- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
প্রাচীন বাংলার ধর্মীয় অবস্থা
প্রাচীন বাংলায় বৈদিক ধর্মের আগে অন্য কোনো ধর্মমত ছিল কি না, সে সম্পর্কে সঠিক কিছু জানা যায় না।
তবে সে সময়ে বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষ প্রকৃতি পূজা, অর্চনা ও সংস্কারে বিশ্বাসী ছিল। বিশ্বাসের প্রকৃতি একই রকম ছিল না। বর্ণ, কৌম, জনপদ ভেদে এদের ধর্মচর্চার বিভিন্নতা দেখা যায়। তবে সাধারণ ধর্মীয় লোকাচারের মধ্যে মনসা পূজা, বৃক্ষপূজা-সহ নানান কিছু প্রচলিত আছে। খাসিয়া, মুন্ডা, সাঁওতাল, বুনো রাজবংশী শবর প্রভৃতি জাতিসত্তার মানুষ এখনো দেবতার আসনে গাছ-পাথর-পাহাড়-পশু-পাখি-ফল-মূলের পূজা করে।
খ্রিষ্টপূর্ব চার শতক থেকেই উপমহাদেশের তিনটি বৃহৎ ধর্ম-বৈদিক, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের প্রভাব বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে। খ্রিষ্টীয় তৃতীয় ও চতুর্থ শতক পর্যন্ত এখানে আর্য-বৈদিক ধর্ম ও সংস্কৃতি প্রসার লাভ করেনি। উত্তর ভারত থেকে এসে ব্রাহ্মণেরা বঙ্গদেশের নানা জায়গায় বসতি স্থাপন করেছিল। এভাবে ষষ্ঠ শতকে বৈদিক ধর্ম ও সংস্কৃতির ঢেউ বাংলার সীমানা পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
পাল যুগেও বৈদিক ধর্মের প্রভাব-প্রতিপত্তি অটুট ছিল। বর্ম ও সেন রাজাদের প্রায় সকলেই ব্রাহ্মণ্য ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। এই দুই বংশের রাজত্বকালে বৈদিক ধর্ম আরও প্রসার লাভ করে। তখন বৌদ্ধধর্ম অনেকখানি ম্লান হয়ে গিয়েছিল। বৈদিক যাগ-যজ্ঞে পৌরাণিক দেব-দেবী ও বিশেষ বিশেষ তিথি-নক্ষত্রে স্নান-দান-ধ্যান-ক্রিয়াকর্মের প্রচলন শুরু হয়। নামকরণ, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন, গৃহপ্রবেশ ইত্যাদি সংস্কার বাংলার ব্রাহ্মণ্য সমাজে ছড়িয়ে পড়ে।
বৈদিক ও ব্রাহ্মণ্য ধর্ম বাংলার বুকে দ্রুত প্রসার লাভ করলেও কালক্রমে এর মধ্যে বিবর্তন দেখা দেয়। এ যুগে পূর্বের দেব-দেবীর পরিবর্তে নতুন নতুন দেব-দেবীর পূজা শুরু হয়। এ নতুন দেব-দেবীরা ছিলেন মূলত পুরাণ ও মহাকাব্যে বর্ণিত দেব-দেবী। তাই এ ধর্মকে 'পৌরাণিক ধর্ম' বলা হয়। পুরোহিতরা ধর্ম-কর্ম পরিচালনা করার সার্বিক দায়িত্ব লাভ করেন। ধর্মীয় ক্রিয়াকাণ্ডে জটিলতা বেড়ে যায়। দেবতার বেদিতে দুধ ও ঘৃত উৎসর্গের পাশাপাশি পশুবলি বৃদ্ধি পায়। বহু বিচিত্র রীতি-নীতি, প্রথা-পদ্ধতি ধর্মের অঙ্গ হিসেবে দেখা দেয়। পৌরাণিক পূজা-পার্বণের রীতি-নীতি ও ক্রিয়াকলাপ থেকে যে সকল ধর্ম সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়, সেগুলোর মধ্যে বৈষ্ণবধর্ম সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। গুপ্তযুগে শিবধর্মও প্রচলিত ছিল। এ সকল দেব-দেবীর পূজা ব্যতীত শক্তি ও সূর্যপূজা ছিল সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। উত্তরবঙ্গে জৈন সম্প্রদায়ও বিদ্যমান ছিল।
প্রাচীন বাংলায় বৌদ্ধধর্ম একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। পাল রাজাদের সুদীর্ঘ চার'শ বছরের রাজত্বকালে তাঁদের সক্রিয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা-বিহার ছাড়িয়ে এ ধর্ম আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও প্রতিষ্ঠা লাভকরেছিল।
সেন যুগে বিষ্ণু, শিব, পার্বতী প্রভৃতি দেব-দেবীর পূজা ব্যাপকতা লাভ করে এবং বহু মন্দির নির্মিত হয়। এ সময় ব্রাহ্মণ্য ধর্মের দাপটে বৌদ্ধধর্ম অনুসারীদের অবস্থা ম্রিয়মাণ হয়।
একক কাজ: প্রাচীন বাংলার ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর নাম উল্লেখ করো।
প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

