- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
সরকারি অর্থব্যবস্থা কাকে বলে?
সরকারি অর্থব্যবস্থা বলতে রাষ্ট্রের আয় ও ব্যয়সংক্রান্ত নীতি ও পদ্ধতিকে বোঝায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মূল্য সংযোজন কর সরকারি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস- ব্যাখ্যা কর।
মূল্য সংযোজন কর বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় ভ্যাট (Value Added Tax) নামে পরিচিত। বর্তমানে আমাদের দেশে আমদানিকৃত দ্রব্য ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দ্রব্য এবং নির্ধারিত কতকগুলো সেবা খাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হলো মূল্য সংযোজন কর।
'R' দ্বারা বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের কোন খাতকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের 'R' দ্বারা বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের শিক্ষাখাতকে নির্দেশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্রদ্র্য বিমোচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে থাকে। এছাড়াও সরকার যে সকল খাতে অর্থ ব্যয় করে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো শিক্ষা খাত। শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশকে অশিক্ষার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারকে সাম্প্রতিককালে এ খাতে প্রচুর ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসার জন্য অনুদান, উপবৃত্তি, ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিস্তারের নতুন নতুন কার্যক্রমে যথেষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে।
উদ্দীপকে 'R'-এ সরকারের শিক্ষা খাতের ব্যয়ের কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যেমন- শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান, প্রতিবছর প্রাইমারি ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই প্রদান এবং প্রতিটি বিদ্যালয় ও কলেজে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন সরকারের এসব বিষয়ে অর্থ ব্যয় মূলত শিক্ষাকেন্দ্রিক, তাই 'R' দ্বারা বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষাখাতে ব্যয় করাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
"ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে 'P' ও 'Q' ব্যাংকের কার্যাবলিতে ভিন্নতা রয়েছে।"- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে 'P' কে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মালিকানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে এবং 'Q' কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলি তুলে ধরা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত যেসব কাজ করে তার মধ্যে অন্যতম হলো দেশের কাগজি মুদ্রার প্রচলন এবং সরকারের বাজেট প্রণয়নে সহায়তা - করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত সরকারের ব্যাংক অন্যদিকে 'P' ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংক-এর ক্ষেত্রে দেখা যায়। বাণিজ্যিক ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানা হতে পারে যেমন- সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ইত্যাদি। ব্যক্তি মালিকানায় ব্যাংক গড়ে ওঠতে পারে। যেমন- সিটি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ইত্যাদি। তাছাড়া বিদেশি মালিকানায়ও গড়ে উঠতে পারে। যেমন- স্টান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক লিমিটেড।
ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে 'P' ও 'Q' ব্যাংকের কার্যাবলিতে ভিন্নতা রয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হয়েছে 'P' দ্বারা বাণিজ্যিক ব্যাংক ও 'Q' দ্বারা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ করা হয়েছে। তাই 'P' ও 'Q' ব্যাংক যেহেতু একই ধারার ব্যাংক নয়, তাই তাদের কার্যাবলিতে তারতম্য থাকা স্বাভাবিক।
কেন্দ্রীয় বাংক যেহেতু সকল ব্যাংকের ব্যাংক এবং সকল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকর্তা আই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যখন আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয় এবং অন্যকোনো উৎস থেকে ঋণ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তখন বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হতে। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে. আর্থিক সংকটের হাত থেকে রক্ষা করে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সর্বশেষ পর্যায়ের ঋণদাতা বলা হয়। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক ব্যাংক জনসাধারণের কাছ থেকে গৃহীত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ গচ্ছিত রেখে অবশিস্ট অর্থ ব্যাংক ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের এবং সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন স্কিমে ঋণ প্রদান করে। ঋণ প্রদানের এ কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালনা করে না। উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হয়েছে 'P' দ্বারা বাণিজ্যিক ব্যাংক ও 'Q' দ্বারা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ করা হয়েছে। তাই 'P' ও 'Q' ব্যাংক যেহেতু একই ধারার ব্যাংক নয়, তাই তাদের কার্যাবলিতে তারতম্য থাকা স্বাভাবিক।

