- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
লালমনিরহাটের যুবায়ের প্রায় ১০ বছর ধরে তার পোষাহাতি। কালাপাহাড়কে দিয়ে লাকড়ি টানা, চাষ করা, সার্কাস দেখানো ইত্যাদি কাজ করিয়ে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে হাতির খোরাক জোগাড় করতে না পেরে একদিন সে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিল। ক্রেতা কালাপাহাড়কে নিতে এসে ওর পায়ে বাঁধা রশি ধরে হাজার টানাটানি করে একচুলও নাড়াতে পারল না। কালাপাহাড়ের দুচোখ বেয়ে শুধু টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। পরদিন খদ্দের আরও বেশি লোকজন নিয়ে আসে কালাপাহাড়কে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ভোরবেলা যুবায়ের দেখে- কালাপাহাড়, মরে পড়ে আছে। হাউমাউ করে সে চিৎকার করে আর বলে- 'ওরে আমার কালাপাহাড়, অভিমান করে তুই চলে গেলি।'
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন?
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
অতিথির প্রতি মমতার টান কাটাতে না পেরে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে দিন দুই দেরি করেন।
চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গিয়ে লেখক একটি কুকুরকে সঙ্গী হিসেবে পান। ধীরে ধীরে কুকুরটির সঙ্গে তাঁর মমত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। এ কারণে চলে আসার সময় হলেও লেখক কুকুরটিকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভেবে ব্যথিত হন। এজন্যই দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে লেখক দিন দুই দেরি করেন।
কালাপাহাড়ের আচরণ এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন? বর্ণনা করো।
ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে কালাপাহাড় ও গল্পের অতিথির মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও আচরণগত দিক দিয়ে তাদের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক দেওঘরে গিয়ে একটি কুকুরের সঙ্গ লাভকরেন। তিনি কুকুরটিকে স্নেহভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নেন। কুকুরটিও তাঁর ভালোবাসা পেয়ে বশ্যতা স্বীকার করে। বাড়িতে এসে তাঁর খোঁজ করা, পথের ধারে তাঁর জন্য অপেক্ষা করা কুকুরটির নিত্যদিনের কাজে পরিণত হয়। লেখকের বিদায় নেওয়ার সময়ও অতিথি স্টেশন পর্যন্ত চলে আসে।
উদ্দীপকের যুবায়েরের সঙ্গে তার পোষা হাতি কালাপাহাড়ের সম্পর্ক প্রায় দশ বছরের। সংগত কারণেই তাদের মধ্যকার সম্পর্কে গভীরতা আরও বেশি। এরই প্রকাশ লক্ষ করা যায় কালাপাহাড়ের মধ্যে। এ কারণে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিলে সে খুব কষ্ট পায় এবং তার বহিঃপ্রকাশও ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথি কষ্ট পেলেও সে তেমন কিছুই করতে পারেনি। কিন্তু কালাপাহাড় ভীষণভাবে তার প্রতিক্রিয়া। ব্যস্ত করে। সে কোনোভাবেই বাড়ি ছাড়তে চায়নি। অবশেষে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সে চূড়ান্ত ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছে, যা অতিথির আচরণের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ, 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথি ও উদ্দীপকের কালাপাহাড় তাদের মনিবের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলেও তাদের ভালোবাসা প্রকাশের ধরন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
"উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত" মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
অসহায় প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার দিক থেকে উদ্দীপকের যুবায়ের এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটি ইতরপ্রাণীর সঙ্গে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মমত্বের সম্পর্কের দিকটি উঠে এসেছে। লেখক দেখিয়েছেন, মানুষ-মানুষে যেমন স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক অন্য প্রাণীর সঙ্গেও মানুষের তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
উদ্দীপকের কালাপাহাড়ের মৃত্যুতে যুবায়ের অশেষ মনোযাতনায় ভোগে। দশ বছর ধরে পোষা হাতিটির মৃত্যুতে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। একইভাবে গল্পের লেখকও কুকুরটিকে ছেড়ে বাড়ি যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
পোষা প্রাণীকে হারিয়ে মানুষ কষ্ট পায়, শোকে কাতর হয়। নিরীহ প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা এবং তাকে হারানোর কষ্টের দিক থেকে আলোচ্য গল্পের লেখক ও উদ্দীপকের যুবায়েরের অনুভূতি অভিন্ন। এক্ষেত্রে দশ বছরের সালিত কালাপাহাড়কে হারিয়ে যুবায়ের যেমন শোকে কাতর হয়েছে, তেমনই গল্পের লেখকও কুকুরটিকে ছেড়ে ফিরে যাওয়ার সময় ব্যথিত হয়েছেন। এদিক থেকে তাঁদের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত।

