• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • আকাইদ ও নৈতিক জীবন
আকাইদ ও নৈতিক জীবন

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

আখিরাতের কয়েকটি স্তর

আখিরাত হলো পরকাল। মৃত্যু পরবর্তী জীবনকে আখিরাত বলে। এ জীবন চিরস্থায়ী ও অনন্ত। এ জীবনের কোনো শেষ নেই । আখিরাত বা পরকালের বেশ কয়েকটি স্তর বা পর্যায় রয়েছে। এ পাঠে আমরা সংক্ষেপে আখিরাতের বিভিন্ন স্তর বা পর্যায় সম্পর্কে জানব ।

ক. মৃত্যু

আখিরাত বা পরকালীন জীবনের শুরু হয় মৃত্যুর মাধ্যমে। সুতরাং মৃত্যু হলো পরকালের প্রবেশদ্বার। আল্লাহ তায়ালা সকল প্রাণীর মৃত্যু নির্ধারণ করে রেখেছেন। তিনি বলেন-

كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ

অর্থ : “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫)

দুনিয়ার কোনো প্রাণীই মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাবে না। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, সুস্থ-অসুস্থ, শাসক- শাসিত কেউই মৃত্যুকে এড়াতে পারবে না। যত বড় ক্ষমতাধারীই হোক আর যত সুরক্ষিত স্থানে বসবাস করুক সবার নির্দিষ্ট সময়ে মৃত্যু হবেই । এছাড়াও অন্যান্য প্রাণীরও মৃত্যু অনিবার্য । আল্লাহ তায়ালা বলেন-

أَيْنَ مَا تَكُونُوا يُدْرِكُكُمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوجٍ مُّشَيَّدَةٍ

অর্থ : “তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গে অবস্থান করলেও।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৭৮)

মৃত্যুর সাথে সাথে আখিরাতের জীবন শুরু হয় । পুণ্যবান মানুষের মৃত্যু হয় আল্লাহ তায়ালার রহমতের সাথে । আর পাপীদের মৃত্যু খুব কষ্টকর হয় ।

খ. কবর

মৃত্যুর পর থেকে পুনরুত্থান পর্যন্ত সময়কে কবরের জীবন বলা হয়। এর অপর নাম বারযাখ । এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ

অর্থ : “আর তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।” (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১০০)

দুনিয়াতে মানুষকে মৃত্যুর পর কবরস্থ করা হয়। এসময় মুনকার-নাকির নামক দুজন ফেরেশতা কবরে আসেন। তাঁরা মৃত ব্যক্তিকে তিনটি প্রশ্ন করেন। এগুলো হলো-

  • তোমার রব কে ?
  • তোমার দীন কী?
  • তোমার নবি কে? অথবা (রাসুল (স.) এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়) এই ব্যক্তি কে?

যাদের কবর দেওয়া হয় না তাদেরও এ প্রশ্ন করা হবে। দুনিয়াতে যারা ইসলাম অনুসারে জীবন পরিচালনা করবে তারা এ প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারবে। তাদের জন্য কবরের জীবন হবে শান্তিময়। আর যারা ইসলাম অনুসরণ করবে না তারা এসব প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না। তারা বলবে, 'আফসোস! আমি জানি না।' কবরের জীবনে তারা কঠোর শাস্তি ভোগ করবে।

গ. কিয়ামত

আকাইদ শাস্ত্রে কিয়ামত বলতে দুটি অবস্থাকে বোঝানো হয়।

প্রথমত : কিয়ামত অর্থ মহাপ্রলয়। আল্লাহ তায়ালা এ গোটা বিশ্ব মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষকে তাঁর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন । কিন্তু এমন একদিন আসবে যখন গোটা বিশ্বে মহান আল্লাহর ইবাদত করার মতো কেউ থাকবে না। এমনকি আল্লাহ নাম নেওয়ার মতোও কাউকে পাওয়া যাবে না । সকল মানুষ গোমরাহি ও নাফরমানিতে লিপ্ত হয়ে পড়বে। সেসময় আল্লাহ তায়ালা এ পৃথিবী ধ্বংস করে দেবেন। তাঁর নির্দেশে হযরত ইসরাফিল (আ.) শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন। ফলে চন্দ্র-সূর্য ও তারকারাজি খসে পড়বে, পাহাড় পর্বত তুলার ন্যায় উড়তে থাকবে, ভূগর্ভস্থ সবকিছু বের হয়ে যাবে, সকল প্রাণী মৃত্যু বরণ করবে এবং গোটা পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এ সময় শুধু আল্লাহ তায়ালা থাকবেন । আর কেউ বিদ্যমান থাকবে না । পৃথিবী ধ্বংসের এ মহাপ্রলয়ের নাম কিয়ামত ।

