• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমন : ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

পর্তুগিজরা বিদেশে যেত যে প্রধান উদ্দেশ্যে-

কশিক্ষা অর্জন
খব্যবসায় বাণিজ্য
গযুদ্ধবিগ্রহ
ঘদস্যুবৃত্তি
উত্তর :

খ.

ব্যবসায় বাণিজ্য
Verified

পর্তুগিজদের বিদেশে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়-বাণিজ্য সম্প্রসারণ। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপে মসলা, রেশম, সুগন্ধি দ্রব্য ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। স্থলপথে বাণিজ্য ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পর্তুগিজরা নতুন সমুদ্রপথ আবিষ্কারে মনোযোগ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামা সমুদ্রপথে ভারতে পৌঁছান। এরপর পর্তুগিজরা ভারত, আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যকেন্দ্র ও দুর্গ স্থাপন করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল মসলা, মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, রেশম এবং অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে লাভবান হওয়া। যদিও পরবর্তীকালে তারা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও উপনিবেশ স্থাপনেও জড়িয়ে পড়ে, তবুও বিদেশে যাত্রার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্য।

এখন অন্যান্য বিকল্পগুলো কেন সঠিক নয় তা দেখা যাক।

  • শিক্ষা অর্জন সঠিক নয়, কারণ পর্তুগিজদের সমুদ্রযাত্রার উদ্দেশ্য শিক্ষা গ্রহণ ছিল না। তাদের অভিযান ছিল মূলত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থকেন্দ্রিক।

  • যুদ্ধবিগ্রহ সঠিক নয়, কারণ যুদ্ধ ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য নয়। বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা এবং আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে তারা যুদ্ধ করলেও বিদেশে যাওয়ার মূল কারণ ছিল ব্যবসা।

  • দস্যুবৃত্তি সঠিক নয়, কারণ পর্তুগিজ রাষ্ট্রের অনুমোদিত অভিযানের লক্ষ্য ছিল বৈধ বাণিজ্য। যদিও কিছু পর্তুগিজ ব্যক্তি জলদস্যুতা ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছিল, তা রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল না।

অতএব, ইতিহাসের আলোকে বলা যায় যে পর্তুগিজদের বিদেশে যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং লাভজনক বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যেমন বিসিএস, শিক্ষক নিবন্ধন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, ব্যাংক নিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এ ধরনের প্রশ্ন নিয়মিত আসে।

পর্তুগিজ কারা?

পর্তুগিজরা ছিল ইউরোপের প্রথম জাতি যারা সমুদ্রপথে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছে বাণিজ্যিক ও উপনিবেশিক কার্যক্রম শুরু করে। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপে মসলা, রেশম ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন সমুদ্রপথ আবিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের কেপ অব গুড হোপ ঘুরে ভারতের ক্যালিকট (বর্তমান কোঝিকোড)-এ পৌঁছান। এই ঘটনাকে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক আবিষ্কার হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভারতে আগমনের পর পর্তুগিজরা প্রথমে আরব ও স্থানীয় বণিকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাণিজ্য সম্প্রসারণের চেষ্টা করে। ধীরে ধীরে তারা ভারতের পশ্চিম উপকূলে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে। ১৫১০ সালে পর্তুগিজ সেনাপতি আফোঁসো দে আলবুকার্ক গোয়া দখল করেন এবং সেখানে একটি শক্তিশালী সামরিক ও বাণিজ্যিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে গোয়া পর্তুগিজ শাসনের প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং "পর্তুগিজ ভারতের" রাজধানীতে পরিণত হয়।

পর্তুগিজদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মসলা, মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, রেশম, তুলা এবং অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তারা ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে দুর্গ নির্মাণ করে এবং নৌবাহিনীর মাধ্যমে বাণিজ্যপথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ কারণে তারা আরব ব্যবসায়ী এবং পরবর্তীকালে ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসিদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে।

বাংলার সঙ্গেও পর্তুগিজদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। ষোড়শ শতাব্দীতে তারা চট্টগ্রাম, সপ্তগ্রাম, হুগলিসহ বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলে। তারা রেশম, মসলিন, লবণ, চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা করত। তবে কিছু পর্তুগিজ জলদস্যুতা, দাস ব্যবসা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় শাসকদের সঙ্গে তাদের সংঘাত সৃষ্টি হয়। ১৬৩২ সালে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে হুগলিতে পর্তুগিজদের শক্ত ঘাঁটি দখল করা হয়, যার ফলে বাংলায় তাদের রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

পর্তুগিজদের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে খ্রিস্টধর্মের প্রচারও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়। তারা বহু গির্জা, বিদ্যালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে। বিশেষ করে গোয়ায় খ্রিস্টান ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় স্থাপত্যের বিকাশে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া তারা নতুন কৃষিপণ্য ও খাদ্যদ্রব্যেরও পরিচয় করিয়ে দেয়। মরিচের বিভিন্ন জাত, কাজুবাদাম, আনারস, পেঁপে, পেয়ারা, তামাক ও আলুর বিস্তারে পর্তুগিজদের অবদান ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য বলে ধরা হয়।

বাংলা ভাষাতেও পর্তুগিজদের প্রভাব লক্ষ করা যায়। আলমারি, জানালা, বালতি, চাবি, সাবান, তোয়ালে, বোতাম, পাউরুটি ইত্যাদি বহু শব্দ পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের এই প্রভাব আজও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান।

