- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সবুজনগর অঞ্চলের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী দলের নেতাকে মোকাবেলা ও পরাজিত করার জন্য ছোট ছোট দল একতাবদ্ধ হয়। তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে। জনগণ উক্ত জোটের ওপর সার্বিক আস্থা রেখে তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। এর অবশ্যম্ভাবী ফল হিসেবে। নির্বাচনে জোটের নেতৃবৃন্দ বিপুল ভোটে জয়ী হন এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতা চরমভাবে পরাজিত হন।
'ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না'। পাঠ্যপুস্তকে পঠিত অভিজ্ঞতার আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
'ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না' এ উক্তিটি পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে আলোচিত ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই যে, জনসমর্থন আদায় করা যায় না, তার একটি উত্তম নিদর্শন ১৯৫৪ সালের নির্বাচন। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে জনগণের ওপর দমন ও নিপীড়ন চালাতে থাকে। যাতে মুসলিম লীগের জনসমর্থন হ্রাস পায়। পক্ষান্তরে, অন্যান্য দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া, তাদের জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড এবং নির্বাচনি ইশতেহার ২১ দফার মধ্যে জনগণের স্বার্থ নিহিত ছিল। ফলে যুক্তফ্রন্ট জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। যার প্রমাণ মেলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্টের ২২৩টি আসন লাভের মধ্য দিয়ে। পক্ষান্তরে, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী দল মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে জনসমর্থন আদায়ে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।
উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া, যায় না। বরং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য দরকার জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের দ্বারা জনগণের আস্থা অর্জন করা।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি কে ছিলেন?
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
'আওয়ামী মুসলিম লীগ' গড়ে তোলা হয় কেন?
তৎকালীন সময়ে মুসলিম লীগের এক অংশ দেশ শাসনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে জনগণ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। অন্যদিকে, মুসলিম লীগের বঞ্চিত নেতাদের প্রতি জনসমর্থন বাড়তে থাকে। ফলে জাতীয় নেতৃবৃন্দদের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী মুসলিম লীগের প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকেন এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। ফলে তারা ১৯৪৯ সালের জুন মাসে মওলানা ভাসানীকে সভাপতি করে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন।
সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো স্বাধীনতা-পূর্ব কোন নির্বাচন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো স্বাধীনতা-পূর্ব ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি কৌশল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়। যা ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ঘটনাকে নির্দেশ করে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল। এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ। ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি, খিলাফত-ই-রাব্বানি এবং হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল। আওয়ামী মুসলিম লীগের নির্বাচনি কর্মসূচির ৪২ দফার প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। জনগণ যুক্তফ্রন্টের ওপর সার্বিক আস্থা রেখে তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
ফলে যুক্তফ্রন্ট মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে বিজয়ী হয়। আলোচনা শেষে বলা যায়, সবুজনগর অঞ্চলের নির্বাচনের ঘটনার মধ্য দিয়ে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনি ঘটনা পুরাপুরি ফুটে উঠেছে।

