- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎস
বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ সাধন, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, যথা: ক. কর রাজস্ব ও খ. কর বহির্ভূত রাজস্ব। নিচে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎসগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো।
(ক) কর রাজস্ব বাংলাদেশ সরকার দেশের জনগণ, বিভিন্ন ব্যবসায় ও শিল্প কারখানার ওপর যে কর ধার্য করে তা থেকে প্রাপ্ত আয়কে কর রাজস্ব বলে। বাংলাদেশ সরকারের কর রাজস্ব আয়ের উৎসসমূহ নিম্নরূপ:
১. বাণিজ্য শুল্ক: বাংলাদেশ সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হলো বাণিজ্য শুল্ক। দেশের আমদানি ও রপ্তানিকৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে বাণিজ্য শুল্ক বলা হয়।
২. আবগারি শুল্ক: দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়। রাজস্ব সংগ্রহ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করার উদ্দেশ্যে আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়। বাংলাদেশে প্রধানত চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই, মদ, গাঁজা, আফিম প্রভৃতি দ্রব্যের ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়।
৩. আয়কর: বাংলাদেশ সরকারের আয়ের এটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস আয়কর। জনসাধারণের ব্যক্তিগত আয়ের ওপর যে কর ধার্য করা হয় তাকে আয়কর বলা হয়। যাদের আয় একটি নির্দিষ্ট সীমার ঊর্ধ্বে তাদের নিকট থেকে প্রগতিশীল (Progressive) হারে আয়কর আদায় করা হয়।
8. মূল্য সংযোজন কর মূল্য সংযোজন কর বাংলাদেশে কর ব্যবস্থায় ভ্যাট (Value Added Tax) নামে পরিচিত। বর্তমানে আমাদের দেশে আমদানিকৃত দ্রব্য ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দ্রব্য এবং নির্ধারিত কতকগুলো সেবাখাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
৫. সম্পূরক শুল্ক: অনেক দ্রব্যসামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপের পরও অতিরিক্ত যে শুল্ক আরোপ করা হয়, তাকে সম্পূরক শুল্ক বলা হয়। এটি বাংলাদেশ সরকারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।
৬. ভূমি রাজস্ব ভূমি ভোগ দখলের জন্য সরকারকে প্রদত্ত খাজনাই ভূমি রাজস্ব নামে পরিচিত। সরকার ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করার ফলে এ খাতে সরকারের আয় কিছুটা কম।
৭. নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প বিভিন্ন দলিলপত্র ও মামলা মকদ্দমার আবেদনপত্র ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্প, পাসপোর্ট, বিনিময় বিল ইত্যাদি খাতে সরকার প্রচুর অর্থ উপার্জন করে।
৮. রেজিস্ট্রেশন: দলিলপত্র রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন করার জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি এবং মামলা মকদ্দমার জন্য কোর্ট ফি প্রদান করতে হয়। এতেও সরকারের যথেষ্ট আয় হয়।
৯. যানবাহন কর: বিভিন্ন প্রকার যানবাহন নিবন্ধনের জন্য প্রদত্ত করকে যানবাহন কর বলে।
১০. বিদ্যুৎ শুল্ক: বিদ্যুতের ওপর আরোপিত শুল্ক থেকেও সরকারের আয় হয়।
১১. উৎসে কর: উৎসে কর কর্তন ১টি অন্যতম আয়ের উৎস।
