• হোম
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি

৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৬

  • বিসিএস ২০১৬
  • বিজ্ঞান
Back

নিচের কোনটি ভাইরাসের (VIRUS) জন্য সত্য নয়?

কডিএনএ বা আরএনএ থাকে
খশুধুমাত্র জীবদেহের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করে
গস্ফটিক দানায় রূপান্তরিত
ঘরাইবোজোম থাকে
উত্তর : ঘ.
রাইবোজোম থাকে
Verified

ভাইরাস হলো জীবনের এক অদ্ভুত শ্রেণি, যা প্রায়শই জীবন্ত এবং অজীব বস্তুয়ের মধ্যে মধ্যবর্তী হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি একটি কোষ নয়, কিন্তু এটি বংশবৃদ্ধি করতে পারে, তবে কেবল অন্য জীবন্ত কোষের ভিতরে। ভাইরাস বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে গবেষণা করছেন এবং এটি জীববিজ্ঞানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জটিল অণুজীবগুলোর মধ্যে একটি। ভাইরাসের ধারণা বোঝার জন্য আমরা এর গঠন, জীবনচক্র এবং বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

প্রথমে ভাইরাসের জিনগত উপাদান বিবেচনা করা যাক। ভাইরাসের ডিএনএ বা আরএনএ থাকে, কিন্তু কখনও কখনও উভয়ই থাকে না। এটি তার জেনেটিক কোড বহন করে এবং হোস্ট কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে সেই কোড অনুযায়ী নতুন ভাইরাস কণিকা তৈরি হয়। এটি ভাঙা বা ক্ষয়প্রাপ্ত কোষের বাইরে বেঁচে থাকতে পারে, কিন্তু জীবন্ত প্রক্রিয়া চালাতে পারে না। ভাইরাস নিজে কোনো প্রকার মেটাবলিজম করতে সক্ষম নয়। এটি একটি হোস্টের কোষে প্রবেশ করে তার মেশিনারি ব্যবহার করে প্রজনন করে। ভাইরাসের এই বৈশিষ্ট্য এটিকে কোষের থেকে আলাদা করে। স্বাধীনভাবে এটি বৃদ্ধি বা জীবনের কার্যক্রম চালাতে পারে না।

ভাইরাসের সবচেয়ে সুপরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধুমাত্র জীবদেহের অভ্যন্তরে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। ভাইরাস কোনো প্রকার রক্ত, পানি বা মাটিতে থাকা সত্ত্বেও বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। এটি হোস্ট কোষে প্রবেশ করে তার রাইবোনিউক্লিয়িক অ্যাসিড এবং প্রোটিন সংশ্লেষণের মেশিনারি ব্যবহার করে অনুকরণী কপি তৈরি করে। যেমন, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস হোস্টের শ্বাসযন্ত্রের কোষে প্রবেশ করে প্রজনন করে, হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) হোস্টের টি-সেলকে লক্ষ্য করে। এই কারণেই ভাইরাসকে অন্তঃকোষী পরজীবী বলা হয়।

ভাইরাসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি বাহ্যিক পরিবেশে স্ফটিক দানার মতো রূপে রূপান্তরিত হতে পারে। এই অবস্থায় ভাইরাস কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকে। স্ফটিক রূপের ভাইরাস দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত থাকতে পারে, যেমন: রুবেলা বা নোরা ভাইরাসের ক্রিস্টালাইজড ফর্ম। তবে এই রূপটি জীবন্ত নয় এবং শুধুমাত্র হোস্ট কোষে প্রবেশের পরই এটি কার্যকর হয়। এটি ভাইরাসকে পরিবেশে টেকসই এবং সংরক্ষণযোগ্য করে তোলে, কিন্তু স্ফটিক অবস্থায় এটি কোনও জীববৈজ্ঞানিক কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারে না।

এবার ভাইরাসের একটি সাধারণ ভুল ধারণা নিয়ে আলোচনা করা যাক। অনেক সময় বলা হয় যে ভাইরাসে রাইবোজোম থাকে, যা সম্পূর্ণ ভুল। রাইবোজোম হলো কোষের প্রোটিন সংশ্লেষণের যন্ত্রাংশ। ভাইরাস নিজে কোনো প্রোটিন তৈরি করতে পারে না। এটি প্রয়োজন হলে হোস্ট কোষের রাইবোজোম ব্যবহার করে তার প্রোটিন কেপ বা কোট তৈরি করে। তাই, ভাইরাসের মধ্যে কোনো প্রকার রাইবোজোম নেই। ভাইরাসের গঠন সাধারণত দুইটি প্রধান অংশে বিভক্ত:

