- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
প্রাপ্তি এবং দীপ্ত ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রাপ্তির বাবা বিদেশি গাড়ির আমদানিকারক। প্রাপ্তির বাবা এ বছর সর্বোচ্চ করদাতার পুরষ্কার পেয়েছেন। দীপ্তর বাবা একটি ব্যাংকের জি. এম. পদে কর্মরত। দীপ্তর বাবাও প্রতিবছর সরকারকে কর প্রদান করেন।
প্রাপ্তির বাবা সরকারকে যে ট্যাক্স দেন তা সরকারের আয়ের প্রধান উৎস- ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে প্রাপ্তির বাবা সরকারকে বাণিজ্য শুল্ক প্রদান করেন যা সরকারের আয়ের প্রধান উৎস।
দেশের আমদানি ও রপ্তানিকৃত দ্রব্যের ওপর বাণিজ্য শুল্ক ধার্য করা হয়। বাণিজ্য শুল্ক সরকারের কর রাজস্বের আওতাধীন। আমরা জানি, যেকোনো দেশের আমদানি-রপ্তানিকে কেন্দ্র করেই সে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য আবর্তিত। আমাদের বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের প্রয়োজনে আমরা বহির্বিশ্ব থেকে অনেক কিছু আমদানি করি; আবার বেশকিছু দ্রব্য রপ্তানিও করে থাকি। উভয় ক্ষেত্রেই সরকার বাণিজ্যিক শুল্ক ধার্য করেছে। কেননা বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ সাধন, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। আর এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকেও প্রচুর পরিমাণ অর্থ আয় করতে হয়। তবে বাণিজ্য শুল্ক ছাড়াও সরকারের আয়ের বহু উৎস রয়েছে। কিন্তু সরকার বাণিজ্য শুল্ক থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ আয় করে থাকে।
উদ্দীপকে প্রাপ্তির বাবা বিদেশি গাড়ির আমদানিকারক। তিনি এবছর সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার পেয়েছেন। অতএব প্রাপ্তির বাবা যে কর দেন তা হচ্ছে বাণিজ্য শুল্ক। আর বাংলাদেশ সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে বাণিজ্য শুল্ক।
কাজেই প্রাপ্তির বাবা সরকারকে যে কর দেন তা সরকারের আয়ের প্রধান উৎস এতে সন্দেহ নেই।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কৃষি ও পল্লি উন্নয়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বার্ষিক ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম হার কত?
কৃষি ও পল্লি উন্নয়নের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বার্ষিক ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম হার শতকরা ২৫ ভাগ।
বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাতটি ব্যাখ্যা কর।
বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো শিক্ষা।
শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশকে অশিক্ষার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারকে সাম্প্রতিককালে এ খাতে প্রচুর ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসার জন্য অনুদান, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিস্তারের নতুন নতুন কার্যক্রমে যথেষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীপ্তর বাবা সরকারকে কোন ধরনের ট্যাক্স দেন? ব্যাখ্যা কর।
দীপ্তর বাবা একটি ব্যাংকের জিএম পদে কর্মরত। অতএব দীপ্তর বাবা প্রতি বছর যে কর প্রদান করেন তা হচ্ছে আয়কর।
আয়কর বাংলাদেশ সরকারের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। জনসাধারণের ব্যক্তিগত আয়ের ওপর এ কর ধার্য করা হয়। রাংলাদেশে যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার উর্ধ্বে তাদের নিকট থেকে প্রগতিশীল হারে আয়কর আদায় করা হয়। যাদের করযোগ্য আয় আছে তাদেরকে আয়কর দিতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তিকে যেমন কর দিতে হয় তেমনি এসোসিয়েশন অব পারসন, কোম্পানি, ফার্মকেও কর দিতে হয়। অর্থাৎ যারা আয়কর দেন আইনের ভাষায় তারা সবাই ব্যক্তি। আমার দেশের আয়কর ও এই সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রিত হয় আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ দ্বারা। এর আগের আইনটি ছিল ১৯২২ সালে। এই আইন অনুসারে সংসদের অনুমোদন ছাড়া কোনো করারোপ করা সিদ্ধ নয়। সংসদ প্রতিবছর ফাইন্যান্স এ্যাক্ট আকারে নতুন করহার নির্ধারণ করে থাকে।
উদ্দীপকে দীপ্তর বাবা একটি ব্যাংকের এজিএম পদে কর্মরত। সেখান থেকে তিনি যে আয় করেন তার উপর সরকারকে কর প্রদান করেন। আর আয়ের উপর যে কর প্রদান করা হয় তাকে আয়কর বলে। অতএব বলা যায়, দীপ্তর বাবা সরকারকে আয়কর বা ইনকাম ট্যাক্স দেন।

