• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • প্রবন্ধ রচনা
প্রবন্ধ রচনা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

তোমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা

তোমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা

"জীবনের শুরু হয় নানারকম ঘটনার ঘনঘটা নিয়ে,
জীবনের পরিণতি ব্যথা আর বেদনার শোক তাপ দিয়ে।"

ভূমিকা: মানবজীবন ক্ষণস্থায়ী। এর মধ্যেই জীবনে ঘটে অনেক ঘটনা। সমৃদ্ধ হয় স্মৃতির ভান্ডার। কোনো স্মৃতি আনন্দের, কোনো স্মৃতি বেদনার। আনন্দের ঘটনাগুলো স্মৃতি হয়ে মনকে রোমাঞ্চিত করে, আর বেদনার স্মৃতিগুলো আঘাতে আঘাতে হৃদয়কে করে জর্জরিত এবং ক্ষতবিক্ষত। ছোট ছোট ঘটনাগুলো কালের আবর্তে হারিয়ে যায়, আর বড়গুলো স্মরণীয় হয়ে থাকে। এমন অনেক ঘটনা থাকে মানুষের জীবনে যা ভুলে থাকা যায় না। আমার জীবনেও এ রকম ঘটনা আছে, যা প্রতিনিয়ত আমাকে আঘাত হানে, কষ্ট দেয়। ঘটনাটি ঘটেছিল 'কয়েক বছর আগে। সে দিনটি আজো আমার কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।

স্মরণীয় ঘটনা ঘটনাটি আমার শিক্ষাজীবনের সাথে জড়িত। আমি ছিলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার উজান গোবিন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। এখান থেকে পাস করে ভর্তি হয়েছিলাম দুপ্তারা সেন্ট্রাল করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে। এখানে চার বছর পড়ালেখার পর রাজনৈতিক কারণে আমাকে স্কুল বদলাতে হয়েছে। ভর্তি হয়েছিলাম মদনপুরে অবস্থিত রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৯০ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম এই বিদ্যালয় থেকে।

সে বছর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আমরা এস.এস.সি পরীক্ষার্থী ছিলাম সত্তর জন। শফিক উল্লাহ নামে আমাদের একজন সহপাঠী ছিল। সে ছিল নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের সন্তান। তার ব্যবহার ছিল অমায়িক। সকলের সঙ্গেই সে এক মুহূর্তে মিশে যেতে পারত। এটাই ছিল তার একমাত্র বড় গুণ। কিন্তু পড়ালেখায় অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তার মতো অমনোযোগী ছাত্র আমি আর কোথাও দেখিনি। সে নাকি কখনোই কোনো ক্লাসের পরীক্ষায় পাস করেনি। প্রত্যেক ক্লাসেই দুবছর ফেল করার পর শিক্ষকরা তাকে তুলে দিতেন উপরের ক্লাসে। দশম শ্রেণিতেও সে দু বছর পড়েছে। শিক্ষকদের বেতের ভয়ে সব সময় শ্রেণিকক্ষে পেছনের বেঞ্চে বসত সে। দু তিন পিরিয়ড ক্লাস চলার পর আর তার দেখা পাওয়া যেত না। হয়ত কোথাও মাছ ধরতে চলে গেছে, নয়ত কারও সাথে সিনেমায়। না হয় কখনো কোথাও যাত্রা দলের আগমন ঘটেছে শুনে সেখানে চলে গেছে সে। এই ছিল শফিক উল্লাহর চিরাচরিত স্বভাব।

শফিক উল্লাহ আমাদের সঙ্গে টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। শিক্ষকরা তাকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য মনোনীত করেননি নিশ্চিত ফেলের পরিসংখ্যান বেড়ে যাবে বলে। যেদিনপরীক্ষার ফল জানানো হয়েছিল সেদিন সে স্কুলেই আসেনি। বিকেলের দিকে আমরা কয়েকজন শফিক উল্লাহদের বাড়িতে গেলাম। গিয়ে দেখলাম মন খারাপ করে বসে আছে সে। লেখাপড়ায় মনোযোগী না হলেও ফেল করার পর ভীষণ মন খারাপ করার স্বভাব ছিল তার। আমরা তাকে নানাভাবে সান্ত্বনা দিলাম। চিন্তা না করতে অনুরোধ করলাম। কিন্তু কে শোনে কার কথা। উল্টো তার চোখ থেকে পানি নেমে এল। সে বলে, দীর্ঘদিনের স্কুল জীবনে আমরা নাকি তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। অথচ তাকে বাদ দিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় আমরা অংশগ্রহণ করব, এই বেদনা সে সহ্য করতে পারছিল না। তাছাড়া আগামী বছর থেকে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হবে, তখন সমস্যা হবে আরও অনেক বেশি।