দ্বিতীয়ত : কিয়ামতের অন্য অর্থ দাঁড়ানো। পৃথিবী ধ্বংসের বহুদিন পর আল্লাহ তায়ালা আবার সকল জীব ও প্রাণীকে জীবিত করবেন। আল্লাহর নির্দেশে ইসরাফিল (আ.) পুনরায় শিঙ্গায় ফুঁক দেবেন। তখন মানুষ পুনরায় জীবিত হয়ে কবর থেকে উঠে হাশরের ময়দানে হিসাব নিকাশের জন্য সমবেত হবে। ঐ সময়ে কবর থেকে উঠে দাঁড়ানোকে বলা হয় কিয়ামত। একে ইয়াওমুল' বা 'আছ' বা পুনরুত্থান দিবসও বলা হয় । কিয়ামতের এ উভয়বিধ অবস্থা প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيْهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ
ينظُرُونَ

অর্থ : “আর শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। ফলে যাদের আল্লাহ ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সকলেই মূর্ছিত হয়ে পড়বে। অতঃপর আবার শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখনই তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে।” (সূরা আয্-যুমার, আয়াত ৬৮)

ঘ. হাশর

হাশর হলো মহাসমাবেশ। আল্লাহ্ তায়ালার নির্দেশে সকল মানুষ ও প্রাণীকুল মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হবে। সকলেই সেদিন একজন আহবানকারী ফেরেশতার ডাকে হাশরের ময়দানে সমবেত হবে। এ ময়দান বিশাল ও সুবিন্যস্ত। পৃথিবীর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল মানুষই সেদিন এ মাঠে একত্রিত হবে। মানুষের এ মহাসমাবেশকেই হাশর বলা হয় ।
হাশরের ময়দান হলো হিসাব নিকাশের দিন, জবাবদিহির দিন। এদিন আল্লাহ্ তায়ালা হবেন একমাত্র বিচারক। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন-

ملِكِ يَوْمِ الدِّينِ :

অর্থ : “তিনি (আল্লাহ) বিচার দিবসের মালিক।” (সুরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৩)

সেদিন সকল মানুষের সমস্ত কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে। হাশরের ময়দানে মানুষের আমলনামা দেওয়া হবে । যাঁরা পুণ্যবান তারা ডান হাতে আমলনামা লাভ করবেন । আর পাপীরা বাম হাতে আমলনামা পাবে ।

হাশরের ময়দান ভীষণ কষ্টের স্থান। সেদিন সূর্য মাথার উপর একেবারে নিকটে থাকবে । মানুষ প্রচণ্ড তাপে ঘামতে থাকবে । সেদিন আল্লাহ্ তায়ালার আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না । সাত শ্রেণির লোক সেদিন আরশের ছায়াতলে স্থান পাবে। এদের মধ্যে একশ্রেণি হলো সেসব ব্যক্তি যে যৌবনকালে আল্লাহর ইবাদত করেছে। হাশরের ময়দানে পানীয় জলের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। একমাত্র হাউজে কাউছারের পানি থাকবে। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) সেদিন তাঁর খাটি উম্মতগণকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন। পাপীরা সেদিন তৃষ্ণায় নিদারুণ কষ্ট ভোগ করবে ।

বস্তুত পুণ্যবানগণ হাশরের ময়দানে নানাবিধ সুবিধাজনক স্থান লাভে ধন্য হবেন। পক্ষান্তরে পাপীরা হাশরের ময়দানেই কঠোর শাস্তি ভোগ করবে ।

ঙ. মিযান

মিযান অর্থ পরিমাপক যন্ত্র বা দাঁড়িপাল্লা । হাশরের ময়দানে মানুষের আমলসমূহ ওজন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা যে পাল্লা প্রতিষ্ঠা করবেন তাকে মিযান বলা হয়। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন-

وَنَضْحُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيمَةِ

অর্থ : “আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব।” (সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৪৭ )

মিযানের পাল্লায় মানুষের পাপ পুণ্য ওজন করা হবে। যার পুণ্যের পাল্লা ভারী হবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে । আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে সে হবে জাহান্নামি ।

