- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রোহানের পাখি পোষার শখ। সে কবুতর পোষে। বলতে গেলে কবুতর পোষা তার রীতিমতো নেশায় পরিণত হয়েছে। একবার এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে একটি কবুতরকে তার খুব পছন্দ হয়। রোহান আবদার করে সেটিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। নাম দেয় রাজা। রাজাকে নিয়ে আনন্দে' দিন কাটে রোহানের। কিন্তু একদিন রাজা বাইরে উড়ে গিয়ে আর ফিরে আসে না। পরে জানা যায় শিয়ালের কবলে পড়ে প্রাণ দিয়েছে রাজা।
উদ্দীপকের রাজা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কার প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের রাজা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথি কুকুরটির প্রতিনিধিত্ব করে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটি মানবেতর প্রাণীর সঙ্গে গল্পকথকের মমত্বের সম্পর্ক ফুটে উঠেছে। এক সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার সময় পথের একটি কুকুরের সড়ো গল্পকথকের দেখা হয়। কুকুরটিকে তিনি বরণ করে নেন। অতিথির মর্যাদায়। কুকুরটিও গল্পকথকের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করে তার স্নেহের প্রতিদান দেয়।
উদ্দীপকের কমল একজন পাখিপ্রেমী। তাই আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে আবদার করে সেখান থেকে একটি কবুতর সঙ্গে করে নিয়ে আসে। সে ভালোবেসে কবুতরটির নাম দেয় রাজা। ধীরে ধীরে রাজার সঙ্গে কমলের সখ্য গড়ে ওঠে। তার সঙ্গে কমলের আনন্দময় দিন কাটে। একইভাবে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটির কাহিনি আবর্তিত হয়েছে একটি পথের কুকুরের সঙ্গে গল্পকথকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে, যা উদ্দীপকের কমলের সঙ্গে তার পোষা কবুতর রাজার সম্পর্ককে নির্দেশ করে। সে বিবেচনায়, উদ্দীপকের রাজা আলোচ্য গল্পের অতিথি কুকুরটির প্রতিনিধিত্ব করে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে রেঙ্গুন যাত্রা করেন?
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯০৩ সালে রেঙ্গুন যাত্রা করেন।
অতিথি কিছুতেই ভেতরে ঢোকার সাহস পেল না কেন?
অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকে অতিথি ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিনের জন্য দেওঘরে গিয়েছিলেন। সেখানে পথ চলতে গিয়ে একটি কুকুরের সকো লেখকের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে অতিথি সম্বোধন করে বাড়ির ভেতরে ডাকলে কুকুরটি ভেতরে ঢুকতে সাহস পায় না। মূলত, অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকেই অতিথি ভেতরে ঢোকার সাহস পায় না।
"উদ্দীপকের কমলের অনুভূতি আর 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের গল্পকথকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত।" মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
মানবেতর প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের কমলের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের গল্পকথকের অনুভূতির সাদৃশ্য রয়েছে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে গল্পকথক একটি পথের কুকুরকে বরণ করে নেন অতিথির মর্যাদায়। কুকুরটিও নানাভাবে কথকের সে ভালোবাসার প্রতিদান দেয়। তাদের এই সম্পর্কের মূলভিত্তি মানবেতর প্রাণীর প্রতি কথকের মমত্ববোধ ও ভালোবাসা।
উদ্দীপকে কমল পাখিদের ভালোবাসে। এ কারণে সে বেশকিছু কবুতর পোয়ে। শুধু তাই নয়, আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে গিয়েও সেখান থেকে একটি কবুতরকে সে সঙ্গে করে নিয়ে আসে। ভালোবেসে সে এই কবুতরটির নাম দেয় রাজা। এরপর থেকে রাজার সঙ্গে তার আনন্দময় দিন কাটতে থাকে। বস্তুত, রাজার প্রতি তার গভীর ভালোবাসাই এমন সম্পর্ক তৈরি হওয়ার কারণ। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পটি আবর্তিত হয়েছে একটি পথের কুকুরের সঙ্গে গল্পকথকের সম্পর্ককে ঘিরে। অল্প দিনের পরিচয়েই গল্পৰ থক কুকুরটিকে আপন করে নেন। কুকুরটিও আনুগত্য প্রকাশ করে গল্পকথযের স্নেহভালোবাসার প্রতিদান দেয়। একইভাবে উদ্দীপকের কমলও পাখিদের ভালোবাসে। সে ভালোবাসা থেকেই রাজা নামের কবুতরটিকে কমল আপন করে নেয়। অর্থাৎ আলোচ্য গল্প এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই মানবেতর প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধ ও ডালোবাসা প্রকাশিত হয়েছে। সে বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

