• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

পর্তুগিজরা কত সালে গোয়াতে ঘাঁটি স্থাপন করে?

ক১৫০১
খ১৬১৬
গ১৫১০
ঘ১৬২০
উত্তর :

গ.

১৫১০
Verified

পর্তুগিজরা ১৫১০ সালে ভারতের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গোয়া দখল করে সেখানে তাদের স্থায়ী ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করে। এই অভিযান পরিচালনা করেন পর্তুগিজ নৌসেনাপতি আফোঁসো দে আলবুকার্ক (Afonso de Albuquerque)। গোয়া দখলের মাধ্যমে পর্তুগিজরা ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলে এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরে তাদের প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীকালে গোয়া পর্তুগিজ ভারতের রাজধানীতে পরিণত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় উপনিবেশ বিস্তারের ইতিহাসে ১৫১০ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই প্রশ্নে উল্লিখিত "গোয়াতে ঘাঁটি স্থাপন" বলতে ১৫১০ সালকেই বোঝায়।

এখন অন্যান্য বিকল্পগুলো কেন সঠিক নয় তা দেখা যাক।

  • ১৫০১ সাল সঠিক নয়, কারণ এ সময় পর্তুগিজরা ভারত মহাসাগরে বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করছিল, কিন্তু তখনও তারা গোয়া দখল করে স্থায়ী ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
  • ১৬১৬ সাল সঠিক নয়, কারণ এই সময়ে পর্তুগিজরা বহু আগেই গোয়ায় তাদের প্রশাসনিক ও সামরিক অবস্থান সুদৃঢ় করেছিল। ১৬১৬ সালে গোয়া প্রতিষ্ঠার কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেনি।
  • ১৬২০ সাল সঠিক নয়, কারণ তখনও গোয়া পর্তুগিজ শাসনের অধীন ছিল। এটি ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার বছর নয়, বরং প্রতিষ্ঠার প্রায় এক শতাব্দী পরের সময়।

অতএব, ইতিহাস অনুযায়ী ১৫১০ সালই সঠিক উত্তর। এই সালটি ভারতীয় উপমহাদেশে পর্তুগিজ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা, ইউরোপীয় বাণিজ্যিক আধিপত্যের সূচনা এবং গোয়াকে পর্তুগিজদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যেমন বিসিএস, শিক্ষক নিবন্ধন, ব্যাংক নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এই তথ্যটি নিয়মিত জিজ্ঞাসা করা হয়।

পর্তুগিজ কারা?

পর্তুগিজরা ছিল ইউরোপের প্রথম জাতি যারা সমুদ্রপথে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছে বাণিজ্যিক ও উপনিবেশিক কার্যক্রম শুরু করে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপে মসলা, রেশম ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন সমুদ্রপথ আবিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অব গুড হোপ ঘুরে ভারতের ক্যালিকট (বর্তমান কোঝিকোড)-এ পৌঁছান। এই ঘটনাকে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক আবিষ্কার হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভারতে আগমনের পর পর্তুগিজরা প্রথমে আরব ও স্থানীয় বণিকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে তারা ভারতের পশ্চিম উপকূলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে। ১৫১০ সালে পর্তুগিজ সেনাপতি আফোঁসো দে আলবুকার্ক গোয়া দখল করেন এবং সেখানে একটি শক্তিশালী সামরিক ও বাণিজ্যিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে গোয়া পর্তুগিজ শাসনের প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং "পর্তুগিজ ভারতের" রাজধানীতে পরিণত হয়।

পর্তুগিজদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মসলা, মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, রেশম, তুলা এবং অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তারা ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে দুর্গ নির্মাণ করে এবং নৌবাহিনীর মাধ্যমে বাণিজ্যপথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ কারণে তারা আরব ব্যবসায়ী এবং পরবর্তীকালে ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে।

বাংলার সঙ্গেও পর্তুগিজদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে তারা চট্টগ্রাম, সপ্তগ্রাম, হুগলিসহ বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলে। তারা রেশম, মসলিন, লবণ, চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা করত। তবে কিছু পর্তুগিজ জলদস্যুতা, দাস ব্যবসা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় শাসকদের সঙ্গে তাদের সংঘাত সৃষ্টি হয়। ১৬৩২ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে হুগলিতে পর্তুগিজদের শক্ত ঘাঁটি দখল করা হয়, যার ফলে বাংলায় তাদের রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

পর্তুগিজদের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে খ্রিস্টধর্মের প্রচারও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়। তারা বহু গির্জা, বিদ্যালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে। বিশেষ করে গোয়ায় খ্রিস্টান ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় স্থাপত্যের বিকাশে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তারা নতুন কৃষিপণ্য ও খাদ্যদ্রব্যেরও পরিচয় করিয়ে দেয়। মরিচের বিভিন্ন জাত, কাজুবাদাম, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, তামাক ও আলুর বিস্তারে পর্তুগিজদের অবদান ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য বলে ধরা হয়।

বাংলা ভাষাতেও পর্তুগিজদের প্রভাব লক্ষ করা যায়। আলমারি, জানালা, বালতি, চাবি, সাবান, তোয়ালে, বোতাম, পাউরুটি ইত্যাদি বহু শব্দ পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এই প্রভাব আজও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান।