চ. সিরাত

সিরাত এর শাব্দিক অর্থ পথ, রাস্তা, পুল, সেতু ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের ভাষায় সিরাত হলো হাশরের ময়দান হতে জান্নাত পর্যন্ত জাহান্নামের উপর দিয়ে চলমান একটি উড়াল সেতু। (তিরমিযি)। এ সেতু পার হয়ে নেক আমলকারী বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আখিরাতে সকল মানুষকেই এ সেতুতে আরোহণ করে তা অতিক্রম করতে হবে। সিরাত সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে, এটা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।" (সুরা মারইয়াম, আয়াত ৭১ )

এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন, “জাহান্নামের উপর সিরাত স্থাপিত হবে।” (মুসনাদে আহমাদ)

নেক আমলকারী বান্দাগণকে মহান আল্লাহ জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দেবেন। জান্নাতিগণ সিরাতের উপর দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। নেককারদের জন্য তাঁদের আমল অনুসারে সিরাত প্রশস্ত হবে । ইমানদারগণ নিজ নিজ আমল অনুযায়ী সিরাত অতিক্রম করবেন । কেউ বিদ্যুৎগতিতে, কেউ ঝড়ের গতিতে, কেউ ঘোড়ার গতিতে, কেউবা দৌড়ের গতিতে, কেউ হেঁটে হেঁটে আবার কেউ কেউ হামাগুড়ি দিয়ে সিরাত পার হবেন।

সিরাত হলো অন্ধকার পুল। সেখানে মুমিন ও নেক আমলকারী ব্যক্তির জন্য আলোর ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু যারা ইমানদার নয় এবং পাপী তাদের জন্য কোনো আলোর ব্যবস্থা থাকবে না। সুতরাং দুনিয়ায় যে দৃঢ় ইমান ও বেশি নেক আমলের অধিকারী সিরাত তাঁর জন্য সবচেয়ে বেশি আলোকিত হবে । ইমানের আলোতে সে সহজেই সিরাত অতিক্রম করবে।
অন্যদিকে যারা ইমানদার নয় এবং পাপী মহান আল্লাহ তাদের জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন।

জাহান্নামিদের জন্য সিরাত অত্যন্ত ভয়াবহ স্থান । তাদের জন্য সিরাত হবে চুলের চাইতেও সূক্ষ্ম এবং তরবারি অপেক্ষা ধারালো । এ অবস্থায় সিরাতে আরোহণ করে তারা কিছুতেই তা অতিক্রম করতে পারবে না। বরং তারা করুণভাবে জাহান্নামে পতিত হবে।

অতএব, আমরা সিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করব। সহজে সিরাত অতিক্রম করার জন্য প্রকৃত ইমানদার হব এবং সকল প্রকার অন্যায় ও পাপ কাজ বর্জন করে অধিক পরিমাণে নেক আমল করব। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করব ।

ছ. শাফাআত

শাফাআত শব্দের অর্থ সুপারিশ করা, অনুরোধ করা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় কল্যাণ ও ক্ষমার জন্য আল্লাহ্ তায়ালার নিকট নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণের সুপারিশ করাকে শাফাআত বলে ।

কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা মানুষের সকল কাজকর্মের হিসাব নেবেন। তারপর আমল অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম নির্ধারণ করবেন। তখন মহান আল্লাহ্ পুণ্যবানগণকে জান্নাতে ও পাপীদের জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন। নবি-রাসুল ও পুণ্যবান বান্দাগণ এ সময় আল্লাহর দরবারে শাফাআত করবেন । ফলে অনেক পাপীকে মাফ করা হবে। এরপর তাদেরকে জাহান্নাম থেকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে ।

আবার অনেক পুণ্যবানের জন্যও এদিন শাফাআত করা হবে। ফলে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।

কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে এক বিশাল ময়দানে সমবেত করা হবে। সেদিন সূর্য খুব নিকটবর্তী হবে। মানুষ অসহনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত থাকবে । এ সময় তারা হযরত আদম (আ.), হযরত নূহ (আ.), হযরত ইবরাহিম (আ.), হযরত মুসা (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.) এর নিকট উপস্থিত হয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করার জন্য আল্লাহর নিকট শাফাআত করতে অনুরোধ করবে। তাঁরা সকলেই অপারগতা প্রকাশ করবেন। এ অবস্থায় সকল মানুষ মহানবি (স.)-এর নিকট উপস্থিত হবে। তখন মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহ তায়ালার নিকট সুপারিশ করবেন ।

