• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • অতিথির স্মৃতি (গদ্য)
অতিথির স্মৃতি (গদ্য)

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

নীলফামারীর সৈয়দপুরের ৫৮ বছর বয়সি নারী ফরিদা বেওয়া। স্বজন বলতে তার কেউ নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলের একজন মারা যায়, আরেকজন হারিয়ে যায়। এরপর প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি একেবারেই একা। কিন্তু হতাশা বা বিষণ্ণতা কখনোই তাকে পেয়ে বসেনি বরং একাকী জীবনকে তিনি উজাড় করে দিয়েছেন পথের বিড়াল-কুকুরদের জন্য, প্রতিদিন দিনমজুরি করে যে টাকা পান তা দিয়ে নিজের মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের খাবারে খরচ করেন তিনি। প্রতিদিন খাবার রান্না করে ২০ থেকে ৩০টি কুকুর-বিড়ালকে খাওয়ান। এখন ওরাই ফরিদা বেওয়ার পরিবার, ওদের জন্যই তার বেঁচে থাকা।

ফরিদা বেওয়ার কর্মকান্ডের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কী সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।

ফরিদা বেওয়ার কর্মকান্ডের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের প্রাণীর সাথে মানুষের গড়ে ওঠা মমত্ববোধের সাদৃশ্য রয়েছে।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে অসুস্থ লেখকের সাথে একটি কুকুরের মমতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। গল্পের অসুস্থ লেখক দেওঘরে গেলে সেখানে একদিন একটি কুকুরের সাথে তাঁর দেখা হয়। এরপর থেকে কুকুরটি তাঁর প্রতিদিনের বেড়াবার সঙ্গী হয়ে ওঠে। তিনি বাড়ির চাকরদের বলেন, কুকুরটি তাঁর অতিথি এবং তাকে যেন ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয়। তিনি নিজেও সাধ্যমতো কুকুরটির যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেন।

উদ্দীপকের ফরিদা বেওয়া একজন অসহায় নারী। স্বামী-সন্তান হারিয়ে তিনি কুকুর-বিড়ালদের জন্য তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি তার আয়ের অধিকাংশ টাকা কুকুর-বিড়ালদের খাবারের পিছনে ব্যয় করেন। আর এই কুকুর-বিড়ালেরাই যেন তার পরিবার। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে যেমন লেখকের সাথে একটি কুকুরের স্নেহ-মমতার বন্ধনের চিত্র ফুটে উঠেছে, ঠিক একইভাবে উদ্দীপকেও ফরিদা বেওয়ার সাথে পথের কুকুর-বিড়ালদের অকৃত্রিম ভালোবাসার বন্ধন প্রকাশ পেয়েছে। এদিক থেকেই তার কর্মকাণ্ডের সাথে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের মানবেতর প্রাণীর সাথে গড়ে ওঠা মমত্ববোধের সাদৃশ্য রয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'কুঞ্জ' কী?

'কুঞ্জ' হলো লতাপাতায় আচ্ছাদিত বৃত্তাকার স্থান বা উপবন।

#

অতিথির সাথে কীভাবে লেখকের দেখা হয়েছিল?

একদিন সন্ধ্যাবেলায় পথে হাঁটতে হাঁটতে অতিথির সাথে লেখকের দেখা হয়েছিল।

অসুস্থ লেখক একদিন সন্ধ্যার দিকে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। অন্ধকার হয়ে এলে লেখক ভেবেছিলেন তিনি একা, সাথে কেউ নেই। তখনই হঠাৎ পিছনে তাকিয়ে দেখেন একটি কুকুর তাঁর পিছন পিছন আসছে। তখন তিনি কুকুরটিকে বললেন অন্ধকার পথটায় তাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে। জবাবে কুকুরটিও দূরে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। এরপর কুকুরটির সাথে কথা বলতে বলতে লেখক বাড়ি পৌঁছে যান। এভাবে অতিথির সাথে লেখকের দেখা হয়েছিল।

#

'উদ্দীপকের ফরিদা বেওয়ার সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।'- 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

বোবা প্রাণীর প্রতি গভীর মমতা প্রকাশের দিক থেকে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের সাথে ফরিদা বেওয়ার চেতনাগত মিল থাকলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে অসুস্থ লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েক দিনের সফরে দেওঘরে যান। সেখানে একটি কুকুরকে তিনি সঙ্গী হিসেবে পান। কুকুরটির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে লেখক তাকে অতিথির মর্যাদায় বরণ করে নেন। প্রাণীর প্রতি লেখকের এই মমত্ববোধের দিকটি 'অতিথি স্মৃতি' গল্পের মূলবক্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।

উদ্দীপকে ফরিদা বেওয়া ৫৮ বছর বয়সি একজন নিঃসঙ্গ নারী। তার নিঃসঙ্গ জীবনের সঙ্গী হিসেবে তিনি পথের কুকুর-বিড়ালকে বেছে নেন। তিনি নিজের উপার্জনের বেশির ভাগ টাকা দিয়ে কুকুর-বিড়ালদের খাবার খাওয়ান। তাদেরকেই নিজের পরিবার মনে করেন।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কুকুরটির সাথে লেখকের ভালোবাসার ও মমত্ববোধের সম্পর্ক ছিল মাত্র কিছুদিনের। কিন্তু উদ্দীপকে পথের কুকুর-বিড়ালদের সাথে ফরিদা বেওয়ার স্নেহের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কুকুর-বিড়ালেরাই নিঃসঙ্গ ফরিদা বেওয়ার বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রে চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপটপত ভিন্নতা রয়েছে।