ব্যাক বিশ্বকাপ জিতল। এর আগে এই কাজ করেছে শুধু ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) আর ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২)। লিওনেল মেসির বয়স এখন ৩৮ এর কাছাকাছি, তাই এটাকে অনেকে তার শেষ বিশ্বকাপ বলেই দেখছেন। আর্জেন্টিনা টুর্নামেন্টের শুরুতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছে এবং তাদের ফেভারিট হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যদিও স্পেন আর ফ্রান্সের মতো দলগুলোও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে সেটা এখনও বলার সময় আসেনি, কারণ টুর্নামেন্ট সবে গ্রুপ পর্বের মাঝে আছে।

প্রশ্ন:

টিকিটের দাম আর বিক্রি নিয়ে কী হচ্ছে? বিতর্ক কেন হলো?

উত্তর:

এই বিশ্বকাপের টিকিট ব্যবস্থা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, কারণ ফিফা এবার একটা নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফিফা নিশ্চিত করে যে তারা প্রথমবারের মতো ডায়নামিক প্রাইসিং ব্যবহার করবে, যেটা আগে ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এর মানে চাহিদা বাড়লে টিকিটের দামও বেড়ে যায়, যা অনেক ভক্তের কাছে সমালোচিত হয়েছে। টিকিট বিক্রি কয়েক ধাপে হয়েছে। প্রথম ধাপ ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, যেটা শুধু ভিসা কার্ডধারীদের জন্য সীমিত ছিল, তারপর অক্টোবরে দ্বিতীয় ধাপ এবং ডিসেম্বরের ড্র এর পরে তৃতীয় ধাপ শুরু হয়। প্রতি ব্যক্তি একটা ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ চারটা টিকিট কিনতে পারবে, এবং সম্পূর্ণ টুর্নামেন্টের জন্য কোনো ব্যক্তি ৪০টার বেশি টিকিট কিনতে পারবে না। ২০২৬ সালের এপ্রিলে একটা শেষ "লাস্ট-মিনিট" বিক্রির ধাপ খোলা হয়, এবং সে সময় পর্যন্ত আনুমানিক ছয় মিলিয়নের বেশি টিকিটের মধ্যে পাঁচ মিলিয়নের বেশি বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। এর বাইরেও কিছু বিতর্ক আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে অনেক দেশের ভক্তদের মধ্যে চিন্তা আছে, কারণ এটা তাদের ভ্রমণে সমস্যা করতে পারে।

প্রশ্ন:

বিশ্বকাপ ফাইনালে কি বিরতিতে কোনো পারফরম্যান্স থাকবে?

উত্তর:

হ্যাঁ, এবং এটা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটা সম্পূর্ণ নতুন ব্যাপার। ফাইনাল ম্যাচে এবার প্রথমবারের মতো একটা হাফটাইম শো থাকবে, যা মূলত আমেরিকান ফুটবলের সুপার বোলের অনুকরণে করা হচ্ছে। গ্লোবাল সিটিজেন এই শো সহ-আয়োজন করছে, আর কোল্ডপ্লে পারফর্মারদের তালিকা ঠিক করতে সাহায্য করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ঘোষণা করা হয় যে মাদোনা, শাকিরা এবং বিটিএস এই হাফটাইম শোতে প্রধান পারফরমার হবেন, এবং শোটা ১১ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে হবে। এটা একটা বড় পরিবর্তন, কারণ আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে এই ধরনের আলাদা বিনোদনমূলক হাফটাইম শোয়ের রেওয়াজ ছিল না। ফুটবল বিশুদ্ধবাদীদের অনেকে এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, কারণ তারা মনে করেন এটা ম্যাচের নিজস্ব গুরুত্বকে ছাপিয়ে যেতে পারে। তবে ফিফা এটাকে একটা বিশ্বব্যাপী উদযাপন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

প্রশ্ন:

ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়াম কেন বেছে নেওয়া হলো?

