- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট সংবাদপত্রে খবর বের হয়েছে যে, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে একজন নারী দেড় কেজি কাঁচা রসুন খেয়ে মরণাপন্ন হয়েছে। ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক শারমিন ইয়াসমিন বলেন, এ ধরনের ভিত্তিহীন পরামর্শের কারণে মানুষ অনেক সময় মূল স্বাস্থ্যবিধি বাদ দিয়ে অন্যদিকে ঝুঁকে যেতে পারে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে নারীটির কার্যক্রম 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কোন দিককে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে উল্লিখিত করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে নারীটির চেষ্টা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের রোগমুক্তি ও বায়ু পরিবর্তনের দিকটিকে নির্দেশ করে।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক চিকিৎসকের আদেশে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে যান। যদিও তিনি জানতেন বায়ু পরিবর্তনে তেমন কোনো উপকার পাওয়া যায় না। সেখানে তিনি বিকেলবেলা পথের ধারে বসে অনেকরকম মানুষ দেখেন, যারা সুস্থ থাকার জন্য হাঁটতে বের হন। এর মধ্যে বেরিবেরি রোগে পা ফোলা রোগীও ছিল।
উদ্দীপকের নারীটি করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে দেড় কেজি পরিমাণ কাঁচা রসুন খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁর ধারণা ছিল রসুন খেলে করোনায় আক্রান্ত হবেন না। কিন্তু তাঁর ধারণা ছিল ভুল ও ভিত্তিহীন। আলোচ্য গল্পেও আমরা রোগ থেকে সেরে উঠতে লেখককে দেওঘরে যেতে দেখি, যা রোগ সারাতে তেমন কার্যকর নয়। আবার লেখক সেখানকার কিছু অসুস্থ মানুষদেরও বিকেলবেলা হাঁটতে দেখেছেন। আর রোগমুক্তির জন্য নানানরকম চেষ্টার দিকটিই আলোচ্য গল্পের সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য তৈরি করেছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে বেঁচে যাওয়া খাবার চেঁচেপুঁছে নিয়ে গেছে কে?
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে বেঁচে যাওয়া খাবার চেঁচেপুঁছে নিয়ে গেছে মালি-বৌ।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে দরিদ্র ঘরের মেয়েটিকে দেখে লেখকের দুঃখ হতো কেন?
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে দরিদ্র ঘরের মেয়েটির শোচনীয় অবস্থার কারণে তাকে দেখে লেখকের দুঃখ হতো।
দরিদ্র ঘরের মেয়েটি ছিল রুগ্ন। তার বয়স চব্বিশ-পঁচিশ হলেও শরীর ছিল শীর্ণ, মুখ ফ্যাকাশে। তাকে এতটাই শক্তিহীন মনে হতো যে, নিজেকে বহন করার ক্ষমতাও বুঝি ছিল না তার। তবু সবচেয়ে ছোট ছেলেটিকে কোলে নিয়ে চলতে হতো তাকে। এছাড়াও মেয়েটির চোখে-মুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। এসব দেখে মেয়েটির জন্য লেখকের দুঃখ হতো।
"উদ্দীপকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের সমগ্র ভাব ফুটে ওঠেনি।"-মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে রোগমুক্তির জন্য নারীটির ভিত্তিহীন আচরণ ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ডাক্তারের পরামর্শের দিকটি উঠে এসেছে, যা 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের পূর্ণরূপ নয়।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক দেওঘরে বায়ু পরিবর্তন করতে আসেন। সেখানে তিনি একদিন হাঁটতে বেরুলে সঙ্গী হিসেবে একটি কুকুরকে পান। তার সঙ্গে তৈরি হয় লেখকের এক মমত্বের সম্পর্ক। একটি অবহেলিত প্রাণীর সঙ্গে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এমন মমত্বের সম্পর্কই এ গল্পের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।
উদ্দীপকের নারীটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে এক অদ্ভুত আচরণ করে বসেন। তিনি দেড় কেজি পরিমাণ কাঁচা রসুন খেয়ে মরণাপন্ন হয়ে পড়েন। তাঁর এমন কর্মকান্ডকে ডাক্তার ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
'অতিথির স্মৃতি' গল্পে রোগমুক্তির জন্য নানানরকম চেষ্টার দিক উঠে এসেছে। কিন্তু গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে প্রাণীর প্রতি লেখকের অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটি। পথের সামান্য একটি কুকুরের জন্য লেখক অনুভব করেছেন গভীর মমত্ব। কুকুরটিও তার আচরণের মাধ্যমে প্রবল আনুগত্য প্রকাশ করেছে। কিন্তু আলোচ্য উদ্দীপকে উঠে এসেছে রোগমুক্তির জন্য নানানরকম চেষ্টার দিকটি, যা আলোচ্য গল্পের কেবল একটি প্রসঙ্গকে তুলে ধরে। ফলে উদ্দীপকটি আলোচ্য গল্পের সমগ্রভাবকে তুলে ধরতে পারেনি।

