- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা
বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ। আর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্তদেশে শান্তি স্থাপনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন। জাতিসংঘের এই শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে বাংলাদেশের অবদান ঈর্ষণীয়। ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৪৩ টি দেশে/অবস্থানে জাতিসংঘের ৬৩টি শান্তি মিশনে বাংলাদেশের প্রায় ১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮৫৬ জন শান্তিরক্ষী কাজ করেছে।
বর্তমানে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, মালি, দক্ষিণ সুদান, লেবানন, ডি আর কঙ্গো, ওয়েস্টার্ন সাহারা ও আবেই (সুদান) প্রভৃতি দেশে জাতিসংঘ পরিচালিত শান্তি মিশনে কাজ করছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশি সৈন্যদের অভূতপূর্ব সাফল্য সারা বিশ্বে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতাকে অনেক বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার মডেল হিসেবে এবং শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি পেয়েছে।
আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে অন্যান্য দেশের সৈন্যরা যেখানে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল না সেখানে বাংলাদেশি সৈন্যরা শুধু গ্রহণযোগ্যতা নয়, পেয়েছে স্থানীয় মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা। সিয়েরা লিওনে বাংলা ভাষা পেয়েছে সেই দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। আইভরিকোস্টে অন্যতম ব্যস্ত সড়কের নাম হয়েছে 'বাংলাদেশ সড়ক'। এই দেশটিতে একটি গ্রামের নাম রাখা হয়েছে 'রূপসি বাংলা'।
শান্তিমিশনে শুধু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নয়, পাশাপাশি পুলিশ বাহিনী ও মহিলা পুলিশও নিয়োজিত আছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে জাতিসংঘে তথা বিশ্বে বাংলাদেশ পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি ও বিশেষ মর্যাদা।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষার মিশন সহজ ছিল না। আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে যুদ্ধংদেহী দুই বা ততোধিক সশস্ত্র গেরিলাগোষ্ঠীর মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি সৈন্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অত্র বিরতি পর্যবেক্ষণ করেছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেছে। এ কাজে এখন পর্যন্ত ১৬৮ জন বাংলাদেশি সৈন্য বিশ্ব শান্তির জন্য শহিদ হয়েছেন। আহত হয়েছে অনেকে। বাংলাদেশি সৈন্যরা প্রমাণ করেছে শান্তির জন্য তারা জীবন দিতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের পথে, অধিকন্তু এর আছে বিশাল জনগোষ্ঠী। বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষিত সামরিক-বেসামরিক বাহিনী বিশ্ব শান্তিরক্ষার জন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে অবদান রাখছে। উন্নত দেশগুলো অর্থ দিয়ে জাতিসংঘে অবদান রাখছে। বাংলাদেশ তার সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষায় রেখেছে এক অনন্য অবদান। বৃদ্ধি করেছে দেশের মর্যাদা ও গৌরব।
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

