• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
অতিথির স্মৃতি (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড় মহেশ। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে ওকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি খেতে দিতে পারে না। জমিদারের কাছে সামান্য খড় ধার চেয়েও পায় না। নিজে না খেয়ে থাকলেও গফুরের দুঃখ নেই। কিন্তু মহেশকে খাবার দিতে না পেরে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে-মহেশ, তুই আমার ছেলে। তুই আমাদের আট সন প্রতিপালন করে বুড়ো হয়েছিস। তোকে আমি পেট পুরে খেতে দিতে পারি নে, কিন্তু তুই তো জানিস আমি তোকে কত ভালোবাসি। মহেশ প্রত্যুত্তরে গলা বাড়িয়ে আরামে চোখ বুজে থাকে।

উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে প্রকাশিত অবলা প্রাণীর প্রতি লেখকের অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

মানুষ কখনো কখনো ইতরপ্রাণীর সঙ্গেও স্নেহ-প্রীতির সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। নানা বাধার মুখেও সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চায়। মানবমনের এই অনুভূতির প্রকাশ দেখা যায়, 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কুকুরটির প্রতি লেখকের আচরণে।

উদ্দীপকের বর্ণনায় প্রিয় ষাঁড় মহেশের প্রতি গফুরের অকৃত্রিম ভালোবাসার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের গফুর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মতোই তার পোষা প্রাণীটির প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করেছে। আদরের ষাঁড় মহেশকে সে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। মহেশের সজো কথা বলতে গিয়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কারণ প্রিয় প্রাণীটিকে গফুর পেট পুরে খেতেও দিতে পারে না, যা তাকে সবসময় কষ্ট দেয়। একইভাবে আলোচ্য গল্পের কথকও একটি পথের কুকুরের সঙ্গে মমত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে ফুটে ওঠা প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী?

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ বায়ু পরিবর্তন।

#

অতিথি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো।

অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকে অতিথি ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিনের জন্য দেওঘরে গিয়েছিলেন। সেখানে পথ চলতে গিয়ে একটি কুকুরের সকো লেখকের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে অতিথি সম্বোধন করে বাড়ির ভেতরে ডাকলে কুকুরটি ভেতরে ঢুকতে সাহস পায় না। মূলত, অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকেই অতিথি ভেতরে ঢোকার সাহস পায় না।

#

'উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন'- 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

প্রাণীর প্রতি গভীর মমতা প্রকাশের দিক দিয়ে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের সঙ্গে গফুরের চেতনাগত সাদৃশ্য থাকলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটি পথের কুকুরের সঙ্গে লেখকের স্নেহ-মমত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুকুরটির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে লেখক তাকে বরণ করে নেন অতিথির মর্যাদায়। অবলা প্রাণীর প্রতি লেখকের এই মমত্ববোধের দিকটি আলোচ্য গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

উদ্দীপকের দরিদ্র বর্গাচাষি গফুর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মতো তার পোষা প্রাণীটির প্রতি গভীর মমতা অনুভব করে। আট বছর ধরে যে ষাঁড়টি তাকে প্রতিপালন করে বুড়ো হয়েছে তাকে ঠিকমতো খেতে দিতে না পারার দুঃখে জল আসে তার চোখে।

শুধু মানুষে মানুষে নয়, অন্য জীবের সঙ্গেও মানুষের স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। পরিবেশ ও ঘটনা আলাদা হলেও এ সম্পর্কের মূলে রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসার টান। এদিক বিচারে গল্পের লেখক ও উদ্দীপকের কৃষকের চেতনাগত মিল স্পষ্ট। তবে তাদের এমন আচরণের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। এক্ষেত্রে অপরিচিত পরিবেশে একটি কুকুরের প্রতি লেখকের সাময়িক ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, উদ্দীপকের চাষি গফুরের প্রিয় পোষা ষাঁড়টির প্রতি ভালোবাসা, মমতার শিকড় অনেক গভীর। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।