- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্য-১: নারীদের শিক্ষিত করে তুলতে সাজেদা বানু একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সবাইকে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি বই ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেন।
দৃশ্য-২: সুয়াপুর গ্রামে স্থাপিত স্কুল সকলের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। দেশ ও বিদেশের তথ্য এখন গ্রামে সহজেই পৌঁছায়। ফলে গ্রাম থেকে কুসংস্কার দূরীভূত হয়েছে এবং সর্বার মাঝে আত্মসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।
দৃশ্য-২-এর সুয়াপুর অঞ্চলের সংঘটিত পরিবর্তনই ইংরেজ আমলে বাংলার জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটায় বিশ্লেষণ কর।
এর সুয়াপুর অঞ্চলের সংঘটিত পরিবর্তন অর্থাৎ বাংলা অঞ্চলের সংঘটিত পরিবর্তনই ইংরেজ আমলের বাংলায় জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটায়।
উদ্দীপকের সুয়াপুর অঞ্চলে স্থাপিত স্কুল সকলের পরিবর্তন ঘটায় এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়। ফলে মানুষ কুসংস্কারমুক্ত হয়ে আত্মসচেতন হয়ে ওঠে। উক্ত সুয়াপুর সাথে বাংলা অঞ্চলের 'মিল রয়েছে। বাংলা অঞ্চলে স্বপতি হাজী মুহাম্মদ মহসীনের, আব্দুল লতিফের কর্মকান্ড, সৈয়দ আমীর আলীর প্রচেস্টা ও বেগম রোকেয়ার চেষ্টায় মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়। বাঙালি জাতি আত্মসচেতন হয়ে ওঠে।
হাজী মুহাম্মদ মুহসীনের অর্থ দ্বারা ১৮৪৮ সালে ইমামপাড়া প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং হুগলি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। নওয়াব আব্দুল লতিফও বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তাছাড়া বেগম রোকেয়া নারীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। যার ফলে বাংলা অঞ্চলে শিক্ষার আলো বিকশিত হয়। শিক্ষার আলো পেয়ে বাঙালিরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সচেতন হয়ে ওঠে এবং জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের সুয়াপুর অঞ্চলের সাথে বাংলার মিল রয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
দাদন কী?
দাদন হলো মহাজন কর্তৃক কৃষকদের দেওয়া ফসলের অগ্রিম ঋণ।
তিতুমীরের ধর্মসংস্কার আন্দোলন কেন সশস্ত্র আন্দোলনে পরিণত হয়?
তিতুমিরের ধর্মীয় সংস্কার 'আন্দোলনে বহু মুসলমান বিশেষ করে চব্বিশ পরগনা ও নদীয়া জেলার বহু কৃষক, তাঁতি যোগ দেয়। এ কারণে জমিদাররা মুসলমান প্রজাদের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি এবং নানা নির্যাতনমূলক আচরণ শুরু করে। তিতুমির কর্তৃপক্ষের কাছে এ অন্যায়ের শান্তিপূর্ণ সুবিচার চেয়ে ব্যর্থ হন। এ কারণে তিনি এবং তার অনুসারীরা শেল্প প্রতিরোধের পথ অবলম্বন করেন।
দৃশ্য-১-এর সাজেদা বানুর সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন নারী সংস্কারকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের দৃশ্য-১ এর সাজেদা বানুর সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের নারী সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দৃশ্য-১ নারীদের শিক্ষিত করে তুলতে সাজেদা বানু একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সবাইকে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে তিনি বই ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। অনুরূপভাবে, বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতিতে উক্ত নারী অর্থাৎ বেগম রোকেয়ার অবদান অপরিসীম। তাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে অভিহিত করা হয়। বেগম রোকেয়া রংপুরের মিঠাপুকুরে এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি, সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা বঞ্চনার করুণ চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন। যা উপলব্ধি করেছেন, তাই তিনি তার লেখার মধ্যে তুলে ধরেছেন। সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে তিনি দেখাতে চেয়েছেন নারীদের করুণ দশা, তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নমুনা। তার 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'সুলতানা স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে নারী সামজের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। তার স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন। ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ সালে কোলকাতায় আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন।

