• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস
মধ্যযুগের বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রেজা সাহেব চট্টগ্রামের একজন বড় ব্যবসায়ী। তার আমদানি-রপ্তানির ব্যবসায়। তিনি জাহাজের মাধ্যমেই বিদেশ থেকে সোনা, রূপা, দামি পাথরের গয়না, রেশমি সুতা, বিভিন্ন দামি মসলা আমদানি করেন। পাশাপাশি তিনি চা ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করেন। গত সপ্তাহে তিনি তার মেয়ের জন্মদিনে পোলাও, কাবাব, রেজালা ও মিষ্টির আয়োজন করেন। সবাই খাবার খেয়ে খুবই খুশি।

রেজা সাহেবের বাড়ির খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে কোন আমলের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে আলোচিত রেজা সাহেবের বাড়ির খাওয়া-দাওয়ার সাথে মধ্যযুগের সুলতানি ও মুঘল শাসনামলের খাওয়া-দাওয়ার মিল রয়েছে। মধ্যযুগের সুলতানি ও মুঘল আমলের খাবার ঐতিহ্যবাহী ও মুখরোচক। মধ্যযুগের লোকেরা ভোজনবিলাসী ছিলেন। তাদের খাবারের তালিকায় বিভিন্ন মাছ-মাংসের সঙ্গে আচারের নামও পাওয়া যায়। এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা আর ঘিয়ে রান্না করা যাবতীয় মুখরোচক খাবার জায়গা করে নেয়। মধ্যযুগের মুসলমানেরা বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবারের ব্যবস্থা করতেন। এছাড়া ভাত, মাছ, শাকসবজি বাঙালি মুসলমানদের প্রতিদিনের খাদ্য ছিল। খাদ্য হিসেবে রুটির কথাও জানা যায়। খিচুরি তখনকার সমাজে একটি প্রিয় খাদ্য ছিল। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, রেজা সাহেব গত সপ্তাহে তার মেয়ের জন্মদিনে পোলাও, কাবাব, রেজালা ও মিিিষ্টর আয়োজন করেন। আর এ খাবারগুলোর সাথে বাংলা সুলতানি আমলের খাবারের মিল বিদ্যমান।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন কে?

সুলতান হুসেন শাহ ও নাসিরউদ্দিন নুসরত শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় কবিন্দ্র পরমেশ্বর 'মহাভারত' বাংলায় অনুবাদ করেন।

#

কৃষিকে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল উৎস বলা হয় কেন?

প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা কৃষিপ্রধান নদীমাতৃক দেশ। এখানকার কৃষিভূমি অস্বাভাবিক উর্বর। এখানকার উৎপন্ন ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ধান, গম, তুলা, ইক্ষু, পাট, আদা, তেল, সিম, ডাল ইত্যাদি। কৃষিজাত দ্রব্যের মধ্যে পিয়াজ, রসুন, হলুদ, শসা প্রভৃতি ছিল উল্লেখযোগ্য। আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেঁপে, পেয়ারা, বরই ইত্যাদি ফলসমূহও উৎপন্ন হতো প্রচুর পরিমাণে। এছাড়াও পান, সুপারি ও নারিকেল উৎপন্ন হতো। তাই বলা হয়, কৃষিই বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল উৎস।

#

রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা উক্ত আমলের চেয়ে কি সমৃদ্ধ ছিল বলে তুমি মনে কর? যুক্তি দাও।

উদ্দীপকে আলোচিত রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা মধ্যযুগের অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে সমৃদ্ধ ছিল একথা বলা যায় না বরং মধ্যযুগের সুলতানি ও মুঘল শাসনামলের অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলা চলে।

মধ্যযুগের বাংলার সুলতানি ও মুঘল শাসনামলে কৃষিপণ্যের প্রাচুর্য এবং বিদেশে এগুলোর ব্যাপক চাহিদার ফলে বিদেশের সাথে বাংলার বাণিজ্যিক তৎপরতা অভূতপূর্ব প্রসার লাভ করেছিল। বাংলার রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সুতি কাপড়, মসলিন, রেশমি বস্ত্র, চাল, চিনি, গুড়, আদা, লঙ ইত্যাদি। কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে চাল, তামাক, সুপারি, পাট, ফল ইত্যাদির রপ্তানি হতো। বিবিধ প্রকার মসলা, ওষুধ ইত্যাদি ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে এবং বিভিন্ন দেশে প্রেরিত হতে'।

এমনকি ব্যবসায় বাণিজ্যের সিংহভাগই ছিল রপ্তানিমূলক। খুব অদ পরিমাণ দ্রব্য আমদানি করা হতো। বাংলার কাপড়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঁচামাল হিসেবে তুলা আমদানি করা হতো। মুসলমান শাসনের সময় বাংলায় বেশকিছু সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দর গড়ে উঠেছিল। চট্টগ্রাম ছিল তখনকার বিখ্যাত বন্দর। ব্যবসায় 'বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে দ্রব্য ও টাকাপয়সার লেনদেন এবং হিসাব-নিকাশ বৃদ্ধি পায়। এমনকি ব্যাংকিং প্রথারও বিকাশ এ সময়ে ঘটে।

অতএব উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা মধ্যযুগের সুলতানি ও মুঘল শাসনামলের অর্থনৈতিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।