• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ৩২৬-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ)
প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ৩২৬-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রামনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন বড়ুয়া তার এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। তার এলাকার বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুবিধার বিষয়ে তিনি মনোযোগী হন। তিনি তার পৌরসভায় শান্তিশৃঙ্খলা স্থাপনেও সমর্থ হন। ফলে তিনি দীর্ঘদিন পৌরশাসন করার সুযোগ লাভ করেন।

'সৌমেন বড়ুয়ার দীর্ঘদিন পৌরশাসন করার পিছনে কাজ করেছে ধর্মপালের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা'- উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

উদ্দীপকে আলোচিত সৌমেন বড়ুয়ার দীর্ঘদিন পৌরশাসন করার পেছনে পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপালের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা কাজ করেছে।

রাজা ধর্মপাল শিক্ষাক্ষেত্রে যেমনি পৃষ্ঠপোষকতার পরিচয় দিয়েছিলেন তেমনি তিনি সকল ধর্মাবলম্বীদের পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন। নিজ ধর্ম বৌদ্ধ হলেও অন্যান্য ধর্মের প্রতি তার কোনো বিদ্বেষ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ব্যক্তিগত ধর্মের সাথে রাজ্য শাসনের কোনো - সম্পর্ক নেই। তাই তিনি শাস্ত্রের নিয়ম মেনে চলতেন এবং প্রত্যেক ধর্মের লোক যাতে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে তার প্রতি খেয়াল রাখতেন। নারায়ণের একটি হিন্দু মন্দিরের জন্য তিনি করমুক্ত ভূমি দান করেছিলেন। তিনি যাদেরকে ভূমি দান করেছিলেন তাদের - সবাই ছিল ব্রাহ্মণ। ধর্মপালের প্রধানমন্ত্রী গর্গ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ। - ফলে ধর্মপালের ধর্মনিরপেক্ষতা, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দ্বারা জনসমর্থন লাভ করলে তিনি দীর্ঘদিন শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকতে সক্ষম হন।

অতএব বলা যায়, রামনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন বড়ুয়ার কার্যকলাপে পুরাপুরি ধর্মপালের আদর্শ ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ তিনি ধর্মপালের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা উজ্জীবিত হয়েছিলেন। ফলে তিনি - দীর্ঘদিন পৌরশাসন করার সুযোগ পান।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?

পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।

#

'মাৎস্যন্যায়' বলতে কী বোঝায়?

সাধারণ অর্থে পুকুরে বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলে 'মাৎস্যন্যায়'। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'মাৎসান্যায়' বলতে একটি বিশেষ সময়কালকে বোঝায়। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে এ দুর্যোগপূর্ণ - অন্ধকারময় যুগের সূচনা হয়। এসময় দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। এ অরাজকতার সময়কালকে পাল তাম্রশাসনে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে।

#

আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রামনগর পৌরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে ধর্মপালের কোন কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে উল্লিখিত রামনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন বড়ুয়া আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন যেখানে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হয়। সৌমেন বড়ুয়ার এ কাজটি পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপালের 'বিক্রমশীল বিহার' - নির্মাণের মিল রয়েছে। এ বিহারটি ভারতবর্ষ ও ভারতবর্ষের বাইরের - শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।

রামনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন বড়ুয়া আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের সুযোগ করে দেন। তেমনি পাল রাজা ধর্মপালও বিক্রমশীল বিহার নির্মাণ করলে সমগ্র ভারতবর্ষের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। নবম দশক থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত এটি সমগ্র - ভারতবর্ষের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তিব্বতের বহু বৌদ্ধ ভিক্ষু এখানে অধ্যয়ন করতে আসেন এবং এখানকার অনেক প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ আচার্য তিব্বতে বিশুদ্ধ বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেছিলেন।