• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • ষষ্ঠ শ্রেণি
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা

তথ্য ও যোগাযোগ শব্দ দুটি আমাদের খুব পরিচিত। আর প্রযুক্তির অনেক উদাহরণ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। আমরা যখন "তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি" কথাটি বলি তখন আমরা কিন্তু বিশেষ একটা বিষয় বোঝাই, সেই বিশেষ বিষয়টি বোঝার জন্যে প্রথমে কয়েকটি ঘটনা কল্পনা করা যাক:

ঘটনা ১: মাসুমের বাড়ি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায়। তার বাবা সাগরে মাছ ধরে সংসার চালান। নৌকা নিয়ে সাগরে যাওয়ার সময় তার বাবা সব সময় ছোটো একটি রেডিয়ো সাথে নিয়ে যান। একদিন মাসুম তার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, "বাবা তুমি সব সময় রেডিয়োটি নিয়ে যাও কেন?" বাবা বললেন, "সাগরে যদি ঝড় বৃষ্টি হয়, সেই খবরটা আমি দ্রুত রেডিয়োতে পেয়ে যাই।"

ঘটনা ২: নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার কৃষক হাসান একদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনে 'কৃষি দিবানিশি' অনুষ্ঠানটি দেখছিলেন। সেখান থেকে জানতে পারলেন, স্ট্রবেরি নামে একটা বিদেশি ফল বাংলাদেশেও চাষ করা সম্ভব। হাসান খুবই উৎসাহী একজন কৃষক। তিনি চার মাস খাটাখাটনি করে তাঁর এক একর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করলেন। খুব ভালো ফলন হলো। এই সুস্বাদু আর পুষ্টিকর ফল বাজারে বিক্রি করলেন ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায়! তাঁর নতুন একটা জীবন শুরু হলো তখন থেকে।

ঘটনা ৩: শ্রাবণী পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে। তার বাবা মা ভেবেছিলেন পরীক্ষার ফলাফল জানতে তাদের স্কুলে যেতে হবে। শ্রাবণী তার বাবা মাকে বলল যে, মোবাইল ফোনের একটা বিশেষ নম্বরে তার রোল নম্বর আর বোর্ডের আইডি লিখে একটা এসএমএস পাঠালেই ফলাফল চলে আসবে। তার বাবা মা প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাইলেন না। কিন্তু যখন এসএমএসটি পাঠালেন সাথে সাথে ফিরতি এসএমএসে শ্রাবণীর ফলাফল চলে এলো। সে জিপিএ ৫.০০ পেয়েছে। শ্রাবণীর খুশি দেখে কে।

ঘটনা ৪: এই বছর জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল "বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ"। রাশেদ ঠিক করল সে অংশগ্রহণ করবে; কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অনেক খুঁটিনাটি সে জানে না। কোথায় তথ্য খুঁজে পাবে তা নিয়ে যখন সে প্রতিযোগিতায় চিন্তা করছে তখন তার ইন্টারনেটের কথা মনে পড়ল। একটা কম্পিউটারের সামনে বসে বাবার সহায়তায় ইন্টারনেট থেকে সে মুক্তিযুদ্ধের অনেক তথ্য সংগ্রহ করে। সেগুলো ব্যবহার করে চমৎকার একটা রচনা লিখে সে প্রতিযোগিতায় পাঠিয়ে দিল।

ঘটনা ৫: ঢাকায় তখন ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে। রিয়া আর অন্তু তাদের বাবার কাছে আবদার করল যে তারা খেলা দেখবে। বাবা অনেক চেষ্টা করেও টিকিট জোগাড় করতে পারলেন না। তখন হঠাৎ মনে পড়ল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড়ো পর্দায় ক্রিকেট খেলা দেখানো হয়। বাবা খেলার দিন রিয়া আর অন্তুকে নিয়ে সেখানে চলে এলেন। বিশাল বড়ো পর্দায় খেলা দেখতে পেয়ে তাদের মনে হলো বুঝি মাঠে বসেই খেলা দেখছে!

তোমাদের বেশ কয়েকটা ঘটনার কথা বলা হলো। মনে হতে পারে একটা ঘটনার সাথে অন্য ঘটনার কোনো মিল নেই। কিন্তু একটু চিন্তা করলে তোমরা বুঝতে পারবে আসলে প্রত্যেকটা ঘটনার মাঝেই একটা মিল রয়েছে। প্রত্যেকটা ঘটনাতে তথ্যের আদানপ্রদান হয়েছে। মাসুমের বাবা রেডিয়ো থেকে ঝড় বৃষ্টির তথ্য জানতে পারছেন, হাসান টেলিভিশনে স্ট্রবেরি চাষের তথ্য পাচ্ছেন, শ্রাবণী মোবাইল ফোনে তার পরীক্ষার ফলাফলের তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, রাশেদ ইন্টারনেট থেকে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য পাচ্ছে আর সবশেষে রিয়া আর অন্তু বড়ো পর্দায় ক্রিকেট খেলার তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। এই তথ্যগুলো দেওয়ার জন্য নিশ্চয়ই কোনো না কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই তথ্য দেওয়া-নেওয়া কিংবা সংরক্ষণ করার যে প্রযুক্তি সেটাই হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি।

তোমরা বুঝতেই পারছ তথ্যের দেওয়া-নেওয়ার এই ব্যাপারটি একদিনে হয়নি। এক সময় মানুষ একজনের সাথে আরেকজন কথা বলেই শুধু তথ্য বিনিময় করতে পারত। তারপর মাটি, পাথর, গাছের বাকলে লিখে তথ্য দেওয়া-নেওয়া শুরু হলো। চীনারা কাগজ আবিষ্কার করার পর হতে তথ্য দেওয়া-নেওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। টেলিফোন আবিষ্কার হওয়ার পর তথ্য বিনিময় একটি নতুন জগতে পা দিয়েছিল। তারবিহীন (wireless) তথ্য পাঠানো বা বেতার আবিষ্কারের পর সারা পৃথিবীটাই মানুষের হাতের মুঠোয় চলে আসতে শুরু করে।
আর এখন? সেই ইতিহাস বুঝি বলেই শেষ করা যাবে না।

পূর্ববর্তী

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