- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণে জাতিসংঘের ভূমিকা
নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে এবং নারীর অধিকার সংরক্ষণের জন্য জাতিসংঘ তার সৃষ্টিলগ্ন থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদ ও আইন প্রণয়ন করে। ১৯৪৮ সালে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র ছাড়াও জাতিসংঘ নারী উন্নয়নে যেসব কাজ করে তা হলো:
১. ১৯৪৯- মানবপাচার দমন ও পতিতাবৃত্তি অবসানের জন্যে জাতিসংঘ সনদ অনুমোদন।
২. ১৯৫১- আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) কর্তৃক একধরনের কাজের জন্য নারী ও পুরুষ শ্রমিকের একই বেতন প্রদান।
৩. ১৯৫২- নারীর রাজনৈতিক অধিকারের স্বীকৃতি। নির্বাচনে নারী ভোট প্রদান ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
৪. ১৯৫৭- বিবাহিত নারী জাতীয়তা সংরক্ষণ বা পরিবর্তন করতে পারবে।
৫. ১৯৬০- নারীদের কর্মসংস্থান ও পেশাক্ষেত্রে বৈষম্য বিলোপ সনদ অনুমোদন।
৬. ১৯৬২- বিয়ের ন্যূনতম বয়স ও রেজিস্ট্রেশন সনদ অনুমোদন।
৭. ১৯৬২- বালিকা ও নারীদের শিক্ষাক্ষেত্রে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৮. ১৯৭৫- বিশ্ব নারী বছর ঘোষণা।
৯. ১৯৭৫- প্রথম বিশ্ব নারী সম্মেলন, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হয়।
১০. ১৯৭৬-১৯৮৫- নারী উন্নয়ন দশক ঘোষণা।
১১. ১৯৭৯- নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ, সিডও (CEDAW) নামে অভিহিত। ১৯৮১ সালে এই সনদ কার্যকর হয়।
১২. ১৯৮০- দ্বিতীয় বিশ্ব নারী সম্মেলন ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয়।
১৩. ১৯৮৫- তৃতীয় বিশ্ব নারী সম্মেলন কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত হয়।
১৪. ১৯৯২- রিও ডি জেনেরোতে পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় নারীর ভূমিকার স্বীকৃতি।
১৫. ১৯৯৩- অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা সম্মেলনে নারীর অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দান।
১৬. ১৯৯৫- চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন, বেইজিং। এ বিশ্ব নারী সম্মেলনের ঘোষণা ছিল- 'নারীর চোখে বিশ্ব দেখুন'। এ সম্মেলনে প্লাটফরম ফর অ্যাকশন বা বেইজিং কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
১৭. ২০০০- বেইজিং প্লাস ফাইভ সম্মেলন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়।
১৮. ২০০৫- বেইজিং প্লাস টেন সম্মেলন নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়।
এভাবে নারীদের কল্যাণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রটোকল, সেমিনার ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জাতিসংঘ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ বা সিডও ১৯৭৯ (Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women Or CEDAW 1979):
নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদটি 'সিডও' নামে পরিচিত। ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালে ২০টি দেশ সমর্থন করার পর এটি কার্যকর হয়। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে এই সনদ সাক্ষর ও সমর্থন করে। বাংলাদেশসহ মোট ১৮৯ টি দেশ বর্তমানে সনদটি সমর্থন করেছে। এই সনদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- এটি নারীর অধিকারের একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল। এটি বিভিন্ন সময়ে নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে গৃহীত বিভিন্ন ইস্যুকে সমন্বিত করে।
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ - অনন্যা প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

