- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভূমিকা ও কার্যক্রম
বাংলাদেশে জাতিসংঘের সবকটি অঙ্গ সংস্থার মিশন আছে। জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য বাংলাদেশ সবসময়ই এর বিশেষ নজর পেয়ে থাকে। জাতিসংঘের সবকটি অঙ্গ সংস্থা শুরু থেকেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে।
এ বিশ্ব সংস্থাটির চারজন মহাসচিব বাংলাদেশে এসেছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের আর্থিক অবদান কম হলেও বাংলাদেশের সৈন্যরা প্রাণ উৎসর্গ করে শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনায় কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সর্বোচ্চ শান্তি সেনা প্রেরণকারী দেশ। ১৯৮৮ সালে ইরাক ও নামিবিয়া শান্তি মিশনে যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তি মিশন শুরু করে। ছাড়া জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করার পর থেকে বাংলাদেশ এই বিশ্ব সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়। ১৯৭৯-৮০ এ সময়ের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদে বাংলাদেশের নির্বাচন তার এ ভূমিকার স্বীকৃতি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থার স্বাক্ষরবাহী। ১৯৮৪ সাল থেকে জাতিসংঘের কার্যপ্রণালিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আমাদের জন্য খুবই গৌরবের। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর এই সভাপতি নির্বাচিত হওয়া বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের বিশেষ ভূমিকার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। বিবাদের শান্তি পূর্ণ মীমাংসায় জাতিসংঘ ঘোষিত নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন বিষয়ক দীর্ঘকালের সমস্যা নিরসনে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাতময় পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধানে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের নিম্নোক্ত অঙ্গ সংস্থাগুলো কাজ করছে:
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপি (UNDP - United Nation Development Programme) বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ইউএনডিপি দেশব্যাপী অসংখ্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন, দারিদ্র্য হার হ্রাসকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। বর্তমানে টেকসই উন্নয়নের ১৭টি লক্ষমাত্রা (SDG-Sustainable Development Goals) অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ (UNICEF United Nations Children's Fund দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বিশেষত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ইউনিসেফ কাজ করছে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (UNESCO - United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization) বাংলাদেশের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্থাটি কাজ করছে।
জাতিসংঘের খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা বা এফএও (FAO Food and Agriculture Organization) বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা কাজ করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও (WHO World Health Organization) স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করে।
উদ্বাস্তুবিষয়ক জাতিসংঘ হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ইউএনএইচসিআর (UNHCR - United Nations High Commissioner for Refugees) সংস্থাটি দুনিয়ার সকল রাষ্ট্রের শরণার্থী সমস্য নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ইস্যুতে এই কার্যালয় মধ্যস্থতা করছে। মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আসা বিশাল শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করছে। তাছাড়া বাংলাদেশে বিহারী জনগোষ্ঠীর আবাসনসহ অন্যান্য ইস্যুতে এই সংস্থা ব্যাপক অবদান রেখেছে।
জাতিসংঘ নারী উন্নয়ন তহবিল বা ইউনিফেম (UNIFEM - United Nations Development Fund for Women) বাংলাদেশে নারীদের উন্নয়নে এ সংস্থাটি বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। নারীদের বিভিন্ন ধরনের অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে তাদের সংশ্লিষ্ট করছে। নারীদের নিরাপদ শ্রম অভিবাসনসহ বিভিন্ন ইস্যুতেও এ সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা কার্যক্রম তহবিল (UNFPA - United Nations Population Fund) সংস্থাটি বাংলাদেশের জনসংখ্যা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে জাতিসংঘের কার্যাবলি খুবই প্রশংসনীয়।
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