অন্যদিকে কিয়ামতের দিন পাপীদের ক্ষমা ও পুণ্যবানদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য শাফাআত করা হবে। নবি-রাসুল, ফেরেশতা, শহিদ, আলেম, হাফিয এ শাফাআতের সুযোগ পাবেন। আল-কুরআন ও সিয়াম (রোযা) কিয়ামতের দিন শাফাআত করবে বলেও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিয়ামতের দিন নবি-রাসুল ও নেক বান্দাগণ আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। আল্লাহ তায়ালা এসব শাফাআত কবুল করবেন এবং বহু মানুষকে জান্নাত দান করবেন। তবে শাফাআতের সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা থাকবে আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অধিকারে । তিনি নিজেই বলেছেন- " আমাকে শাফাআত (করার অধিকার) দেওয়া হয়েছে।” (বুখারি মুসলিম)

অন্য একটি হাদিসে রাসুল (স.) বলেছেন, “পৃথিবীতে যত ইট ও পাথর আছে, আমি তার চেয়েও বেশি লোকের জন্য কিয়ামতের দিন শাফাআত করব।” (মুসনাদে আহমাদ)
শাফাআত একটি বিরাট নিয়ামত। মহানবি (স.)-এর শাফাআত ব্যতীত কিয়ামতের দিন সফলতা, কল্যাণ ও জান্নাত লাভ করা সম্ভব হবে না ।

অতএব, আমরা শাফাআতে বিশ্বাস স্থাপন করব । আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-কে ভালোবাসব। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.)-এর আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী আমাদের জীবন পরিচালনা করব। তাহলে পরকালে আমরা প্রিয়নবি (স.)-এর শাফাআত লাভে ধন্য হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব ।

জ. জান্নাত

জান্নাত অর্থ উদ্যান, বাগান, সুশোভিত কানন। ইসলামি পরিভাষায় পরকালীন জীবনে পুণ্যবানগণের জন্য পুরস্কার স্বরূপ যে আরামদায়ক স্থান তৈরি করে রাখা হয়েছে তাকে বলা হয় জান্নাত ।

জান্নাতে সবধরনের নিয়ামত বিদ্যমান। মুমিনগণ সেখানে চিরকাল অবস্থান করবেন। তাঁরা সেখানে তাঁদের পুণ্যবান মাতা-পিতা, স্ত্রী-পুত্র, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে মিলিত হবেন। তাঁরা যা চাইবেন তাই সাথে সাথে লাভ করবেন । আল্লাহ তায়ালা বলেন, “সেখানে (জান্নাতে) তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা ফরমায়েশ কর। এটি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়ন।” (সূরা হা-মিম আস-সাজদা, আয়াত ৩১-৩২)

বস্তুত জান্নাতের সুখ-শান্তি ও নিয়ামত অফুরন্ত। এর বর্ণনা শেষ করা যায় না। একটি হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য (জান্নাতে) এমন সব নিয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছি বা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান কোনোদিন তা শুনেনি এবং কোনো মানব হৃদয় কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।” (বুখারি)

আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জন্য আটটি জান্নাত তৈরি করে রেখেছেন । এগুলো হলো-

  • জান্নাতুল ফিরদাউস
  • দারুল মাকাম
  • দারুল কারার
  • দারুস্সালাম
  • জান্নাতুল মাওয়া
  • জান্নাতুল আদন
  • দারুন নাইম
  • দারুল খুলদ

জান্নাত চরম সুখের আবাস। দুনিয়াতে যারা ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে চলবে তারা পরকালে জান্নাত লাভ করবে। সকল কাজকর্মে আল্লাহ তায়ালার আদেশ ও রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করলে জান্নাত লাভ করা সম্ভব হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى لَا فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى

অর্থ : “আর যে ব্যক্তি স্বীয় প্রতিপালকের সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখে জান্নাতই হবে তার আবাস।” (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৪০-৪১)

সুতরাং আমরাও জান্নাত লাভের জন্য সদা সর্বদা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করব, তাঁর আদেশ নিষেধ মেনে চলব, অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করে উত্তম চরিত্র গঠন করব। তাহলে মহান আল্লাহ আমাদের উপর সন্তুষ্ট হবেন, আমরা পরকালে জান্নাত লাভ করব ।