আমরা শফিক উল্লাহর বাবাকে বললাম, তিনি যেন স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন করেন ছেলেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য। ছাত্রদের পক্ষ থেকে আমরাও আবেদন জানাব। শেষ পর্যন্ত আবেদন মঞ্জুর হয়েছিল। মৌখিকভাবে নানা ধরনের শর্ত আরোপ করে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল শফিক উল্লাহকে। অনুমতি পাওয়ার পর এমন আনন্দের ঝলক দেখেছিলাম তার চেহারায়, যা আর কোনোদিন কারও মুখে দেখিনি। যেন সে দু হাতে আকাশের চাঁদটাকেই পেয়ে গিয়েছিল। আমরাও তাকে বারবার চাপ দিচ্ছিলাম, শফিক উল্লাহ, ঠিকমত পড়, একটু মনোযোগী হও, এবার কিন্তু পাস করতে হবে। তা না হলে আর কখনোই তোমার পক্ষে এসএসসি পাস করা হবে না। কারণ, আগামী বছর থেকে নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হবে।

আমাদের পরামর্শ শফিক উল্লাহর মনে ধরেছিল। দুষ্টুমি একেবারে ছেড়ে না দিলেও পড়ালেখায় মনোযোগী হয়েছিল। বাড়িতেও পড়ত। স্কুলে এসে কোচিং ক্লাসেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করত। পরীক্ষার পূর্বদিন পর্যন্ত তার মধ্যে আর তেমন কোনো অনিয়ম দেখা যায় নি। আমরা সকলেই খুশি হয়েছিলাম। পরীক্ষার পর সে বলেছিল, মনে হয় এবার আমি ফেল করব না- অন্তত পাস করতে পারব।

একদিন টেলিভিশনের রাতের সংবাদে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা জানানো হলো। আমার যেন তর সইছিল না, কতক্ষণে রাত শেষ হবে আর রেলস্টেশনে গিয়ে ফলাফল দেখে নেব পত্রিকায়। সারারাত ঘুম হলো না, খুবই অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে কাটলো। সকাল হতেই স্টেশনের দিকে ছুটলাম। সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখলাম আরও কয়েকজন। আমরা ব্যস্ত হয়ে ফলাফলের পাতায় চোখ বুলাতে লাগলাম। আমি তিন বিষয়ে লেটার মার্কসহ প্রথম বিভাগে পাস করেছি। অন্যান্যদের মধ্যে আরও দুজন প্রথম বিভাগ এবং বাকিরা দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেছে।

এবার আমরা সবাই মিলে শফিক উল্লাহর রোল নম্বর খুঁজতে শুরু করলাম। প্রথমে তৃতীয় বিভাগে খুঁজলাম। একবার দেখে যখন পেলাম না, তখন আবার খুঁজলাম। কিন্তু পাওয়া গেল না। আমাদের মন খারাপ হলো। সে পাস করতে পারেনি। কতক্ষণ পর আরও একবার খুঁজলাম, না পেয়ে আমাদের একজন বলল, দ্বিতীয় বিভাগে খুঁজে দেখি না। তাই করা হলো। একজন চিৎকার করে বলল, এই যে পাওয়া গেছে, শফিক উল্লাহ দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেছে। সে কী আনন্দ আমাদের! মুহূর্তে যেন নিজেদের পাসের কথা ভুলে গেলাম আমরা। সবাই মিলে ছুটে চললাম শফিক উল্লাহদের বাড়ির দিকে।

বাড়িতে ওঠেই পেয়ে গেলাম শফিক উল্লাহর বাবাকে। তিনি জানালেন শফিক উল্লাহ স্টেশনের দিকে গেছে মিনিট দশেক আগে। আমরা পত্রিকা খুলে ফলাফল দেখালাম শফিক উল্লাহর বাবাকে। তিনি হাসবেন না কাঁদবেন বুঝতে পারছিলেন না। শুধু একবার শফিক উল্লাহর মাকে ডেকে বললেন, তোমার ছেলে পাস করেছে। শফিক উল্লাহর মা কাছে এসে দাঁড়ালেন। ছেলের পাস করার সংবাদটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কেবল তাকিয়েছিলেন ছলছল দৃষ্টিতে। এ সময়ে খবর এলো, স্টেশনে কে যেন রেলের নিচে কাটা পড়েছে। শুনে আমরা ছুটে গেলাম স্টেশনের দিকে।

মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। লোকজনকে ঠেলে ঠেলে আমি ভেতরে ঢুকলাম। দেখলাম, শফিক উল্লাহর দ্বিখণ্ডিত দেহটি পড়ে আছে নিথর হয়ে। চোখ দুটো তখনো তাজা। তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। আমার চিৎকার দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল কিন্তু পারছিলাম না। একটু পরেই পুলিশ এসে কাটা লাশ নিয়ে গেল রেলওয়ে থানায়। জানানো হলো, আপাতত লাশ দেওয়া হবে না। তারপর ডায়রি লেখা হলো। শফিক উল্লাহ কীভাবে মারা গেল, বিস্তারিতভাবে লেখা হলো ডায়রিতে। লাশ দেওয়ার দাবি জানিয়ে ব্যর্থ হলাম আমরা।

