• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
অতিথির স্মৃতি (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ছোটো ছেলে ইমনকে নিয়ে ইমদাদ সাহেব সিলেট ভ্রমণে যান। সিলেটের চা বাগান, পাহাড় ও পাখি দেখে উভয়েই বেশ আনন্দিত। কিন্তু হঠাৎ তাদের চোখে পড়ে পাখি বিক্রির দৃশ্য। ছেলে জিজ্ঞেস করে এটা কী ধরনের কাজ? ইমদাদ সাহেব বলেন, যারা পাখি চালান দেয় তাদের ব্যাধ বলে। তিনি আরও বলেন, মানবেতর প্রাণীর প্রতি আমাদের নিষ্ঠুরতা পরিহার করে সহানুভূতিশীল হতে হবে।

মালি-বৌ কুকুরটাকে তাড়িয়ে দিত কেন?

উচ্ছিষ্ট খাবার দেবে না বলেই মালি-বৌ অতিথি কুকুরকে তাড়িয়ে দিত।
লেখকের অতিথি ছিল একটি কুকুর কিন্তু লেখকের বাগানের মালি-বৌ তাকে খেতে দিত না। লেখকের বাড়িতে প্রতিদিন অনেক খাবার নষ্ট হয়ে যায় তবে সেই খাবার মালি-বৌ এসে নিয়ে যেত। তাই মালি-বৌ নিজের খাবার অতিথিকে দেবে না বলেই তাকে তাড়িয়ে দিত।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

কোন পাখি একটু দেরি করে আসত?

বেনে-বৌ পাখি একটু দেরিতে আসত।

#

উদ্দীপকের ইমদাদ সাহেব 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কোন চরিত্রের পরিচয় বহন করেন? ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকের ইমদাদ সাহেব 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের গল্পকথক লেখক চরিত্রের পরিচয় বহন করেন।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক চিকিৎসকের আদেশে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে যান। সেখানে পথ চলতে চলতে একটি কুকুর তাকে সঙ্গ দেয়। কুকুরটির প্রতি তার মমতা জন্মে তাই তিনি তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন, খাবার খাওয়ান। এভাবে লেখকের সাথে কুকুরটির মমত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ গল্পের লেখক দেখিয়েছেন যে, মানুষে-মানুষে যেমন প্রীতির সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে তেমনি অন্য জীবের সাথেও মানুষের তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। মানবেতর প্রাণী কুকুরের প্রতি লেখকের সহানুভূতি আলোচ্য গল্পের প্রকাশ পেয়েছে।

উদ্দীপকের ইমদাদ সাহেব পুত্র ইমনকে নিয়ে সিলেটে ভ্রমণে যান। সিলেটের চা বাগান, পাহাড় ও পাখি দেখে উভয়ে খুব আনন্দিত হলেও পাখি বিক্রির দৃশ্য দেখে দুজনের মন খারাপ হয়ে যায়। এই মানবেতর প্রাণীও সহানুভূতি পাওয়ার অধিকার আছে বলে ইমদাদ সাহেব মনে করেন। ঠিক এমনকি 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। কারণ যখন তিনি বুঝলেন কেউ তার অতিথির যত্ন নিচ্ছে না তখন তিনি নিজে তাদের তিরস্কার করে অতিথি আপ্যায়ন করেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের ইমদাদ সাহেব 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক চরিত্রের পরিচয় বহন করেন।

#

উদ্দীপকের ভাববস্তুটিকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের মূল প্রতিচ্ছবি বলা যায় কী? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

উদ্দীপকের ভাববস্তুটিকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের মূল প্রতিচ্ছবি বলা যায় না বলে আমি মনে করি।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখক দেওঘরের প্রাকৃতিক পরিবেশ আলোচনার পাশাপাশি একটি মানবেতর প্রাণীর প্রতি তার মমত্বের কথা ব্যক্ত করেছেন। দেওঘরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সেই পরিবেশে যারা বাস করে তারা লেখকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। বিকেলে গেটের বাইরে রাস্তায় বসে এলাকার লোকজন দেখতেন তিনি যেখানে, কতিপয় রোগা মেয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অতিথি কুকুরের প্রতি লেখকের মমত্ববোধ থাকলেও সে সকলের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয় এই বিষয়টিও লেখক স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। গল্পে লেখক মানুষ ও প্রাণীর সম্পর্কের একটি বিচিত্র রূপ প্রকাশ করেছেন।

উদ্দীপকে দেখানো হয়েছে মানুষ মানবেতর প্রাণীকে স্বাধীনমতো বাঁচতে দিচ্ছে না। ইমদাদ সাহেবের পাখির প্রতি মমত্ববোধ আছে বিধায় তিনি বলছেন প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা পরিহার করে আমাদের সহানুভূতিশীল হতে হবে। ইমদাদ সাহেব একজন মানুষ আবার পাখিবিক্রেতাও মানুষ কিন্তু দু'জনের পাখির প্রতি দু'রকমের অনুভূতি। প্রাণীজগতের প্রতি ইমদাদ সাহেবের যে মমত্ববোধ তা গল্পের লেখকের মাঝেও বিরাজমান। কিন্তু উদ্দীপকে প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার দিকটিই শুধু বর্ণিত হয়েছে। অপরদিকে গল্পে প্রাণীর সাথে মানুষের বিচিত্র সম্পর্ক ও একটি সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা আছে।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে একটি বিস্তৃত ক্যানভাসে প্রাণীর সাথে মানুষের সম্পর্কের চিত্রটি দেখানো হয়েছে। এছাড়াও সেখানে লেখকের অসুস্থতা, দেওঘরের প্রাকৃতিক পরিবেশ বর্ণনা ও সেখানকার সাধারণ লোকজনের বিষয়ে বর্ণনার দিকগুলো বিদ্যমান। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল পাখি ব্যবসায়ী ও পাখিদের প্রতি যে এরূপ নিষ্ঠুরতা ঠিক নয় সেই কথাই বলা হয়েছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, উদ্দীপকের ভাববস্তুটিকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের মূল প্রতিচ্ছবি বলা যায় না।