- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
একদিন জোয়াও পেরেইরা ডি সুজা নামের এক ব্যক্তি রিওডি জেনিরোর একটা দ্বীপে যান। সেখানে তিনি দেখেন একটি পেঙ্গুইন পালকে তেল লেপটে গিয়ে ডুবতে বসেছে। এমন পরিস্থিতে পেঙ্গুইনটিকে উদ্ধারের পর সেবা-শুশ্রুষার মাধ্যমে সেটিকে তিনি সুস্থ করে তোলেন। পাখিটিকে মুক্ত করার পূর্বে তিনি এর নাম রাখেন ডিনডিম। ডিনডিম চলে যায় গভীর সাগরে। কিন্তু কয়েক মাস পর ডিনডিম তার কাছেই ফিরে এসেছে দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান। শুধু তাই নয়, পেঙ্গুইনটি সুজার সাথে হাঁটাচলা করলেও ভিন্ন কেউ তার কাছে যেতে পারে না। সুজা বলেন, 'আমি পেঙ্গুইনটিকে নিজের 'সন্তানের মতোই ভালোবাসি। আমি মনে করি, পেঙ্গুইনটিও আমাকে ভালোবাসে।'
'পাখি চালান দেওয়াই তাদের ব্যবসা।'- ব্যাখ্যা করো।
ব্যাধ বা শিকারিরা নিরীহ পশু-পাখি শিকার ও ক্রয়-বিক্রয় করে জীবিকানির্বাহ করে থাকে বলে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে গল্পকথক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য দেওঘরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। দেওঘরের প্রাকৃতিক পরিবেশে গল্পকথকের সকাল হতো বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে। পাখিদের মধ্যে একজোড়া বেনে-বৌ পাখি দুই দিন গল্পকথকের বাড়িতে না এলে তিনি চিন্তিত হন। এদেশে ব্যাধেরা পশু-পাখি চালান করে অর্থ উপার্জন করে। বেনে-বৌ পাখিরা এসব ব্যাধের শিকার হলো কি না তাই ভেবে গল্পকথক উদবিগ্ন হয়ে পড়েন। আলোচ্য অংশটুকুতে এ বিষয়টির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
সবচেয়ে ভরে ওঠে কোন পাখি?
সবচেয়ে ভোরে ওঠে দোয়েল পাখি।
উদ্দীপকের ঘটনাটিতে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কোন দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে? বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকের জোয়াও পেরেইরা ডি সুজার প্রতি পেঙ্গুইনটির ভালোবাসায় 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কথকের সঙ্গে অতিথি কুকুরটির স্নেহ-মমত্বের সম্পর্কের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পটি প্রাণী ও মানুষের মধ্যকার স্নেহভালোবাসার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে। এ গল্পে পথের একটি কুকুরই গল্পকথকের প্রিয় অতিথি। কুকুরটির প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা গল্পটিকে বিশেষ করে তুলেছে।
উদ্দীপকে একটি পেঙ্গুইনের সঙ্গে জোয়াও পেরেইরা ডি সুজা নামের এক ব্যক্তির স্নেহ-মমত্বের সম্পর্ককে তুলে ধরা হয়েছে। তার শুশ্রুষায় বিপদাপন্ন পেঙ্গুইনটি সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি সেটিকে মুক্ত করে দেন। কিন্তু মুক্ত হয়ে পেঙ্গুইনটি তাকে ভুলে যায়নি। তাই কিছুদিন পরই সে আবার জোয়াও পেরেইরা ডি সুজার কাছে ফিরে আসে। আলোচ্য গল্পেও মানুষের প্রতি পশু-পাখির এমন ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতাবোধের পরিচয় মেলে।
উদ্দীপকের জোয়াও পেরেইরা ডি সুজার কর্মকান্ড 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের গল্পকথকের মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে কি? আলোচনা করো।
উদ্দীপকের জোয়াও পেরেইরা ডি সুজার কর্মকান্ড 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কথকের মনোভাবের প্রতিনিধিত্ব করে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে গল্পকার মানুষের সঙ্গে। মানবেতর প্রাণীদের সখ্যের এক অনন্য উদাহরণ দিয়েছেন। সেখানে অল্পদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে পথের এক কুকুরের সঙ্গে গল্পকথকের স্নেহ-মমত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পশু-পাখির প্রতি গল্পকথকের অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং মমত্বই এর কারণ। উদ্দীপকে জোয়াও পেরেইরা ডি সুজা নামের এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে। তিনি রিওডি জেনিরোর এক দ্বীপে বিপদাপন্ন একটি পেঙ্গুইন পাখিকে দেখতে পান। এমতাবস্থায় তিনি পাখিটির সাহায্যে এগিয়ে আসেন। ধীরে ধীরে পাখিটি সুস্থ হয়ে উঠলে তিনি পাখিটিকে মুক্ত-করে দেন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কথকও পাখিদের বিপদের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, পথের একটি কুকুরকে তিনি অতিথির মর্যাদায় বরণ করেন এবং চাকরদের বলেন তার খাওয়ার ব্যবস্থা করতে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচ্য গল্পের কথক এবং উদ্দীপকের জোয়াও পেরেইরা ডি সুজার পশু-পাখির প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাবের পরিচয় মেলে। সে বিবেচনায় উদ্দীপকের জোয়াও পেরেইরা ডি সুজার কর্মকাণ্ড 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কথকের মানসিকতাকেই তুলে ধরে।