ঝ. জাহান্নাম

জাহান্নাম হলো শাস্তির স্থান। পরকালে মুমিনগণের জন্য যেমন জান্নাতের ব্যবস্থা রয়েছে তেমনি পাপীদের জন্য রয়েছে শাস্তির স্থান। আর জাহান্নামই হলো সে শাস্তির জায়গা। জাহান্নামকে (নার) বা আগুনও বলা হয় ।

জাহান্নাম চির শাস্তির স্থান । এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ। মানুষের পাপের পরিমাণ অনুসারে শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। জাহান্নামের আগুন অত্যন্ত উত্তপ্ত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন-

تَارُكُمْ جُزء من سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ

অর্থ : "তোমাদের এ পৃথিবীর আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র।” (বুখারি)

এ আগুনে মানুষের হাড়, চামড়া, গোশত সবকিছুই পুড়ে যাবে। কিন্তু তাতে তার মৃত্যু হবে না। বরং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে পুনরায় তার দেহ পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। পুনরায় তা পুড়ে দগ্ধ হবে। এভাবে পুনঃপুনঃ চলতে থাকবে।

জাহান্নাম বিষাক্ত সাপ, বিচ্ছুর আবাসস্থল। সেখানকার খাদ্য হলো বড় বড় কাঁটাযুক্ত বৃক্ষ। উত্তপ্ত রক্ত ও পুঁজ হবে জাহান্নামিদের পানীয়। মোটকথা জাহান্নাম অতি যন্ত্রণাদায়ক স্থান । আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা কুফরি করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার উপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি, ফলে তাতে তাদের পেটে যা আছে তা এবং তাদের চামড়া বিগলিত হয়ে যাবে, আর তাদের জন্য থাকবে লোহার হাতুড়ী। যখনই তারা যন্ত্রণায় কাতর হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে তখনই তাদেরকে তাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর তাদের বলা হবে, আস্বাদন কর দহন-যন্ত্রণা।” (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ১৯-২২ )

পাপীদের শাস্তিদানের জন্য আল্লাহ তায়ালা ৭টি দোযখ তৈরি করে রেখেছেন। এগুলো হলো-

  • জাহান্নাম
  • হাবিয়া
  • জাহিম
  • সাকার
  • সাইর
  • হুতামাহ
  • লাযা

জাহান্নাম হলো ভীষণ শাস্তির স্থান। কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকরা তথায় চিরকাল শাস্তি ভোগ করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

فَأَمَّا مَنْ طَغَى وَأَثْرَ الْحَيوةَ الدُّنْيَا هُ فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَى

অর্থ : “অনন্তর যে সীমালঙ্ঘন করে এবং দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয় জাহান্নামই হবে তার আবাস।” (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৩৭-৩৯)

যাদের ইমান রয়েছে কিন্তু পাপের পরিমাণ বেশি এমন মুমিনরাও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে । তবে তাদের পাপের শাস্তি শেষ হওয়ার পর তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে ।
আমরা সব রকম পাপ থেকে মুক্ত থাকব। খাঁটি ইমানদার হব । আল্লাহ ও তাঁর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর আনুগত্য করব । তাহলেই জাহান্নামের আগুন ও শাস্তি থেকে আমরা রেহাই পাব ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা আখিরাতের জীবনের স্তরগুলোর একটি তালিকা তৈরি করবে ।

