- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের খাতসমূহ
বাংলাদেশ সরকার দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ভৌত-অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে থাকে। এছাড়া সরকারকে প্রশাসনিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক এবং অন্যান্য সেবাধর্মী কর্মকান্ডেও ব্যয় করতে হয়। সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা এবং অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা। সরকার দেশের বার্ষিক বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়নমূলক-এ দু'রকম ব্যয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে থাকে।
বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো।
১. প্রতিরক্ষা: প্রতিরক্ষা বাংলাদেশের সরকারি ব্যয়ের অন্যতম প্রধান খাত। প্রতিরক্ষা বাহিনীর (সেনা-নৌ-বিমান) কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান, যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র ও সাজসরঞ্জাম ক্রয় ইত্যাদি বাবদ বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকে।
২. বেসামরিক প্রশাসন: সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও এসবের বিভাগসমূহের পরিচালনা ও উন্নয়ন, কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ইত্যাদির জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে।
৩. শিক্ষা: বাংলাদেশ সরকারের ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো শিক্ষা। শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশকে অশিক্ষার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সরকারকে সাম্প্রতিককালে এ খাতে প্রচুর ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসার জন্য অনুদান, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিস্তারের নতুন নতুন কার্যক্রমে যথেষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে।
৪. স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিশুকল্যাণ কর্মসূচি, মাতৃস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রভৃতি খাতে সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
৫. ঋণ ও সুদ পরিশোধ দেশের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারকে দেশের অভ্যন্তর হতে এবং বিদেশ হতে প্রচুর পরিমাণে ঋণগ্রহণ করতে হয়। এসব ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ বাবদ সরকারকে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়।
৬. কৃষি, মৎস্য ও পশু পালন: বাংলাদেশ সরকার এই খাতসমূহে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে।
৭. পুলিশ, আনসার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ: দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য পুলিশ ও আনসার বাহিনী অপরিহার্য। আবার সীমান্ত রক্ষা ও চোরাচালান রোধের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ গড়ে তোলা হয়েছে। এই তিন বৃহৎ বাহিনীর জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করে।
৮. বিচারবিভাগ ও কারাবিভাগ বিচারবিভাগ ও কারাবিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন-ভাতা এবং এই দুই বিভাগের ব্যবস্থাপনায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।
৯. রাজস্ব আদায়কারী বিভাগসমূহ: বাংলাদেশ সরকার আয়কর বিভাগ, বাণিজ্য শুল্ক বিভাগ, আবগারি শুল্ক বিভাগ, ভূমি রাজস্ব বিভাগ প্রভৃতির ব্যয়ভার মেটানোর জন্য রাজস্বের এক বিরাট অংশ ব্যয় করে।
১০. সামাজিক নিরাপত্তা: বিভিন্ন প্রকার ভাতা (বৃদ্ধ, বিধবা, প্রতিবন্ধী) খাতে ব্যয়।
১১. বৈদেশিক বিষয়াবলি: বিদেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন, বহির্বিশ্বে দেশের ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য দূতাবাস প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য সরকারকে প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।
১২. অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সরকারকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের জন্য প্রতিবছর প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।
১৩. সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম: সরকারকে প্রতি বছর সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়।
১৪. অপ্রত্যাশিত ব্যয়: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলোচ্ছ্বাস, মহামারি ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তৎসৃষ্ট জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশ সরকারকে যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করতে হয়।
১৫. উন্নয়ন ব্যয়: রাস্তাঘাট, সেতু, রেলপথ, বিদ্যুত, গ্যাস সরবরাহ লাইন ও অবকাঠামো, বন্দর, বিমানবন্দর ইত্যাদিসহ অন্যান্য উন্নয়ন ব্যয়।
১৬. অন্যান্য খাত: উপরের উল্লিখিত খাত ছাড়াও সরকার অন্য যেসব খাতে অর্থ ব্যয় করে থাকে তা হলো-সচিবালয়, হিসাব নিরীক্ষা, জ্বালানি ও শক্তি, খনি, উৎপাদন এবং নির্মাণ প্রভৃতি।
বাংলাদেশ সরকারকে প্রতি বছরই উপরোক্ত খাতে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেক নতুন নতুন খাত ও ব্যয়ের পরিমাণ প্রতি বছর ক্রমশই বাড়ছে। তবে দেশের সমষ্টিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির পরিধি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও ব্যাংক ব্যবস্থা - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

