• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন
ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ভারতবর্ষে যখন ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলছে বাঙালি মুসলিম সমাজের মেয়েরা তখনও পিছিয়েছিল। লেখাপড়ায় অংশগ্রহণ তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। আধুনিক যুগের প্রারম্ভে অখন্ড বাংলায় এক মহীয়সী নারী জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রচেষ্টায় কোলকাতায় ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারী শিক্ষার গুরুত্ব পুরুষশাসিত সমাজে পরিলক্ষিত হয়।

শিক্ষাবিস্তারে নওয়াব আব্দুল লতিফের ভূমিকা কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।

নওয়াব আব্দুল লতিফ বাংলার পশ্চাৎপদ মানুষকে সচেতন করার জন্য তাদেরকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর অন্যতম একটি পদক্ষেপ হলো মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠন করা। তার প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়। এ প্রচেস্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হলে মুসলমান, ছাত্ররা সেখানে পড়ালেখা করার সুযোগ পায়। তিনি-ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে মাদ্রাসা স্থাপন করেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে?

ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ।

#

উদ্দীপকে উল্লিখিত বর্ণনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন মহীয়সী নারীর মিল পাওয়া যায়? বর্ণনা দাও।

উদ্দীপকে উল্লিখিত বর্ণনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার মিল পাওয়া যায়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, ভারতবর্ষে যখন ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলছে বাঙালি মুসলিম সমাজের মেয়েরা তখনও পিছিয়েছিল। লেখাপড়ায় অংশগ্রহণ তাঁদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। আধুনিক যুগের প্রারন্ডে অখন্ড বাংলায় এক মহীয়সী নারী জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রচেস্টায় কোলকাতায় ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারী শিক্ষার গুরুত্ব পুরুষশাসিত সমাজে পরিলক্ষিত হয়। যার সাথে বেগম রোকেয়ার সাদৃশ্যপূর্ণ। বেগম রোকেয়া রংপুরের মিঠাপুকুরে এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের মেয়েরা ছিল খুবই পর্দানশিল। স্বভাবতই রোকেয়া বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ পাননি। তিনি তার বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন। তাকে পড়াশোনা করতে হতো গভীর রাতে যাতে বাড়ির লোক টের না পায়। বড় ভাইয়ের একান্ত চেষ্টায় তিনি উর্দু, আরবি, বাংলা, ফারসি ও ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা বঞ্চনার করুণ চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন। যা উপলব্ধি করেছেন, তাই তিনি তার লেখার মধ্যে তুলে ধরেছেন। সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে তিনি দেখাতে চেয়েছেন নারীদের করুণ দশা, তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নমুনা। তার 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'সুলতানা স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে নারী সমাজের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

#

"নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে উদ্দীপকে উল্লিখিত মহীয়সী নারীর অবদান অনস্বীকার্য"-উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে উক্ত নারী অর্থাৎ বেগম রোকেয়ার অবদান অপরিসীম। তাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে অভিহিত করা হয়

বেগম রোকেয়া সমাজের অবহেলিত নারীদের পক্ষ তখনই কলম ধরেছিলেন যখন নারীরা শিক্ষা অর্জনের অধিকার পেত না, তাদেরকে পর্দার অন্তরালে থাকতে হতো, পুরুষরা ছিল পরিবারের কর্তা আর নারীদেরকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হতো না। বেগম রোকেয়া তার 'মতিচুর' গ্রন্থে নারী-পুরুষের সমকক্ষতার যুক্তি দিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের মধ্য দিয়ে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গ সমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তার স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন। ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ সালে কোলকাতায় আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন।

পরিশেষে বলা যায়, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের হাত ধরেই বাংলার মুসলিম জাগরণ সূচিত হয় এবং বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতিতে তার অবদান অপরিসীম।