১২. অন্যান্য কর ও শুল্ক উপরে বর্ণিত শুল্ক ও কর ছাড়াও আরও কিছু কর ও শুল্ক থেকে সরকার আয় করে। এর মধ্যে রয়েছে আমোদ প্রমোদ কর, সম্পত্তি কর, পেট্রোল ও গ্যাসের ওপর শুল্ক, বিদেশ ভ্রমণের ওপর শুল্ক, সেচ কাজ ও যন্ত্রপাতির ওপর কর ইত্যাদি প্রধান।
খ) কর-বহির্ভূত রাজস্ব বাংলাদেশ সরকার কর ও শুল্ক ছাড়াও আরও অনেক উৎস হতে রাজস্ব সংগ্রহ করে। এ উৎসগুলো থেকে অর্জিত রাজস্বকে কর-বহির্ভূত রাজস্ব বলে। নিম্নে এসব উৎসসমূহ আলোচনা করা হলো।
১. লভ্যাংশ ও মুনাফা সরকার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেমন- ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান (Non-financial institution), পার্ক, চিড়িয়াখানা প্রভৃতি থেকে বছর শেষে লভ্যাংশ ও মুনাফা পেয়ে থাকে।
২. সুদ: সরকার বিভিন্ন আর্থিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে থাকে। এ বাবদ প্রাপ্ত শুল্ক থেকে কিছু আয় হয়।
৩. অর্থনৈতিক সেবা: সরকার জনসাধারণকে কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমেও আয় করে। এগুলোর মধ্যে পর্যটন, ব্যাংকিং, ভ্রমণ ও সেবা উল্লেখযোগ্য। আমদানি-রপ্তানি আইনের আওতায় প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশন স্কিম, বিমা আইনের আওতায় প্রাপ্তি এবং সমবায় সমিতিসমূহের অডিট স্কিম, সমবায় সমিতি রেজিস্ট্রেশন ও নবায়ন স্কিম প্রভৃতিও কর বহির্ভূত রাজস্ব আয়।
৪. সাধারণ প্রশাসন: বাংলাদেশ সরকার প্রশাসনিক সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন প্রকার 'ফি' আদায় করে।
৫. রেলওয়ে রেলওয়ে সরকারি আয়ের একটি উৎস। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলে এ খাত থেকে অধিকতর আয় সম্ভব।
৬. ডাক বিভাগ: দেশের ডাক বিভাগ সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয় বিধায় এটিও সরকারি আয়ের অন্যতম উৎস।
৭. তার ও টেলিফোন তার ও টেলিফোন ব্যবস্থা সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয় বিধায় এটি সরকারের আয়ের আরও একটি উৎস।
৮. বন: বন থেকেও সরকার প্রচুর অর্থ আয় করে থাকে। বাংলাদেশের বনাঞ্চল থেকে কাঠ, বাঁশ, জ্বালানি, মধু, মোম ইত্যাদি বনজ সম্পদ বিক্রয়ের মাধ্যমে সরকার আয় করে।
৯. টোল ও লেভি: টোল ও লেভির মাধ্যমে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করে। টোল হলো- একধরনের রাজস্ব আয় যা আয়ের ওপর নির্ধারিত আয়করের মতো নয়। সরকার জনগণের সেবা বাবদ বিভিন্নভাবে এ কর গ্রহণ করে, যেমন: ব্রিজ, সেতু, কালভার্ট, ঘাট, পারাপার, হাটবাজার প্রভৃতি থেকে সরকার অর্থ আদায় করে যা টোল হিসেবে পরিচিত। লেভি হলো- বিশেষ বিশেষ সময়ে আরোপিত জনগণের নিকট থেকে আদায়কৃত বিশেষ ধরনের রাজস্ব, যেমন: পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট রাজস্ব।
১০. ভাড়া ও ইজারা সরকারি সম্পত্তি ভাড়া ও ইজারা দেওয়ার মাধ্যমেও সরকার আয় করে।
১১. জরিমানা, দণ্ড ও বাজেয়াপ্তকরণ: জরিমানা, দণ্ড, বাজেয়াপ্তকরণ প্রভৃতির মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর অর্থ আয় করে থাকে।
১২. সেবা ও ফি: পাসপোর্ট, লাইসেন্স, রেজস্ট্রেশন ফি, আদালত ফি, প্রভৃতি থেকে প্রাপ্ত আয়।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

