- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পিএসসি ও অন্যান্য ২০২৬
- সাধারণ জ্ঞান
মাচু পিচু কোন সভ্যতার নিদর্শন?
মাচু পিচু ইনকা সভ্যতার এক অনন্য এবং বিস্ময়কর নিদর্শন। চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার চারশ মিটার উঁচুতে এই শহরটি নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহাসিক গবেষকদের মতে ইনকা সম্রাট পাচাকুতিকের শাসনামলে এটি তৈরি করা হয়। মূলত এটি ছিল একটি রাজকীয় আবাসস্থল অথবা ধর্মীয় উপাসনার পবিত্র স্থান। ইনকাদের স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত উন্নত ছিল। তারা বিশাল আকারের পাথরগুলোকে কোনো ধরনের সিমেন্ট বা চুনকাম ছাড়াই এমনভাবে একটির ওপর অন্যটি বসাত যে পাথরগুলোর মাঝে একটি পাতলা ছুরির ফলক প্রবেশ করানোও অসম্ভব ছিল। এই বিশেষ নির্মাণ পদ্ধতিকে অ্যাশলার স্থাপত্য বলা হয়।
ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে মাচু পিচু অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। চারদিকে খাড়া পাহাড় এবং গভীর জঙ্গল থাকায় স্প্যানিশ আক্রমণকারীরা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই শহরের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। একারণেই এটি ইনকাদের হারিয়ে যাওয়া শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ১৯১১ সালে মার্কিন প্রত্নতাত্ত্বিক হিরাম বিংহ্যাম আধুনিক বিশ্বের কাছে এই বিস্ময়কর স্থানটিকে নতুন করে পরিচিত করিয়ে দেন। মাচু পিচুর প্রতিটি স্থাপনা সূর্য এবং নক্ষত্রের অবস্থানের সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে যা ইনকাদের জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক গভীর জ্ঞানের পরিচয় দেয়। বর্তমান সময়ে এটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এবং আধুনিক বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি। এই সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থা এবং জলনিষ্কাশন পদ্ধতি বর্তমান সময়ের প্রকৌশলীদের কাছেও গবেষণার একটি বড় বিষয়। পর্বতগাত্রে ধাপ কেটে চাষাবাদ করার কৌশলটি ইনকারাই প্রথম সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিল।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

