- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয় ২০২৬
- বাংলা
কোনটি অনুজ্ঞা?
বাংলা ব্যাকরণ শাস্ত্রে ক্রিয়ার রূপ বা কাল আলোচনার ক্ষেত্রে অনুজ্ঞা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। সাধারণ অর্থে অনুজ্ঞা বলতে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা কিংবা অনুমতি প্রদান করাকে বোঝায়। এখানে চারটি বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কাল ও রূপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে তিনটি বাক্য কেবল কাজের বর্তমান বা অতীতকালকে নির্দেশ করছে, কিন্তু একটি বাক্য সরাসরি নির্দেশ প্রদান করছে।
প্রথমেই দেখা যাক 'সে গিয়েছিল' বাক্যটি। এখানে ক্রিয়াটি অতীতকালে সম্পন্ন হয়ে গেছে এমন একটি সাধারণ বর্ণনা দিচ্ছে। একইভাবে 'সে যাচ্ছে' এবং 'তুমি যাচ্ছ' বাক্য দুটি বর্তমানকালের চলমান অবস্থা প্রকাশ করছে। অর্থাৎ এই তিনটি বাক্যে বক্তা কেবল কোনো ঘটনার বিবরণ দিচ্ছেন বা তথ্য প্রদান করছেন। ব্যাকরণগতভাবে এগুলো নির্দেশক ভাব বা ইন্ডিকেটিভ মুড এর অন্তর্ভুক্ত।
সঠিক উত্তরটি হলো 'তুমি যাও'। একজন মেন্টর হিসেবে বিষয়টি যদি আরও গভীরে গিয়ে দেখি তবে দেখা যায় যে এখানে বক্তা সরাসরি শ্রোতাকে একটি কাজ করার জন্য আদেশ বা অনুমতি দিচ্ছেন। অনুজ্ঞা সবসময় কেবল বর্তমান এবং ভবিষ্যৎকালের মধ্যম ও প্রথম পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। যখন আমরা কাউকে বলি 'তুমি যাও', তখন সেখানে একটি ক্রিয়া সম্পাদনের প্রত্যক্ষ নির্দেশ থাকে। এটি কেবল তথ্য প্রদান নয় বরং একটি ইচ্ছা বা আদেশের বহিঃপ্রকাশ। অনুজ্ঞার ক্ষেত্রে উত্তম পুরুষে সাধারণত কোনো রূপ ব্যবহার করা হয় না কারণ মানুষ নিজেকে নিজে সচরাচর আদেশ বা অনুরোধ করে না।
বাংলা ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালের মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়াপদের যে রূপের মাধ্যমে আদেশ বা প্রার্থনা বোঝানো হয় তাকেই অনুজ্ঞা বলা হয়। এখানে 'যাও' ক্রিয়াটি মধ্যম পুরুষের অনুজ্ঞা রূপে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং ভাষাতাত্ত্বিক বিচারে অন্য তিনটি বাক্য সাধারণ বিবৃতিমূলক হলেও 'তুমি যাও' বাক্যটি একটি সার্থক অনুজ্ঞার উদাহরণ। এটি শ্রোতাকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করছে যা অনুজ্ঞার মূল বৈশিষ্ট্য।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