যদিও পরবর্তীকালে ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসিদের উত্থানের ফলে পর্তুগিজদের বাণিজ্যিক আধিপত্য কমে যায়, তবুও ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় উপনিবেশ বিস্তারের সূচনা তাদের হাত ধরেই হয়। গোয়া দীর্ঘকাল পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল এবং ১৯৬১ সালে এটি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়।

সব মিলিয়ে, পর্তুগিজদের আগমন শুধু বাণিজ্যের নতুন যুগের সূচনা করেনি, বরং ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসেও স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছে। তাই ভারতীয় ইতিহাস এবং বাংলাদেশের ইতিহাস অধ্যয়নে পর্তুগিজদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পর্তুগিজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা প্রথম কবে ভারতবর্ষে আসে?
উত্তর: ১৪৯৮ সালে।

প্রশ্ন: ভারতবর্ষে প্রথম আগত পর্তুগিজ নাবিক কে ছিলেন?
উত্তর: ভাস্কো দা গামা।

প্রশ্ন: ভাস্কো দা গামা ভারতের কোন বন্দরে পৌঁছান?
উত্তর: ক্যালিকট (বর্তমান কোঝিকোড)।

প্রশ্ন: ভাস্কো দা গামা কোন সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ভারতে আসেন?
উত্তর: কেপ অব গুড হোপ ঘুরে সমুদ্রপথে।

প্রশ্ন: ভারতবর্ষে প্রথম ইউরোপীয় বণিক কারা ছিল?
উত্তর: পর্তুগিজরা।

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা কত সালে গোয়া দখল করে?
উত্তর: ১৫১০ সালে।

প্রশ্ন: গোয়া দখলের নেতৃত্ব কে দেন?
উত্তর: আফোঁসো দে আলবুকার্ক।

প্রশ্ন: পর্তুগিজ ভারতের রাজধানী কোথায় ছিল?
উত্তর: গোয়া।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: মসলা ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা কোন মহাসাগরের বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিল?
উত্তর: ভারত মহাসাগর।

প্রশ্ন: বাংলায় পর্তুগিজদের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোর একটি কোনটি ছিল?
উত্তর: হুগলি।

প্রশ্ন: বাংলায় পর্তুগিজদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কোনটি ছিল?
উত্তর: চট্টগ্রাম।

প্রশ্ন: বাংলায় পর্তুগিজরা প্রধানত কী ব্যবসা করত?
উত্তর: মসলিন, রেশম, লবণ, চিনি ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসা।

প্রশ্ন: কোন মুঘল সম্রাট হুগলি থেকে পর্তুগিজদের বিতাড়িত করেন?
উত্তর: শাহজাহান।

প্রশ্ন: হুগলিতে পর্তুগিজদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয় কত সালে?
উত্তর: ১৬৩২ সালে।

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা ভারতে কোন ধর্মের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে?
উত্তর: খ্রিস্টধর্ম।

প্রশ্ন: পর্তুগিজরা ভারতে কী ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করে?
উত্তর: দুর্গ, গির্জা ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের পর ভারতবর্ষে কোন ইউরোপীয় শক্তির আগমন ঘটে?
উত্তর: ডাচরা।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারা ছিল?
উত্তর: আরব, ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসি বণিকরা।

প্রশ্ন: গোয়া কত বছর পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল?
উত্তর: প্রায় ৪৫১ বছর (১৫১০-১৯৬১)।

প্রশ্ন: গোয়া ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয় কত সালে?
উত্তর: ১৯৬১ সালে।

প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় "আলমারি" শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
উত্তর: পর্তুগিজ ভাষা থেকে।

প্রশ্ন: "জানালা" শব্দটির উৎস কোন ভাষা?
উত্তর: পর্তুগিজ।

প্রশ্ন: "বালতি" শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে?
উত্তর: পর্তুগিজ।

প্রশ্ন: "চাবি" শব্দটির উৎস কোন ভাষা?
উত্তর: পর্তুগিজ।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে পরিচিত একটি ফলের নাম কী?
উত্তর: পেয়ারা।

প্রশ্ন: কাজুবাদাম ভারতীয় উপমহাদেশে কারা জনপ্রিয় করে?
উত্তর: পর্তুগিজরা।

প্রশ্ন: পর্তুগিজদের মাধ্যমে প্রচলিত একটি খাদ্যপণ্য কী?
উত্তর: পাউরুটি।

প্রশ্ন: ভারতবর্ষে ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের সূচনা কারা করে?
উত্তর: পর্তুগিজরা।

প্রশ্ন: ইতিহাসে পর্তুগিজদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান কী?
উত্তর: সমুদ্রপথে ভারতবর্ষে পৌঁছে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় উপনিবেশ বিস্তারের সূচনা।

মন্তব্য ও আলোচনা (০)

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

কভাস্কো-দা-গামা
খআলমিডা
গকলম্বাস
ঘবার্থলোমিউ দিয়াজ
কঔপনিবেশিক শাসন
খপ্রত্যক্ষ শাসন
গদ্বৈতশাসন
ঘপরোক্ষ শাসন
কআমেনা বেগম
খঘসেটি বেগম
গমোমেনা বেগম
ঘমায়মুনা বেগম
কমুর্শিদকুলী খান
খসিরাজউদ্দৌলা
গআলীবর্দী খান
ঘজয়নুদ্দিন খাঁ