উত্তর:

ফাইনালের ভেন্যু নির্বাচন একটা লম্বা প্রক্রিয়া ছিল। প্রাথমিকভাবে ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামও আলোচনায় ছিল। সোফাই স্টেডিয়াম মূলত আমেরিকান ফুটবলের জন্য তৈরি হওয়ায় এর মাঠের প্রস্থ ফিফার সুপারিশের চেয়ে কম ছিল, এবং স্টেডিয়ামের মালিকপক্ষের সাথে রেভিনিউ শেয়ারিং নিয়েও মতবিরোধ ছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেটলাইফ স্টেডিয়াম বেছে নেওয়া হয়, যা স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে কিছুটা অপ্রত্যাশিতই ছিল, কারণ ডালাসের বিড আগে থেকে এগিয়ে ছিল বলে গুঞ্জন ছিল। নিউ জার্সির এই স্টেডিয়াম নিউ ইয়র্ক সিটির খুব কাছে, ৮২,৫০০ এর বেশি দর্শক ধারণক্ষমতা আছে, এবং এটা ২০১৪ সালে সুপার বোল আয়োজন করার অভিজ্ঞতাও রাখে। ফিফার বিশ্বকাপের জন্য মাঠের প্রস্থ বাড়ানোর জন্য স্টেডিয়ামের কিছু আসন সরিয়ে নেওয়ার মতো পরিবর্তনও করা হয়েছে।

প্রশ্ন:

এই বিশ্বকাপে নতুন কী কী নিয়ম যুক্ত হয়েছে?

উত্তর:

খেলার গতি বাড়ানো এবং সময় নষ্ট কমানোর জন্য কয়েকটা নতুন নিয়ম আনা হয়েছে এবার। এর মধ্যে একটা হলো ১০ সেকেন্ডের সাবস্টিটিউশন নিয়ম, যেখানে বদলি হওয়া খেলোয়াড়কে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ ছাড়তে হবে, অন্যথায় তার পরিবর্তে আসা খেলোয়াড়কে এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এই নিয়মটা মূলত খেলোয়াড়দের ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করার অভ্যাস বন্ধ করার জন্য আনা হয়েছে। নকআউট রাউন্ডের নিয়মেও পরিবর্তন আছে। যদি কোনো ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে টাই থাকে, তাহলে ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময় খেলা হবে, যা দুটো ১৫ মিনিটের অর্ধে ভাগ করা থাকবে, এবং এরপরও টাই থাকলে পেনাল্টি শুটআউটে নির্ধারণ হবে। এছাড়া গ্রুপ পর্বের টাইব্রেকার নিয়মেও একটা নির্দিষ্ট ক্রম মানা হয়, যেখানে গোল ব্যবধান, করা গোলের সংখ্যা, মুখোমুখি লড়াই এবং ফেয়ার প্লে রেকর্ড বিবেচনা করা হয়। ৪৮ দলের ফরম্যাটে গ্রুপ পর্বে সম্ভাব্য যোগসাজশের ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হয়েছিল, বিশেষ করে যদি কোনো দল ইচ্ছাকৃতভাবে হারে বা ড্র করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। এই কারণেই ১২ গ্রুপে চার দলের ফরম্যাট বেছে নেওয়া হয়েছিল আগের প্রস্তাবিত ১৬ গ্রুপে তিন দলের ফরম্যাটের বদলে।

প্রশ্ন:

বিশ্বকাপ জেতার জন্য প্রাইজমানি কত? আর এই টুর্নামেন্ট কেন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:

এবারের বিশ্বকাপে অর্থের অঙ্কও রেকর্ড গড়েছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ৪২ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। মোট প্রাইজমানি বরাদ্দ ৮৭১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের আসরের চেয়ে ৪৩১ মিলিয়ন ডলার বেশি। এর বাইরে প্রতিটা যোগ্যতা অর্জনকারী দল ১০ মিলিয়ন ডলার কোয়ালিফিকেশন পেমেন্ট এবং ২.৫ মিলিয়ন ডলার প্রিপারেশন ফি পাবে, যা তাদের জন্য আর্থিকভাবে অনেক সহায়ক হবে। এই টুর্নামেন্ট কেন এত গুরুত্বপূর্ণ তার কারণ স্পষ্ট। এটাই প্রথম বিশ্বকাপ যেটা তিনটা দেশ মিলে আয়োজন করছে, প্রথম যেখানে ৪৮টি দল খেলছে, এবং ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ উত্তর আমেরিকায় ফিরেছে। ফরম্যাট, বল, মাসকট থেকে শুরু করে ফাইনালের হাফটাইম শো পর্যন্ত প্রায় সবকিছুতেই নতুনত্ব আনা হয়েছে, যার ফলে এটাকে অনেকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে আলোচিত আসর বলছেন।