• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
অতিথির স্মৃতি (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

সুভার যে গুটিকতক অন্তরজা বন্ধুর দল ছিল না তাহা নহে। গোয়ালের দুটি গাভী (গাভি), তাযাদের নাম সর্বশী ও পাঙ্গুলি। সে নাম বালিকার মুখে তাহারা কখনো শুনে নাই। কিন্তু তাহার পদশব্দ তাহারা চিনিত-তাহার কথাহীন একটা করুণ সুর ছিল। সুভা কখন তাহাদের আদর করিতেছে, কখন ভৎসনা করিতেছে, কখন মিনতি করিতেছে, তাহা তাহারা মানুষের অপেক্ষা ভালো বুঝিতে পারিত। বালিকা দিনের মধ্যে তিনবার করিয়া নিয়মিত গোয়ালঘরে যাইত।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শেষ প্রশ্ন' কোন ধরনের রচনা?

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শেষ প্রশ্ন' একটি উপন্যাস।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'বুঝতাম এরা বেরিবেরির আসামি।'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত মেয়েদের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

দেওঘরে গিয়ে অসুস্থ লেখক প্রায়ই বিকালে গেটের বাইরে পথের ধারে বসে সময় কাটাতেন। এসময় পথ দিয়ে পা ফোলা অল্পবয়সি একদল মেয়ে যেত। তাদের ফোলা পা দেখে লেখক বুঝতেন যে, তারা বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত।, কৌতূহলী লোকচক্ষু থেকে নিজেদের বিকৃতিটা আড়াল করার জন্য তারা বিভিন্ন উপায়ে ফোলা পা ঢেকে রাখার চেষ্টা করত। মেয়েদের এই পায়ের ফোলা অবস্থা দেখে লেখক তাদের বেরিবেরির আসামি বলেছেন।'

#

উদ্দীপকে সর্বশী ও পাঙ্গুলির প্রতি সুভার আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কোন দিকটি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে সর্বশী ও পাঙ্গুলির প্রতি সুভার আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের প্রাণীর সাথে মানুষের স্নেহ-মমতার সম্পর্কের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটি কুকুরের সাথে মানুষের স্নেহ-মমতার বন্ধনের স্বরূপ তুলে ধরা হয়েছে। একদিন অসুস্থ লেখক একাকী রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সঙ্গী হিসেবে কুকুরটিকে পেয়ে যান। তারপর থেকেই কুকুরটির সাথে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি অতিথি হিসেবে কুকুরটিকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং তার যত্নআত্তির ব্যবস্থা করেন।

উদ্দীপকে বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার অন্তরঙ্গ বন্ধু সর্বশী ও পাঙ্গুলি নামের দুইটি গাভি। এই গাভি দুইটি সুভার পদশব্দ শুনেই তার উপস্থিতি টের পেত এবং কথা না বললেও তার হৃদয়ের অনুভূতি সহলেই উপলব্ধি করতে পারত। সুভার কথাহীন সুর যেন বোবা প্রাণী দুইটি নিজেদের মধ্যে অনুভব করত, যা ভাষাবোধসম্পন্ন প্রাণীদের পক্ষেও সম্ভবপর হতো না। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক ও তাঁর অতিথি কুকুরটির মাঝে যে সহানুভূতি ও স্নেহের সম্পর্ক দেখা যায়, উদ্দীপকের সর্বশী ও পাঙ্গুলির প্রতি সুভার আচরণে সেই একই স্নেহভালোবাসার সম্পর্ক ফুটে ওঠে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রাণীর প্রতি মানুষের অনিঃশেষ মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে।

#

'বোবা প্রাণীরাও মানুষের মনের অনুভূতি বুঝতে পারে।'-উদ্দীপক ও 'অতিথির সস্মৃতি' গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

'বোবা প্রাণীরাও মানুষের অনুভূতি বুঝতে পারে।'- উদ্দীপক ও 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখকের সঙ্গে একটি কুকুরের মমত্ববোধের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুকুরটিকে তিনি স্নেহভালোবাসা দিয়ে আপন করে নেন।

কুকুরটি তাঁর ডালোবাসা পেয়ে আনুগত্য স্বীকার করে। তাই লেখক কয়েকদিন বাড়ির বাইরে না গেলে কুকুরটি লেখকের খোঁজ করতে তার ঘরে চলে আসে। এছাড়াও পথের ধারে তাঁর জন্য অপেক্ষা করা ছিল কুকুরটির নিত্যদিনের কাজ। কুকুরটি মূলত লেখকের মনের অনুভূতি এবং ভালোবাসা বুঝতে পেরেই এসব আচরণ করেছিল।

উদ্দীপকের সুভার প্রিয় দুইটি গাভি সর্বশী ও পাঙ্গুলি। গাভি দুইটি সুভার মুখে কখনো তাদের নাম না শুনলেও সুভার ভালোবাসা তারা বুঝতে পারত। সুতার পায়ের শব্দ তারা চিনত, সুভার আদর, ভৎসনা, মিনতি ইত্যাদি অনুভূতি তারা মানুষের চেয়েও ভালোভাবে বুঝত।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কুকুরটির মতো উদ্দীপকের সর্বশী ও পাঙ্গুলিও তাদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা অনুধাবন করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী সাড়া প্রদান করতে পারে। শুধু মানুষে মানুষে যে সবসময় কধুত্ব হয় তা নয়, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যেও কন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্প ও উদ্দীপক তারই উৎকৃষ্ট প্রমাণ। তাই আলোচ্য উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।