- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূচনাপর্ব
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বেশ কিছুদিন ধরে পলাশপুর চা বাগানের বার্ষিক আয় ওঠা-নামা করছিল। এজন্য বাগান কর্তৃপক্ষ বাগানের আয় নির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে উৎপাদন ব্যবস্থা কয়েক বছরের জন্য কতিপয় ব্যক্তির নিকট বরাদ্দ দেন। এ ব্যবস্থায় নতুন ইজারাদাররা বেশি মুনাফা লাভের আশায় চা শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করাতে বাধ্য করে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ছাড়াই। এ ব্যবস্থার ফলে চা বাগান ও চা শ্রমিকদের। অবস্থার উন্নয়নের প্রতি কোনো দৃষ্টি ছিল না ইজারাদারদের। বাগান কর্তৃপক্ষ এ দুরবস্থার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে এবং বাগানের আয় সুনির্দিষ্ট করতে ইজারাদারদের সাথে স্থায়িভাবে বরাদ্দ সম্পাদন করে।
'অন্ধকূপ হত্যা' বলতে কী বোঝায়?
'অন্ধকূপ হত্যা' হচ্ছে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয় করতে হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি মিথ্যা প্রচারণা। এতে বলা হয় ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪.১০ ফুট প্রস্থ একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। যাঁর ফলে প্রচন্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয় ১২৩ জন ইংরেজ সেনার মৃত্যু হয়। এটি ছিল ইংরেজ সেনা হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা গুজব। এর কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা নেই।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কোন নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল?
ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
উদ্দীপকের নতুন ব্যবস্থার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের নতুন ব্যবস্থার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা প্রবর্তনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে আলোচিত ইজারাদাররা বেশি মুনাফা লাভের আশায় চা শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ছাড়াই। কিন্তু শ্রমিকদের উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো দৃষ্টি ছিল না।
তদ্রুপ তৎকালীন জমিদাররা কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে নানা ধরনের নির্যাতন করত। অথচ কৃষকদের উন্নয়নে বা-জমির উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনো লক্ষ ছিল না। ফলে নির্যাতনের ভয়ে অনেক কৃষক জমি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ইংল্যান্ডের পার্লামেন্ট কৃষকদের এ অবস্থা লক্ষ করে নতুন ব্যবস্থা উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে কর্নওয়ালিসকে অনুমতি 'দিয়ে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। তবে এর সঙ্গে এ প্রতিশ্রুতিও তিনি দেন যে, কোম্পানির ডাইরেক্টর সভার অনুমোদন পেলে দশসালা বন্দোবস্তুই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত হবে। পরবর্তীতে ১৭৯২ খ্রি. সেপ্টেম্বর মাসে বোর্ড অব ডাইরেক্টরস কর্তৃক অনুমোদন লাভ করে।
১৭৯৩ খ্রি. ২২ মার্চ কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী বলে ঘোষণা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নতুন ব্যবস্থার সাথে পাঠ্যবইয়ের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মিল রয়েছে।
তুমি কি মনে কর উক্ত বন্দোবস্ত অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল? যুক্তি দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত বন্দোবস্ত অর্থাৎ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তৎকালীন সময়ে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা - পালন করেছিল।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কিছু অসুবিধা থাকলেও তা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল। ব্রিটিশ সরকার মনে করত যে, ভূমি ব্যবস্থা স্থায়িত্ব হলে জমিদারগণ ভূমিতে পুঁজি বিনিয়োগ করবে এবং উন্নয়নে তৎপর হবে। ফলে কৃষিতে যেমন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে তেমনি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধিশালী হবে। এতে জমিদারগণ সুবিধা ভোগ করবে। বিনিময়ে তারা সরকারের প্রতি অনুগত থাকবে। অনুগত জমিদারগণ হবে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ভিত্তি। আমরা জানি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জমিদারদের অবস্থার উন্নতি হলেও প্রজাদের অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
জমিদাররা তাদের ইচ্ছামতো খাজনা বাড়াত। জমিদারদের নায়েব-গোমস্তা এবং পাইক-পেয়াদারা প্রজাদের ওপর নানা প্রকার অত্যাচার উৎপীড়ন করত। জমিতে প্রজাদের কোনো অধিকার না থাকায় প্রজারা কৃষি উন্নয়নের জন্য বিশেষ চেষ্টা করেনি। এ ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি জমিদারদের হাতে বন্দি হয়। ফলে, এ ভূখণ্ডের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে ধাবিত হয়। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের সাথে না হয়ে কৃষকদের সাথে হলে কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি হতো এবং এদেশের অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসত। প্রতিষ্ঠিত হতো একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিশালী দেশ।
তাই বলা যায় কিছু অসুবিধা থাকলেও চিরস্থায়ী বন্দেবস্ত অর্থনৈতিক শঙ্ঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক ভমিকা পালন করেছিল।