অবশেষে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলাম। অনেক কথা কাটাকাটির পর কর্তৃপক্ষ রাজি হলেন এক শর্তে, আমাদের সকলের স্বাক্ষরসহ লিখে দিতে হবে যে, ভবিষ্যতে এর জন্য রেলওয়েকে দায়ী করা যাবে না। আমরা তাই করলাম। তারপর শফিক উল্লাহর লাশ নিয়ে হাজির হলাম বাড়িতে। প্রথমেই চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলেন শফিক উল্লাহর মা'। কান্নাকাটি শুরু করল ভাইবোনেরা। সে কী কান্না! শফিক উল্লাহর বাবা কোনো শব্দ করলেন না। শুধু তাকিয়ে ছিলেন বোবা মানুষের মতো। চোখে কোনো পানি ছিল না। হয়তো অতি শোকে তিনি পাথর হয়ে গিয়েছিলেন। এমন দৃশ্য আমি আর কখনো দেখি নি। দিনটি আমার কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

উপসংহার: শফিক উল্লাহর আত্মহত্যা ছিল সত্যিই এক মর্মান্তিক ঘটনা। সে সবসময় পরীক্ষায় ফেল করত। তার ধারণা ছিল এস.এস.সি পরীক্ষায় সে পাস করতে পারবে না। তাই সে ফলাফল প্রকাশের সংবাদ শুনেই ফেলের কথা ভেবে আত্মহত্যা করেছিল রেলগাড়ির চাকার নিচে পড়ে। এটা আমার জীবনে সবচেয়ে মর্মান্তিক স্মরণীয় ঘটনা।

প্রবন্ধ রচনা - অনন্যা প্রশ্ন

বাংলাদেশের ষড়ঋতুসময়ের মূল্যস্বদেশপ্রেমচরিত্রঅধ্যবসায়শিষ্টাচারনিয়মানুবর্তিতাপিতামাতার প্রতি কর্তব্যনৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধসততা/সত্যবাদিতানাগরিক অধিকার ও কর্তব্যমানবকল্যাণে বিজ্ঞানকৃষিক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়োগ শিক্ষা বিস্তারে কম্পিউটার চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিজ্ঞানআধুনিক শিক্ষায় ইন্টারনেটবিদ্যুৎ ও আধুনিক জীবন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশবিশ্ব যোগাযোগে ইন্টারনেটের ভূমিকাজাতি গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকাকর্মমুখী শিক্ষাছাত্রজীবনের দায়িত্ব ও কর্তব্যপাঠাগারের প্রয়োজনীয়তানারীশিক্ষার গুরুত্বআমাদের বিদ্যালয়তোমার প্রিয় শিক্ষকমাদকাসক্তি ও তার প্রতিকারতোমার প্রিয় খেলাখেলাধুলার প্রয়োজনীয়তাআমার প্রিয় খেলা: হা-ডু-ডুএকটি দিনলিপিআমাদের গ্রামতোমার শৈশব স্মৃতিতোমার জীবনের লক্ষ্যতোমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনাআমার চারপাশের প্রকৃতিসুন্দরবনপরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকারবৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তাপ্রাকৃতিক দুর্যোগবাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ষড়ঋতুর বাংলাদেশ বর্ষাকালএকটি শীতের সকাল একটি বর্ষণমুখর দিনবাংলাদেশের নদনদীবাংলাদেশের বন্যাবসন্তকালএকটি পূর্ণিমা রাতকালবৈশাখীর রাতবৃক্ষমেলানদীতীরে সূর্যাস্তট্রেনে ভ্রমণদেশ ভ্রমণনৌকা ভ্রমণদেশভ্রমণে শিক্ষা ও আনন্দবনভোজনচিড়িয়াখানায় একদিনকুয়াকাটা সৈকতে একদিনবাংলাদেশের কৃষকশ্রমের মর্যাদাবাংলাদেশের কুটির শিল্পদ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও এর প্রতিকার বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা ও তার প্রতিকারবাংলাদেশের পোশাক শিল্পবাংলাদেশের পর্যটন শিল্পঅর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী সমাজের ভূমিকাখাদ্যে ভেজালসড়ক দুর্ঘটনা ও তার প্রতিকার শিশুশ্রমধানপাটচা শিল্পকী ধরনের বই আমার পড়তে ভালো লাগেআমার প্রিয় কবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানবই পড়ার আনন্দবাংলাদেশের পুরাকীর্তিমুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরবাংলা নববর্ষবিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরআমার প্রিয় ব্যক্তিত্বআমার মাসংবাদপত্র টেলিভিশনআমার স্বপ্নের বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিজয় দিবসমুক্তিযুদ্ধের চেতনাএকুশে বইমেলাবাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসআমাদের জাতীয় পতাকাশহিদ মিনারযানজটবাংলাদেশের পাখিসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশবাংলাদেশের একটি দর্শনীয় স্থানমেট্রোরেল প্রকল্প মোবাইল ফোনস্বপ্নের পদ্মা সেতু করোনা ভাইরাস ডেঙ্গু জ্বর ও তার প্রতিকারডিজিটাল বাংলাদেশকর্ণফুলী টানেল

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