- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- ষষ্ঠ শ্রেণি
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার
আইসিটির ব্যবহারের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। তোমাদের পারিবারিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে এ রকম আরও কয়েকটি ব্যাপার সম্পর্কে বলা যাক।
প্রচার ও গণমাধ্যম: রেডিয়ো, টেলিভিশন, খবরের কাগজ বা অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে আমরা বলি প্রচার ও গণমাধ্যম। এই বিষয়গুলো আজকাল অনেক উন্নত হয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের যেকোনো খবর শুধু যে মুহূর্তের মধ্যে আমরা পেয়ে যাই তা নয়-তার ভিডিয়োটিও দেখতে পাই! এই ব্যাপারগুলো সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আইসিটির কারণে।
প্রকাশনা: সরকারিভাবে আমাদের দেশের স্কুলের ছেলেমেয়েদের থেকে প্রতিবছর নতুন বই দেওয়া হয়। এই নতুন বইয়ের সংখ্যা প্রায় চল্লিশ কোটি। এই বিশাল সংখ্যক বই ছাপানো সম্ভব হয় শুধুমাত্র আইসিটির কল্যাণে। আইসিটি ব্যবহার করে শুধু যে নির্ভুল আর আকর্ষণীয় করে বই ছাপানো যায় তাই নয়, বইগুলো ওয়েবসাইটে রেখেও দেওয়া যায়; যেন যে কেউ সেগুলো ডাউনলোড করে নিতে পারে। যেমন- এনসিটিবির ওয়েবসাইট (www.nctb.gov.bd) থেকে সকল পাঠ্যপুস্তকের সফটকপি বা ই-বুক ভার্সন পাওয়া যায়।
ব্যাংক: একটা সময় ছিল যখন একজন মানুষকে টাকা তুলতে তার ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখায়ই যেতে হতো। এখন আর সেটি করতে হয় না। যে সব ব্যাংক অনলাইন হয়ে গেছে সে সকল ব্যাংকের হিসাবধারী (একাউন্ট হোল্ডার) যে কোনো শাখায় অর্থ জমা ও উত্তোলনের সুবিধা পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, যেখানে এটিএম (Automated Teller Machine) আছে সেখান থেকে ব্যাংক কার্ড দিয়ে দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টার যেকোনো সময় টাকা তোলা যায়। ব্যাপারটি আরও সহজ করার জন্যে আজকাল মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ব্যাংকিং শুরু হয়ে গেছে।
শিল্প ও সংস্কৃতি: শিল্প ও সংস্কৃতিতেও আজকাল আইসিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। একসময় এক সেকেন্ডের কার্টুন ছবি তৈরি করার জন্য ২৬টি ছবি তৈরি করতে হতো। আইসিটি ব্যবহার করে সেই পরিশ্রম অনেকাংশে কমে গেছে। শুধু তাই নয়, অনেক সময় এনিমেশন ছবি এমনভাবে তৈরি হয় যে সেগুলোকে সত্যি বলে মনে হয়।
দৈনন্দিন জীবনে আইসিটি: তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে ছাপ ফেলেছে আইসিটির এরকম কয়েকটি ব্যবহারের কথা বলা হলো; কিন্তু তোমাদের কেউ যেন মনে না করে এর বাইরে বুঝি কিছু নেই। এর বাইরেও আরও অসংখ্য বিষয় রয়েছে যা তোমাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি ব্যবহার না হলেও দেশের নানা কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ব্যবসা-বাণিজ্যে আইসিটির ব্যবহার হয়। সাধারণত দোকানপাটে যেরকম বেচাকেনা হয়-ইন্টারনেট ব্যবহার করেও সেরকম বেচাকেনা হয় বলে ই-কমার্স নামে একটা নতুন শব্দই তৈরি করা হয়েছে। অতীতে অফিসের কাজে অনেক সময় ব্যয় হতো। এখন আইসিটি ব্যবহার করে অফিসের কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সাধারণত সেটাকে বলে ই-গভর্নেন্স। পুলিশ বাহিনী অপরাধী ধরার জন্য ব্যাপকভাবে আইসিটি ব্যবহার করে। দেশের প্রতিরক্ষার কাজে সেনাবাহিনীও আইসিটি ব্যবহার করে। কলকারখানা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এই বিষয়গুলোও আইসিটির ব্যবহার ছাড়া রাতারাতি অচল হয়ে যাবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি - অন্যান্য প্রশ্ন
সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ

