- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন এর বেঞ্চ সহকারী পদের প্রশ্ন সমাধান [১৬ মে ২০২৬]
- জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ২০২৬
- সাধারণ জ্ঞান
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি কয়টি?
৪
৫
৬
৭
৪
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি ৪টি। ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানের ৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই চারটি নীতিকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এগুলো কেবল রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি নয়, বরং দেশের শাসনব্যবস্থা ও আইন প্রণয়নের মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
এই চারটি মূলনীতি নিচে সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
প্রথম নীতিটি হলো জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতির ভাষা, সংস্কৃতি এবং একক সত্তার ওপর ভিত্তি করে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা-ই জাতীয়তাবাদের মূল কথা। এই চেতনাকে ধারণ করেই ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।
দ্বিতীয় নীতিটি হলো সমাজতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করা। সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য।
তৃতীয় নীতিটি হলো গণতন্ত্র। বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম শাসনব্যবস্থা বজায় থাকবে, যেখানে রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে জনগণের হাতে। দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার, স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই এই নীতির প্রধান উদ্দেশ্য।
চতুর্থ নীতিটি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা। এর অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্র ধর্মহীন, বরং এর আসল উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো বৈষম্য বা বাধা ছাড়াই যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেন, রাষ্ট্র সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
সংবিধানের এই চারটি স্তম্ভ দেশের আইন, বিচার ও শাসন বিভাগের নীতি নির্ধারণে গাইডলাইন হিসেবে কাজ করে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এই নীতিগুলো জানা এবং বোঝা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এগুলো আমাদের রাষ্ট্রের মূল আদর্শকে প্রকাশ করে।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