  • ক্যাপসিড (Capsid) – প্রোটিনের আবরণ যা নিউক্লিক অ্যাসিডকে সুরক্ষা দেয়।
  • নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA বা RNA) – ভাইরাসের জেনেটিক কোড।

কিছু ভাইরাসে অতিরিক্ত লিপিড আবরণ (envelope) থাকে, যা হোস্ট কোষের ঝিল্লি থেকে আসে। কিন্তু এসবেও রাইবোজোম নেই। ভাইরাসের প্রোটিন বা এ্যানজাইম তৈরি করতে হোস্টের কোষের সম্পূর্ণ যন্ত্রণা ব্যবহার করতে হয়।

ভাইরাসের জীবনচক্র মূলত দুইটি রূপে দেখা যায়: লিটিক (lytic) এবং ল্যাটেন্ট (lysogenic)। লিটিক চক্রে ভাইরাস দ্রুত হোস্টকে আক্রান্ত করে, প্রজনন করে এবং হোস্ট কোষ ধ্বংস করে মুক্ত হয়। ল্যাটেন্ট চক্রে ভাইরাসের জিনোম হোস্টের ক্রোমোসোমে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকে এবং পরে প্রয়োজনীয় সময়ে সক্রিয় হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো ভাইরাসকে অন্যান্য অণুজীব থেকে আলাদা করে।

ভাইরাসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর সংশ্লেষণ ও প্রজনন সম্পূর্ণ হোস্টের উপর নির্ভরশীল। এটি নিজে কোনো শক্তি উৎপাদন করে না, কোনো ATP তৈরি করে না, এবং কোনো প্রোটিন তৈরি করতে পারে না। তাই ভাইরাসকে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী জীব হিসেবে গণনা করা যায় না। এটি কোষের ভিতরে প্রবেশ না করলে বংশবৃদ্ধি বা জীবনধারণ অসম্ভব।

সারসংক্ষেপে, ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • DNA বা RNA দ্বারা গঠিত।
  • স্বাধীনভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।
  • শুধুমাত্র হোস্ট কোষের ভিতরে প্রজনন করে।
  • রাইবোজোম নেই; প্রোটিন সংশ্লেষণে হোস্ট ব্যবহার করে।
  • বাহ্যিক পরিবেশে স্ফটিক বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে।
  • লিটিক বা ল্যাটেন্ট জীবনচক্র অনুসরণ করে।

প্রশ্নে চারটি বিবৃতির মধ্যে যে “রাইবোজোম থাকে” বলা হয়েছে, সেটি ভাইরাসের জন্য সঠিক নয়। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা। বাকিগুলো—ডিএনএ বা আরএনএ থাকা, হোস্টের ভিতরে বংশবৃদ্ধি করা, এবং স্ফটিক দানার মতো রূপান্তরিত হওয়া—সবই ভাইরাসের বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত বৈশিষ্ট্য।

অতএব, ভাইরাসের গঠন ও জীবনচক্র বোঝার মাধ্যমে আমরা এই ভুল ধারণা পরিষ্কারভাবে দূর করতে পারি। এটি প্রমাণ করে যে ভাইরাস এক ধরণের অন্তঃকোষী পরজীবী, যা কোষের বাইরে জীবনধারণ করতে পারে না এবং কোনো প্রোটিন বা রাইবোজোম নিজে তৈরি করতে সক্ষম নয়।

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

কধুলিকণা
খবায়ুস্তর
গবৃষ্টির কণা
ঘঅতিবেগুনি রশ্মি
কমদ্য শিল্পে
খরুটি শিল্পে
গসাইট্রিক এসিড উৎপাদন
ঘএক কোষীয় প্রোটিন তৈরিতে
কদশ ভাগের একভাগ
খছয় ভাগের একভাগ
গতিন ভাগের একভাগ
ঘচার ভাগের একভাগ
কযান্ত্রিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর
খতাপশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
গবিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিকশক্তিতে রূপান্তর
ঘতাপশক্তিকে বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর
ক২৮০ m/s
খ

০

গ৩৩২ m/s
ঘ১১২০ m/s
কসবুজ আলোর আলোকিত ঘর
খসবুজ ভবনের নাম
গসবুজ গাছপালা
ঘকাচের তৈরি ঘর
কঅক্সিজেন
খক্লোরিন
গব্রোমিন
ঘহাইড্রোজেন
কফিশন
খমেসন
গফিউশন
ঘফিউশন ও মেসন