• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • অভাগীর স্বর্গ (গদ্য)
অভাগীর স্বর্গ (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

এই নিষ্ঠুর অভিযোগে গফুর যেন বাক্রোধ হইয়া গেল। ক্ষণেক পরে ধীরে ধীরে কহিল, কাহন খানেক খড় এবার ভাগে পেয়েছিলাম। কিন্তু গেল সনের বকেয়া বলে কর্তামশায় সব ধরে রাখলেন। কেঁদে কেটে হাতে পায়ে পড়ে বললাম, বাবু মশাই, হাকিম তুমি, তোমার রাজত্ব ছেড়ে আর পালাব কোথায়? আমাকে পণদশেক বিচুলি না হয় দাও। চালে খড় নেই। বাপ বেটিতে থাকি, তাও না হয় তালপাতার গোঁজাগাঁজা দিয়ে এ বর্ষা কাটিয়ে দেব, কিন্তু না খেতে পেয়ে আমার মহেশ যে মরে যাবে।

'কাঙালীর সঙ্গে উদ্দীপকের গফুরের সাদৃশ্য থাকলেও কাঙালী সম্পূর্ণরূপে গফুরের প্রতিনিধিত্ব করে না।'- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

'কাঙালীর সঙ্গে উদ্দীপকের গফুরের সাদৃশ্য থাকলেও কাঙালী সম্পূর্ণরূপে গফুরের প্রতিনিধিত্ব করে না।'- মন্তব্যটি যথার্থ।

শোষক সব দেশে সব কালেই গরিব-দুঃখী মানুষের শ্রম শোষণ করে তাদের আধিপত্য বিস্তার করে চলে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার নতুন কোনো ব্যাপার নয়। যুগ যুগ ধরেই তা চলে আসছে। সবল ব্যক্তিরা অত্যাচার করে আর দুর্বলরা মুখ বুজে সহ্য করে।

উদ্দীপকের গফুর দরিদ্র। সে জমিদারের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে। গত সনের বকেয়া হিসাব করে গফুরের ভাগের সব খড় নিয়ে যায় মালিক কর্তামশায়। অনেক অনুনয়, বিনয়, অশ্রুপাত করেও প্রিয় গরু মহেশের জন্য সামান্য খড়বিচুলিও পায় না সে। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে কাঙালী তার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে কাঠের জন্য অনেক কান্নাকাটি করেও জমিদারের গোমস্তা অধর রায়ের কাছ থেকে তা পায়নি। দরিদ্র বলে কেউ তাকে কাঠ দিতে রাজি হয়নি। বরং দুলে জাতের কাউকে পোড়ানো হয় না বলেও ভর্ৎসনা করেছে। এখানে গফুরের প্রত্যাশা এবং কাঙালীর প্রত্যাশায় মিল থাকলেও তা এক নয়।

উদ্দীপকে গফুর কর্তামশায়ের কাছে মহেশের জন্য বিচুলি চেয়েছিল। আর 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে কাঙালী তার মায়ের সৎকারের জন্য কাঠ চেয়েছিল। এই দুজনই হতদরিদ্র। কিন্তু তাদের চাওয়ার মধ্যে দুজনের বেদনাবোধ দুরকম। এ কারণেই মিল থাকলেও গফুর ও কাঙালী পরস্পরের সম্পূর্ণ প্রতিনিধি নয়। কারণ তাদের যন্ত্রণার গভীরতা এক রকম নয়, ভিন্ন ভিন্ন।

সারকথা: নীচু জত এবং দরিদ্র হওয়াটাই যেন একটা বিরাট অপরাধ। ধনীদের শোষণ-নির্যাতনের শিকার হয়ে অশ্রুপাত করেছে উদ্দীপকের গফুর এবং গল্পের কাঙালী। এই দিক থেকে তারা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা ও অপ্রাপ্তির বেদনাবোধ ও যন্ত্রণার গভীরতায় ভিন্নতা আছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কাঙালীর বাবার নাম কী?

কাঙালীর বাবার নাম রসিক বাঘ।

#

'তোর হাতের আগুন যদি পাই, আমিও সগ্যে যাব'- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

উক্তিটিতে অভাগীর সংস্কার ও বিশ্বাসের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের অভাগী সংস্কারে বিশ্বাসী মানুষ। ঠাকুরদাস মুখুয্যের সদ্যমৃত বর্ষীয়সী স্ত্রীকে শ্মশানে পুড়তে দেখে অভাগী, যেখানে মুখুয্যের স্ত্রী ছেলের হাতে আগুন পায়। শবদাহের আড়ম্বরতা ও সৎকারের ব্যাপকতা প্রত্যক্ষ করে অভাগীও নিজের মৃত্যু মুহূর্তের স্বপ্ন বোনে। হিন্দুধর্মের সংস্কার অনুসারে অভাগীর বিশ্বাস মুখুয্যের স্ত্রী স্বর্গে যাবে। তাই অভাগী মৃত্যুর পর ছেলের হাতের আগুন প্রত্যাশা করে; যেন সে নিজেও মুখুয্যের স্ত্রীর মতো স্বর্গে যেতে পারে।

সারকথা: কাঙালীর মা আজন্ম লালিত সংস্কার ও বিশ্বাস থেকে ভেবেছে ছেলের হাতের আগুন পেলে সে স্বর্গে যাবে।

#

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের যে সমাজচিত্রের ইঙ্গিত রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পের দরিদ্র ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের সামাজিক জীবনের ইঙ্গিত রয়েছে।

আমাদের সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট। এই বৈষম্য ছাড়াও ধর্ম-বর্ণ, জাতি-সম্প্রদায়ের মধ্যেও ব্যাপক বৈষম্য লক্ষ করা যায়। অতীতে হিন্দুধর্মের বিভিন্ন সামাজিক রীতিনীতিতে মানুষে মানুষে অনেক বৈষম্য ছিল। প্রচলিত তৎকালীন সামাজিক রীতিতে তা সিদ্ধ হলেও মানবিকতার দিক থেকে তা ছিল অত্যন্ত হীন- অমানবিক।

উদ্দীপকে তৎকালীন হিন্দু জমিদার শাসিত সমাজব্যবস্থায় একজন দরিদ্র মুসলমানের অসহায়ত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যাতে সমাজের সচ্ছল মানুষের শোষণচিত্র প্রকাশ পেয়েছে। বাবা-মেয়ের সংসারে একমাত্র গরু মহেশকে বাঁচাতে সে বিচুলি প্রার্থনা করেছে। 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে কাঙালী তার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে কাঠের জন্য অনেক মিনতি কান্নাকাটি করেও পায়নি। গফুরও পায়নি এক আঁটি বিচুলি বা খড় মহেশকে খাওয়ানোর জন্য। কাঙালী নীচ জাত বলে মায়ের সৎকারে কাঠ চেয়ে বঞ্চিত হয়েছে। গফুর অন্য জাতের বলে শোষণের শিকার হয়েছে। এভাবে উদ্দীপক ও 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে গরিব, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের সমাজচিত্র সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সারকথা: সমাজে দরিদ্র মানুষকে অবহেলা ও শোষণ করা ধনিকশ্রেণির ঘৃণ্য কাজ। এই ঘৃণ্য কাজের নমুনাই অভিন্নভাবে উদ্দীপক ও 'অভাগীর স্বর্গ' গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে।