• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ)
মধ্যযুগের বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (১২০৪-১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দ)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

টেলিভিশনে প্রাচীন রোমান যোদ্ধাদের যুদ্ধের ছবি দেখছিল সোহেল। সে দেখল যুদ্ধের কৌশল হিসেবে একটি দলের সেনাপতি তার যোদ্ধাদের বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত করে আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। সেনাপতি এ সকল যোদ্ধাদের জঙ্গলপথে অতি সঙ্গোপনে নিজেদের আড়াল করে বিপক্ষ দলের প্রাসাদে আক্রমণ চালিয়ে প্রাসাদ দখল করে নেয়।

তুমি কি মনে কর উক্ত ব্যক্তি প্রথম জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ভাগ্য ও কর্মশক্তির সংমিশ্রণ তাকে সফলতা এনে দেয়? যুক্তি দাও।

হ্যাঁ, মনে করি যে, উক্ত ব্যক্তি অর্থাৎ বখতিয়ার খলজি প্রথম জীবন ব্যর্থ হলেও ভাগ্য ও কর্মণন্তির সংমিশ্রণ তাকে সফলতা এনে দেয়।

বখতিয়ার খলজি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনীতে এসে শিহাবউদ্দিন ঘোরীর সৈন্য বিভাগে চাকরি প্রার্থী হয়ে শারীরিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ব্যর্থ হন। গজনীতে ব্যর্থ হয়ে বখতিয়ার দিল্লিতে সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের দরবারে গেলেও সেখান থেকেও তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। এরপর বদাউনের শাসনকর্তার হিজবর উদ্দিনের কাছে গেলে তিনি মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। কিন্তু উচ্চবিলাসী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনভোগী সৈনিকের পদে সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যা যান। সেখানকার শাসনকর্তা হুসামউদ্দিনের অধীনে তিনি পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। বখতিয়ারের সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে হুসামউদ্দিন তাকে বর্তমান মির্জাপুর জেলার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ভগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গির দান করেন। এখানে বখতিয়ার খলজি তার ভবিষ্যৎ উন্নতির উৎস খুঁজে পান। তিনি অল্প সংখ্যক সৈন্য সংগ্রহ করে, পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র হিন্দু রাজ্য আক্রমণ ও লুণ্ঠন করতে শুরু করেন। এসময়ে তার বীরত্বের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অনেক ভাগ্যান্বেষী মুসলমান তার সৈনা দলে যোগদান করে। ফলে বখতিয়ারের সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তিনি একদিন তার সৈন্যদের নিয়ে ওদন্দ দুর্গ আক্রমণ করে জয় করেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে তিনি নদীয়া, গৌড় ও বরেন্দ্র জয় করে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজি প্রথম জীবনে ব্যর্থ হলেও ভাগ্য ও কর্মশক্তির সংমিশ্রণ তাকে সফলতা এনে দেয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

রাজা গণেশ দিনাজপুরের কোন অঞ্চলের রাজা ছিলেন?

রাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুরিয়া অঞ্চলের রাজা ছিলেন।

#

ইলিয়াস শাহকে ইতিহাসে প্রথম বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা বলা হয় কেন?

ইলিয়াস শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন। তিনি ফকির দরবেশদের খুব শ্রদ্ধা করতেন। পীর সিরাজুদ্দিন, শেখ বিয়াবানী ও আলাওল হক তার দরবার অলংকৃত করেছিলেন। ইলিয়াস শাহ লখনৌতির শাসক হিসেবে বঙ্গ অধিকার করলেও তিনি দুই ভূখন্ডকে একত্রিত করে বৃহত্তর বাংলার সৃষ্টি করেছিলেন। এসময় হতেই বাংলার সকল অণ্যলের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়। ইলিয়াস শাহ 'শাহ-ই বাঙলা' ও 'শাহ-ই বাঙালি' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। তাই ইলিয়াস শাহকে ইতিহাসে প্রথম বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবস্তা বলা হয়।

#

উদ্দীপকে বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের কোন ব্যক্তির কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খলজির নদিয়া জয়ের কৌশলের প্রতিফলন ঘটেছে।

নদিয়া প্রবেশের পথ তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় যখন সুরক্ষিত ছিল বখতিয়ার খলজি তখন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তার সৈন্যদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে জঙ্গলপথে নদিয়া প্রবেশ করে। লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া জয় করে নেয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত সোহেল টেলিভিশনে রোমান যোদ্ধাদের ঠিক তেমনি একটি কৌশল দেখতে পায়। যে কৌশলের মাধ্যমে রোমান সেনাপতি তার সৈন্য বাহিনীকে বিভিন্ন উপদলে ভাগ করে নিজেদের আড়াল করে আক্রমণ করে প্রাসাদ দখল করে নেয়।

অতএব সোহেল টেলিভিশনে যে রোমান সেনাপতির কাহিনি দেখেছিল, তা ছিল বখতিয়ার খলজির অনুকরণ।