আকাইদ ও নৈতিক জীবন - অনন্যা প্রশ্ন

ইসলামইমানমানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ইমানের গুরুত্বতাওহিদআল্লাহ্ তায়ালার পরিচয়কুফরশিরকনিফাকরিসালাতনৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে রিসালাত ও নবুয়তআসমানি কিতাবনৈতিক জীবন গঠনে আসমানি কিতাবের ভূমিকাআখিরাতআখিরাতের কয়েকটি স্তরসৎকর্মশীল ও নৈতিকজীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাসের ভূমিকা‘আকাইদ’ কোন শব্দের বহুবচন? আকিদা অর্থ কী?‘আকাইদ’ শব্দের অর্থ কী?ইসলামি বিশ্বাসের মূলভিত্তি কী?ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকে কী বলা হয়?আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র দ্বীন বা জীবনব্যবস্থাকে কী বলা হয়?আল্লাহ, নবি-রাসুল, ফেরেশতা ইত্যাদি বিষয়গুলো আকাইদের কোন দিক?ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নামকে কী বলা হয়?ইসলাম শব্দের অর্থ কী? ইসলাম কার আনুগত্যের কথা বলে?শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ কী?মানবজাতির জন্য নির্দেশিত সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবন বিধান কী?“নিশ্চয় আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা।” কুরআনের কোন সূরায় বর্ণিত আছে? যিনি ইসলাম অনুসারে জীবন পরিচালনা করেন তাকে কী বলা হয়? ইসলাম শব্দটির মূলধাতু কী?সিলমুন শব্দের অর্থ কী?ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয় কেন?ইসলাম কীরূপ জীবনবিধান?ইসলাম কাদের জন্য?ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাকে কী বলে?ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভের প্রধান মাধ্যম কী?কীসের মাধ্যমে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও সফলতার দিকনির্দেশনা অর্জন করতে পারি?‘ইমান’ শব্দটি এসেছে কোন ক্রিয়ামূল থেকে?‘ইমান’ শব্দের অর্থ কী?ইসলামের মূল বিষয়গুলোর প্রতি আন্তরিক বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি ও তদনুযায়ী আমলের নাম কী?যিনি ইসলামের মৌলিক বিষয়ের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করেন, তাকে কী বলা হয়?মুখ, অন্তর ও কর্মের মাধ্যমে শরিয়তের কার্য সম্পাদন করাকে কী বলা হয়?মহান আল্লাহর যাবতীয় আদেশ-নিষেধ বিনা দ্বিধায় মেনে নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর প্রতি পূর্ণাঙ্গরূপে আত্মসমর্পণ করাকে কী বলা হয়?কীসের মাধ্যমে ইমানের বহিঃপ্রকাশ ঘটে?ইমানের মূল বিষয় কয়টি?ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় কী?ইমানের মূল কী? ফেরেশতারা কিসের তৈরি? আসমানি কিতাবের সংখ্যা মোট কত খানা? পথভ্রষ্ট মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য আল্লাহ পাক যুগে যুগে কাদের পাঠিয়েছেন? তাকদির শব্দের অর্থ কী? মানুষের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বকে সমুন্নত রাখা যায় কীভাবে? কুফর, শিরক ও নিফাক কিসের সম্পূর্ণ পরিপন্থি? মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কীসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ? ‘তাওহিদ’ শব্দের অর্থ কী? আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় হিসেবে স্বীকার করে নেওয়াকে কী বলে?“কোনোকিছু তার সদৃশ নয়।” বাণীটি দ্বারা কিসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে?ইমানের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান বিষয় কী? ইসলামের সকল শিক্ষা ও আদর্শ কিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত?নবি-রাসুলগণ সারাজীবন মানুষকে কিসের দাওয়াত দিয়েছেন?তাওহিদ প্রচার করতে গিয়ে কোন নবি অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন?তাওহিদে বিশ্বাস মানুষের মাঝে কী সৃষ্টি করে? আল্লাহর একত্ববাদ কোন সূরায় বর্ণিত হয়েছে? “তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য, তিনিই গোপন এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।” এটি কোন সূরার আয়াত?রাহিম, জাব্বার, গাফফার এগুলো আল্লাহর কী? জাব্বার শব্দের অর্থ কী? ‘কুফর’ শব্দের অর্থ কী? যে ব্যক্তি কুফরি কাজে লিপ্ত থাকে, তাকে কী বলে? মানুষ কয়ভাবে কাফির বা অবিশ্বাসী হতে পারে? ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ্যে কুফরের চিহ্ন ধারণ করা কী কাজ?কাফির ব্যক্তি হতাশাগ্রস্ত থাকে কেন? জাহান্নামে কারা চিরকাল থাকবে? হরতালের সময় পাবলিক বাস ভাংচুরকারী কে?আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে কী বলে?