- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয়, রাজশাহী এর পোস্টম্যান পদের প্রশ্ন সমাধান ২৭.০৩.২০২৬
- পিএসসি ও অন্যান্য ২০২৬
- সাধারণ জ্ঞান
ইউরোপের ককপিট বলা হয় কোন দেশকে?
সঠিক উত্তরটি হলো বেলজিয়াম। ভূগোল এবং ইতিহাসের পাতায় বেলজিয়ামকে কেন ইউরোপের ককপিট বলা হয় সেই বিষয়টি একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত কৌতূহলী একটি অধ্যায়। ককপিট শব্দটির সাধারণ অর্থ হলো এমন একটি স্থান যেখানে যুদ্ধ বা লড়াই সংঘটিত হয়। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বেলজিয়াম এমন একটি ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত যা ইউরোপের প্রধান শক্তিগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এর একদিকে ফ্রান্স আর অন্যদিকে জার্মানি এবং গ্রেট ব্রিটেন। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে আধুনিক কাল পর্যন্ত ইউরোপের প্রায় প্রতিটি বড় মাপের যুদ্ধ এই ক্ষুদ্র দেশটির মাটিতেই সংঘটিত হয়েছে।
বিখ্যাত সেনাপতি নেপোলিয়ান বোনাপার্ট যখন তার শেষ যুদ্ধে পরাজিত হন তখন সেই ঐতিহাসিক ওয়াটারলু যুদ্ধটি বেলজিয়ামের মাটিতেই হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও বেলজিয়াম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। দেশটির সমতল ভূমি এবং যাতায়াত ব্যবস্থার সুগমতা একে বিদেশি বাহিনীর চলাচলের জন্য একটি ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত করেছিল। যখনই ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে তখনই তারা বেলজিয়ামকে তাদের রণক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে।
এই কারণেই ব্রিটিশ লেখক জেমস হাওয়েল সপ্তদশ শতাব্দীতে সর্বপ্রথম বেলজিয়ামকে এই বিশেষ নামে অভিহিত করেছিলেন। বেলজিয়াম নিজে শান্তিকামী রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বারবার যুদ্ধের শিকার হতে হয়েছে। একজন মেন্টর হিসেবে আমি বলতে চাই যে কোনো দেশের ভৌগোলিক অবস্থান সেই দেশের ইতিহাস নির্ধারণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এটি তার একটি ধ্রুপদী উদাহরণ। ইউরোপের ইতিহাস সঠিকভাবে বুঝতে হলে বেলজিয়ামের এই রণক্ষেত্র হওয়ার প্রেক্ষাপটটি মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

