• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
অতিথির স্মৃতি (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

পাঁচ বছরের নীলের জন্য তার বাবা শহর থেকে খাঁচাসহ টিয়ে পাখি কিনে আনে। বাবার সাথে নীলও পাখিটার যত্ন নেয়। নীলের সাথে টিয়েটাও বাবাকে বাবা বলে ডাকে। পাখিটা পোষ মেনেছে ভেবে নীল একদিন চুপিচুপি খাঁচার দরজা খুলে দেয়। অমনি পাখিটা উড়ে চলে যায়। পাখিটার জন্য বাড়ির সবার মন খারাপ হয়। পরদিন সকালে পাখিটা ফিরে এসে 'বাবা', 'বাবা' ডাকতে থাকলে সবাই অবাক হয়ে যায়। নীলের বাবা ভাবে তার হারিয়ে যাওয়া ছেলে ফিরে এসেছে।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে লেখকের কীসের ভাবনা ছিল?

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে উল্লিখিত বেনে-বৌ পাখি দুটি ফিরে আসবে কি না- এই নিয়ে লেখকের ভাবনা ছিল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

অতিথি প্রথম দিন বাড়ির ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো।

অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকে অতিথি ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিনের জন্য দেওঘরে গিয়েছিলেন। সেখানে পথ চলতে গিয়ে একটি কুকুরের সঙ্গে লেখকের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে অতিথি সম্বোধন করে বাড়ির ভেতরে ডাকলে কুকুরটি ভেতরে ঢুকতে সাহস পায় না। মূলত, অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকেই অতিথি ভেতরে ঢোকার সাহস পায় না।

#

উদ্দীপকে পাখিটির ফিরে আসা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা করো।

উদ্দীপকে পাখিটির ফিরে আসা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের মানুষের প্রতি প্রাণীরও যে মমতা ও ভালোবাসার সৃষ্টি হতে পারে সে বিষয়টিকে নির্দেশ করেছে।

'অতিথির সস্মৃতি' গল্পের লেখক দেওঘরে এসেছিলেন বায়ু পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে। এসময় এক পথের কুকুরের সঙ্গে তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে। তিনি কুকুরটিকে অতিথির মর্যাদা দিয়ে আদর-যত্ন করেন। ফলে কুকুরটিও তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। লেখক চলে যাওয়ার সময় সে বিদায় জানাতে স্টেশনে যায়। লেখককে নানা সময়ে সঙ্গও দেয়।

উদ্দীপকে পোষা টিয়া পাখিটির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। আচমকা একদিন খাঁচার দরজা খুলতেই পাখিটি উড়ে যায়। পাখিটির জন্য সকলের মন খারাপ হয়ে গেলেও পুনরায় পাখিটির ফিরে আসা সবাইকে স্বস্তি দেয়। এতে মানুষের মতো পশু-পাখিরও মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকও একটি পথের কুকুরের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন। মূলত, ইতর প্রাণীও মানুষকে ভালোবাসতে পারে। উদ্দীপকের নীলের পরিবার এবং গল্পের লেখক একই অনুভূতি লাভ করেছিলেন। এ বিবেচনায় উদ্দীপকের পাখিটির ফিরে আসা আলোচ্য গল্পের কুকুরটির বশ্যতার প্রসঙ্গকে নির্দেশ করে।

#

নীলের বাবাকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের প্রতিনিধি বলা যায় কি? উত্তরের সপক্ষে তোমার মতামত দাও।

প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের নীলের বাবাকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের প্রতিনিধি বলা যায়।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের মাঝে পশু-পাখির প্রতি সহানুভূতিশীল মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে। এ গল্পে একটি পথের কুকুরকে তিনি অতিথির মর্যাদা দান করেন। ধীরে ধীরে কুকুরটির প্রতি তিনি মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। কুকুরটির সঙ্গে লেখকের কয়েক দিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে নিবিড় সম্পর্ক।

উদ্দীপকে প্রাণীর প্রতি নীলের বাবার সহানুভূতি প্রকাশিত হয়েছে। শহর থেকে একটি টিয়ে পাখি কিনে এনে তিনি তার যত্ন শুরু করেন। একদিন নীল খাঁচার দরজা খুলে দিলে পাখিটি উড়ে যায়। ইতোমধ্যে পাখিটি নীলের বাবার কাছে সন্তানের মতো হয়ে উঠেছে। তাই পাখিটির অনুপস্থিতি তাকে কষ্ট দেয়। পরদিন পাখিটির ফিরে আসা নীলের বাবাকে সন্তান ফিরে পাওয়ার মতোই আনন্দ দেয়।
পরিবেশ এবং ঘটনা আলাদা হলেও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে প্রদত্ত উদ্দীপকের নীলের বাবা এবং 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অনুভূতি একই। কেননা, উভয়ক্ষেত্রেই প্রাণীর সঙ্গে একজন মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মমত্বের সম্পর্কের দিকটি ফুটে উঠেছে। মানুষে মানুষে যেমন স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তেমনি তা অন্য জীবের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। পোষা পাখিটির প্রতি নীলের বাবার আন্তরিকতা গল্পের লেখকেরই সমান্তরাল। আবার তাদের অনুপস্থিতি দুজনকেই সমানভাবে ব্যথিত করেছে। আর তাই সার্বিক বিবেচনায় উদ্দীপকের নীলের বাবাকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের প্রতিনিধি বলা যায়।