‘শিরক’ শব্দের অর্থ কী? যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করে তাকে কী বলা হয়? শিরক-এর বিপরীত কী? আল্লাহর সাথে শিরক কত ধরনের হতে পারে?পৃথিবীর সকল প্রকার জুলুমের মধ্যে সবচেয়ে বড় জুলুম কোনটি? “নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।” কোন সূরার আয়াত?“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না।” কোন সূরার?‘নিফাক’ শব্দটির অর্থ কী?নিফাক অর্থ কী? অন্তরে কুফর ও অবাধ্যতা গোপন রেখে মুখে ইমানদারসুলভ বাক্য উচ্চারণ এবং লোক দেখানো অনুষ্ঠান সম্পন্ন করাকে কী বলে? কারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম ও ইমান স্বীকার করে মুসলমানদের মতো ইবাদত-বন্দেগি করে? মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য কয়টি? মুনাফিকের প্রথম লক্ষণ কী? মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করার কারণ কী?কুরআন মজিদে মুনাফিকদের কী বলে আখ্যায়িত করা হয়? ‘রিসালাত’ শব্দের অর্থ কী? রিসালাত অর্থ কী? মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বকে কী বলা হয়? নবি-রাসুলগণের দায়িত্বের নাম কী?হযরত মুহাম্মদ (স.) দেশ ত্যাগ করেছিলেন কেন? সর্বপ্রথম নবি কে?সর্বশেষ নবি কে?“প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য পথপ্রদর্শক রয়েছে।" কোন বিষয়টির গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে?“তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম।” এখানে দ্বীন বলতে কী বোঝানো হয়েছে?খাতামুন শব্দের অর্থ কী?‘খাতমে নবুয়ত' অর্থ কী?'খাতামুন নাবিয়্যিন' কার উপাধি?'তাওরাত' কোন নবির ওপর নাজিল হয়?হযরত মুসা (আ.)-এর ওপর কোন কিতাব নাজিল হয়?হযরত দাউদ (আ.)-এর ওপর কোন কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিল?ইঞ্জিল কিতাব কোন নবির ওপর নাজিল হয়?সহিফা সংখ্যা কত?হযরত শিস (আ.)-এর ওপর অবতীর্ণ সহিফা সংখ্যা কয়টি?সবচেয়ে বেশি সহিফা কার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে?সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাবের নাম কী?হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর কত বছর বয়সে প্রথম কুরআন অবতীর্ণ হয়?জীবনের সকল সমস্যার সমাধান দেয় বলে কুরআনকে বলা হয়—আল-কুরআন হিফাজতের দায়িত্ব কার? সফলতা ও সম্মানের মূল চাবিকাঠী কী?ফিরাউন, নমরূদ ও কারুনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে কোথায়?আখিরাত শব্দের অর্থ কী? মৃত্যুর পরের জীবনকে কী বলে? আখিরাতের জীবন শুরু হয় কখন থেকে? “তাঁরা আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে” – তাঁরা কারা? “আর তারা (মুত্তাকিগণ) আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে” কোন সূরার আয়াত?আখিরাতের জীবনের প্রথম স্তর হলো— “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” আয়াতটি কোন সূরার? বারযাখ জীবন শুরু হয়— কবরে ফেরেশতারা মৃত ব্যক্তিকে কয়টি প্রশ্ন করবেন? কিয়ামত বলতে কয়টি অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে? হাশর শব্দের অর্থ কী? পরকালে মানুষের আমলনামা কখন হাতে দেওয়া হবে? আখিরাতের জীবনের পঞ্চম স্তর কোনটি? মিযান শব্দের অর্থ কী? আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আর আমি কিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব।” এখানে কিয়ামতের দিন বলতে বোঝানো হয়েছে—সিরাত শব্দের অর্থ কী? “তোমাদের প্রত্যেকেই তা অতিক্রম করবে, এটা তোমাদের প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।” এ বাণী দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? শাফাআত অর্থ কী? জান্নাতের একটি নাম কী? জাহান্নাম (নার)-এর শাব্দিক অর্থ কী? দোযখের স্তর কয়টি? 'মাযরাআতুন' শব্দের অর্থ কী? “দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র"- এটি কার বাণী? ব্যক্তি যদি সৎ কাজ করে, তাহলে তার প্রাপ্তি হবে— আকাইদ শব্দটি কোন শব্দের বহুবচন?আকাইদ অর্থ কী?আকাইদ কাকে বলে? অথবা, আকাইদ কী?ইসলামের কয়টি দিক রয়েছে?আকাইদের অন্তর্ভুক্ত বিষয় কী?বস্তুত একজন মানুষ কীভাবে ইসলামে প্রবেশ করে?ইসলাম কী?ব্যবহারিক অর্থে ইসলাম কী?“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা।” —উক্তিটি কোন সূরার কত নম্বর আয়াত?কোন সূরায় ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে?মুসলিম কে?আরবি ইসলাম শব্দটি কোন ধাতু হতে নির্গত ?ইসলাম শিক্ষা কী?ইমান শব্দটি কোন ধাতু থেকে নির্গত?

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