• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • নবম-দশম শ্রেণি
  • বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

দারিদ্র্য বিমোচন ও স্বকর্মসংস্থানে বিভিন্ন ব্যাংকের ভূমিকা

স্বকর্মসংস্থান বলতে বোঝায় স্বাধীনভাবে একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক মানুষ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে নিজ উদ্যোগে উৎপাদন বা আয় অর্জনের ক্ষেত্রে নিয়োজিত থাকা। বাংলাদেশে প্রতিবছর শ্রমবাজারে প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ নতুন কর্মক্ষম মানুষ প্রবেশ করছে। এসব মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিভিন্ন ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিম্নে এসব ব্যাংকের ভূমিকা আলোচনা করা হলো।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক: স্বাধীনতা লাভের পরপরই বাংলাদেশে অবস্থিত সাবেক কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সকল দায় ও সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গঠিত হয়। দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই ব্যাংকের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। হালের বলদ, বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, পানি সেচের জন্য শক্তিচালিত পাম্প, গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপন প্রভৃতি কাজের জন্য কৃষি ব্যাংক ঋণ প্রদান করে। বর্তমানে কৃষি কার্য ছাড়াও হাঁস-মুরগি ও পশু পালন, মৎস্য উৎপাদন, গুটি পোকার চাষ, ফলের চাষ, ফুলের চাষ ও কুটির শিল্পের জন্যও এই ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকে।

বাংলাদেশে কৃষি ব্যাংক ছাড়াও সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকসমূহের স্ব স্ব বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ কর্মসূচিতে স্বকর্ম সংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণদান কর্মসূচি যথাযথ গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। কৃষি ও পল্লী ঋণ খাতে এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বার্ষিক ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম শতকরা ২৫ ভাগ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য নির্ধারিত রাখতে হয়। বেসরকারি সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এ ঋণ সরবরাহ করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহের নিজস্ব কর্মসূচি রয়েছে।

গ্রামীণ ব্যাংক: গ্রামীণ ব্যাংক একটি ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ করেছে। এটি পল্লীর ভূমিহীন নারী ও পুরুষদের ঋণদানের জন্য একটি বিশেষ অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান। ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী ব্যাংক হিসেবেও এটি পরিচিত। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ ইউনুস। গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের দরিদ্র পুরুষ ও নারীদের বিনা জামানতে ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করে। গ্রামীণ মহাজনদের শোষণ থেকে গরিব মানুষকে রক্ষা করার মহান ব্রত নিয়েই এ ব্যাংকের অগ্রযাত্রা। এ ব্যাংক গ্রামের বিশাল বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য স্বকর্ম-সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।

গ্রামীণ ব্যাংকের কিছু কাজ নিচে উল্লেখ করা হলো

১. ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান: যাদের কোন পুঁজি নেই কোন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বা ব্যাবসায় শুরু করার জন্য গ্রামীণ ব্যাংক তাদের বিনা জামানতে গোষ্ঠীগত দায়বদ্ধতার মাধ্যমে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায় উন্নয়ন এবং কর্মসস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করে থাকে।

২. উদ্যেক্তা তৈরি ও স্বনির্ভরতা: ক্ষুদ্র ব্যাবসায়, হাস-মুরগী পালন, কৃষিকাজ ইত্যাদি করতে উৎসাহিত করা।

৩. নারীর ক্ষমতায়ন: নারীর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অবস্থানকে শক্তিশালী করা।

৪. প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি: ঋণ গ্রহীতাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শিক্ষার প্রসার ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করা।

পরবর্তী

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