• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন
ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সুলতানপুর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল। সেখানে এখনো নানা ধরনের সামাজিক কুসংস্কার বিরাজমান। এ গ্রামের মেয়েদের বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ জামিলা বেগম মেয়েদের পড়ালেখা করতে বাধা দেন। মেয়েদের বাড়ির বাইরে বের হওয়াকে তিনি ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপন্থি এবং গর্হিত কাজ মনে করতেন।

উদ্দীপকে জামিলা বেগমের চরিত্রের বিপরীত চিত্র পাঠ্যপুস্তকে পঠিত কোন মহীয়সীর জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে উল্লিখিত জামিলা বেগমের চরিত্রের বিপরীত চিত্র। পাঠ্যপুস্তকে পঠিত বেগম রোকেয়ার জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের জমিলা বেগম ছিল তৎকালীন আমলের সামাজিক কুসংস্কারে আচ্ছন্ন এক নারী। তাদের সময় ঘরের মেয়েদের বাইরে যেতে দেওয়া হতো না। অন্য কোনো ছেলেদের সাথে কথা বলা ছিল ঘৃণিত অপরাধ। সবসময় পর্দার আড়লে তাদের জীবনযাপন করত হতো। যদি বিশেষ কারণে বাইরে যেতে হতো তাহলে বোরকা বা পর্দা করে বাইরে যেতে হতো। তখনকার সময় ঘরের মেয়েদের পড়াশোনা করতে দেওয়া হতো না। এমনকি কোনো চাকরির তারা করতে পারত না। যে কারণে পুরুষের তুলনায় মেয়েরা ছিল অনেক পিছিয়ে। আর তাই জমিলা বেগমও মেয়েদের বাড়ির বাইরে বের হওয়াকে ধর্মীয় অনুশাসনের পরিপন্থি হিসেবে মনে করেছেন। কিন্তু বেগম রোকেয়ার ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই, তিনি ছিলেন নারীজাগরণের অগ্রদূত। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের কথা ভেবে তিনি তার বিভিন্ন বইয়ে আঙুল দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন নারীদের করুণ দশা, তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নমুনা। তার 'অবরোধবাসিনী'; 'পদ্মরাগ'; 'মতিচুর'; 'সুলতানার স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে সে চিত্র ফুটে উঠেছে। তাছাড়া নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য তিনি বিভিন্ন গার্লস স্কুল ও মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বোপরি এ মহীয়সী মহিলা আজীবন নারী সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করে গেছেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'The Spirit of Islam' বইটির লেখক কে?

`The Spirit of Islam' বইটির লেখক সৈয়দ আমীর আলী।

#

'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন' গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?

সৈয়দ আমীর আলীই বাংলা তথা ভারতে প্রথম মুসলমান নেতা। তিনি বিশ্বাস করতেন মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা বা তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান - এসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।

#

তুমি কি মনে কর বর্তমান নারী-শিক্ষার অগ্রগতিতে উক্ত মহীয়সীর অবদান অনস্বীকার্য? যুক্তি দাও।

হ্যাঁ, আমি মনে করি, বর্তমান নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে উক্ত মহীয়সী অর্থাৎ বেগম রোকেয়ার অবদান অনস্বীকার্য।

বেগম রোকেয়া বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি নারী সমাজের অবহেলা ও বথানার যে চিত্র দেখেছিলেন তা থেকে বেড়িয়ে আসার স্বপ্ন দেখতেন। তিনি নারী জাগরণের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বর্তমান সময়ে অনেকাংশে বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ৬০% কোটা সংরক্ষিত রাখার কারণে নারী শিক্ষার বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়াও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নারী শিক্ষিতের হার বৃদ্ধি করে। বেগম রোকেয়ার নারী জাগরণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এদেশের নারীরা অধিকার

প্রথম সচেতন হয়ে ওঠে। ফলে আজকের দিনে নারীরা দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছে। এমনকি বর্তমানে নারীরা প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে পা রাখতে সক্ষম হয়েছে। আজকের দিনে মেয়েরা কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রাখছে। তাছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নারীরা অঞ্চিত রয়েছে। তাই নারীদের ছোট করে দেখা ও অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।