যদিও পরবর্তীকালে ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসিদের উত্থানের ফলে পর্তুগিজদের বাণিজ্যিক আধিপত্য কমে যায়, তবুও ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় উপনিবেশ বিস্তারের সূচনা তাদের হাত ধরেই হয়। গোয়া দীর্ঘকাল পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল এবং ১৯৬১ সালে এটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়।

সব মিলিয়ে, পর্তুগিজদের আগমন শুধু বাণিজ্যের নতুন যুগের সূচনা করেনি, বরং ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসেও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। তাই ভারতীয় ইতিহাস এবং বাংলাদেশের ইতিহাস অধ্যয়নে পর্তুগিজদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পর্তুগিজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা প্রথম কবে ভারতবর্ষে আসে?
উত্তর: ১৪৯৮ সালে।

প্রশ্ন: ভারতবর্ষে প্রথম আগত পর্তুগিজ নাবিক কে ছিলেন?
উত্তর: ভাস্কো দা গামা।

প্রশ্ন: ভাস্কো দা গামা ভারতের কোন বন্দরে পৌঁছান?
উত্তর: ক্যালিকট (বর্তমান কোঝিকোড)।

প্রশ্ন: ভাস্কো দা গামা কোন সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ভারতে আসেন?
উত্তর: কেপ অব গুড হোপ ঘুরে সমুদ্রপথে।

প্রশ্ন: ভারতবর্ষে প্রথম ইউরোপীয় বণিক কারা ছিল?
উত্তর: পর্তুগিজরা।

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা কত সালে গোয়া দখল করে?
উত্তর: ১৫১০ সালে।

প্রশ্ন: গোয়া দখলের নেতৃত্ব কে দেন?
উত্তর: আফোঁসো দে আলবুকার্ক।

প্রশ্ন: পর্তুগিজ ভারতের রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তর: গোয়া।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: মসলা ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা কোন মহাসাগরের বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিল?
উত্তর: ভারত মহাসাগর।

প্রশ্ন: বাংলায় পর্তুগিজদের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর একটি কোনটি ছিল?
উত্তর: হুগলি।

প্রশ্ন: বাংলায় পর্তুগিজদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কোনটি ছিল?
উত্তর: চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: বাংলায় পর্তুগিজরা প্রধানত কী ব্যবসা করত?
উত্তর: মসলিন, রেশম, লবণ, চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা।

প্রশ্ন: কোন মুঘল সম্রাট হুগলি থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করেন?
উত্তর: শাহজাহান।

প্রশ্ন: হুগলিতে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয় কত সালে?
উত্তর: ১৬৩২ সালে।

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা ভারতে কোন ধর্মের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
উত্তর: খ্রিস্টধর্ম।

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা ভারতে কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করে?
উত্তর: দুর্গ, গির্জা ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের পর ভারতবর্ষে কোন ইউরোপীয় শক্তির আগমন ঘটে?
উত্তর: ডাচরা।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারা ছিল?
উত্তর: আরব, ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসি বণিকরা।

প্রশ্ন: গোয়া কত বছর পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল?
উত্তর: প্রায় ৪৫১ বছর (১৫১০-১৯৬১)।

প্রশ্ন: গোয়া ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয় কত সালে?
উত্তর: ১৯৬১ সালে।

প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় "আলমারি" শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
উত্তর: পর্তুগিজ ভাষা থেকে।

প্রশ্ন: "জানালা" শব্দটির উৎস কোন ভাষা?
উত্তর: পর্তুগিজ।

প্রশ্ন: "বালতি" শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে?
উত্তর: পর্তুগিজ।

প্রশ্ন: "চাবি" শব্দটির উৎস কোন ভাষা?
উত্তর: পর্তুগিজ।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে পরিচিত একটি ফলের নাম কী?
উত্তর: পেয়ারা।

প্রশ্ন: কাজুবাদাম ভারতীয় উপমহাদেশে কারা জনপ্রিয় করে?
উত্তর: পর্তুগিজরা।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের মাধ্যমে প্রচলিত একটি খাদ্যপণ্য কী?
উত্তর: পাউরুটি।

প্রশ্ন: ভারতবর্ষে ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা কারা করে?
উত্তর: পর্তুগিজরা।

প্রশ্ন: ইতিহাসে পর্তুগিজদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান কী?
উত্তর: সমুদ্রপথে ভারতবর্ষে পৌঁছে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় উপনিবেশ বিস্তারের সূচনা।

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

কভাস্কো-দা-গামা
খআলমিডা
গকলম্বাস
ঘবার্থলোমিউ দিয়াজ
কঔপনিবেশিক শাসন
খপ্রত্যক্ষ শাসন
গদ্বৈতশাসন
ঘপরোক্ষ শাসন
কআমেনা বেগম
খঘসেটি বেগম
গমোমেনা বেগম
ঘমায়মুনা বেগম
কমুর্শিদকুলী খান
খসিরাজউদ্দৌলা
গআলীবর্দী খান
ঘজয়নুদ্দিন খাঁ