- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সুবর্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিগন্তের একটি পোষা কুকুর আছে। কুকুরটি সব সময় দিগন্তের আশপাশে থাকে। বাড়ির অন্যরা যত্ন না নিলেও দিগন্ত যত্নের ব্যাপারে সবসময় সতর্ক থাকে। পোষা কুকুরটি দিগন্তকে আপন করে নিয়েছে। সে কোথাও ঘুরতে বের হলে বা স্কুলে যাওয়ার সময় কুকুরটি তাকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেয়।
উদ্দীপকের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের বৈসাদৃশ্য কী? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের ঘটনা ও ঘটনার পরিণতির দিক থেকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে দেওঘরে এসেছিলেন বায়ু পরিবর্তন করতে। এখানে এসে একটি অবহেলিত কুকুরের সাথে তার মমত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখক তাকে বাড়িতে ডেকে এনে অতিথির মতো করে খাওয়ান এবং অতিথি সম্বোধন করে ডাকেন। বাড়ির চাকর, মালি-বৌ অতিথিকে লেখকের অগোচরে তাড়িয়ে দেয়, খাবার দেয় না এসব বুঝতে পেরে লেখক নিজে ওর দেখাশোনা করেন। আলোচ্য গল্পে মানুষের সাথে জীবের মমত্বের সম্পর্ক ছাড়াও দেওঘরের প্রকৃতি ও প্রকৃতি লালিত সাধারণ মানুষের বর্ণনা রয়েছে।
উদ্দীপকে একটি ছেলে দিগন্ত ও তার পোষা কুকুরের কথা বলা হয়েছে। কুকুরটি সবসময় দিগন্তের সাথে থাকে। এবং অন্যকেউ কুকুরটির যত্ন না নিলেও দিগন্ত এ ব্যাপারে সদা সর্তক থাকে। স্কুলে বা অন্য কোথাও যাওয়ার সময় কুকুরটি তার সঙ্গ দেয়। কিন্তু 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কুকুরটি লেখকের কয়েকদিনের অতিথি হয়ে থাকে, কিছুদিন পর লেখক অতিথিকে ছেড়ে চলে যান। সুতরাং উদ্দীপকের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের বৈসাদৃশ্য আছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে ট্রেন স্টেশন ছাড়তে আর কয় মিনিট দেরি?
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে ট্রেন স্টেশন ছাড়তে আর এক মিনিট দেরি।
"ওর মত তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথি একটি বেওয়ারিশ কুকুর তাই লেখক বলেছেন ওর চেয়ে তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই।
চিকিৎসকের আদেশে বায়ু পরিবর্তনের জন্য লেখক দেওঘরে এসেছিলেন। এখানে একাকী জীবনে তাঁর এক সঙ্গী জুটে যায়, সে হলো একটি কুকুর, লেখক তাকে 'অতিথি' বলেছেন। অনাদরে, অবহেলায় অসহায় অতিথিকে লেখক আদর করে খাওয়ান, তার সাথে গল্প করেন। কিন্তু লেখক জানেন যে তিনি চলে গেলে অতিথি আবার অসহায় হয়ে পড়বে তাই লেখক শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় আলোচ্য উক্তিটি করেন।
"অতিথির স্মৃতি' ও উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয়ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর অনুভূতিই প্রাধান্য পেয়েছে"-যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে পোষা প্রাণীর প্রতি মমত্বের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক দেওঘরে বায়ু পরিবর্তনের জন্য এলে একটি কুকুর তাঁর পিছু নেয়। হাঁটতে হাঁটতে লেখকের বাড়ি পর্যন্ত চলে যায় তখন লেখক কুকুরটিকে অতিথি হিসেবে আপ্যায়ন করতে চান।
কিন্তু প্রথমদিন অতিথি না এলেও পরদিন সকালে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর বাড়ির ভেতরে ঢুকে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়িতেই থেকে যায়। মালি-বৌ তাড়িয়ে দিলে সে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। লেখক কোনো কথা বললে লেজ নেড়ে নেড়ে তার জবাব দেয়। এখানে লেখকের প্রতি কুকুরের আনুগত্যের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া দিগন্তেরও একটি কুকুর আছে। সে সর্বদা দিগন্তের আশপাশে থাকে। অন্য কেউ যত্ন না নিলেও দিগন্ত তার যত্নের দিকে খেয়াল রাখে। পোষা কুকুরটি দিগন্তকে আপন করে নিয়েছে তাই কোথাও যেতে গেলে সে দিগন্তকে কিছুটা পথ এগিয়ে দেয়। এমনই মমত্বের সম্পর্ক ছিল 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক ও তাঁর অতিথির।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক দেওঘরে গেলে খুব অল্প সময়ের জন্য লেখকের ও অতিথির মধ্যে সখ্য হয়। কিন্তু উদ্দীপকের দিগন্তের সাথে তার পোষা কুকুরের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এখানে দুটি প্রেক্ষাপট ভিন্ন কিন্তু উভয়ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর অনুভূতিই প্রাধান্য।

