• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • ষষ্ঠ শ্রেণি
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা

একটা সময় ছিল যখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে কেউ চিঠি লিখলে সেই চিঠি যেতে এক থেকে দুই সপ্তাহ লেগে যেত। তার কারণ চিঠিগুলো লেখা হতো কাগজে, খামের ওপর ঠিকানা লিখতে হতো এবং সেই চিঠি জাহাজ, প্লেন বা গাড়িতে করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যেত। তারপর সেগুলো আলাদা করা হতো। সবশেষে কোনো না কোনো মানুষ খামের ওপর সেই ঠিকানা দেখে বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিত।

এখনো সেরকম চিঠি লেখা হয়। আপনজনের হাতে লেখা একটা চিঠির জন্যে এখনো সবাই অপেক্ষা করে থাকে। কিন্তু কাজের কথা বিনিময় করার জন্যে এখন নতুন অনেক পদ্ধতি বের হয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করে চোখের পলকে মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে চিঠি পাঠাতে পারে। শুধু কি চিঠি? চিঠির সাথে ছবি, কথা, ভিডিয়ো সবকিছু পাঠানো সম্ভব। বলতে পারো পুরো পৃথিবীটা একেবারে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। একটা গ্রামে যেরকম একজন মানুষ আরেকজনের সাথে যখন খুশি যোগাযোগ করতে পারে: ঠিক সেরকম পুরো পৃথিবীটাই যেন একটা গ্রাম, সবাই সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। সেটা বোঝানোর জন্যে গ্লোবাল ভিলেজ (global village) বা বৈশ্বিক গ্রাম নামে নতুন শব্দ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে। বাস্তবে পাশাপাশি না থাকলেও "কার্যত” (virtually) এখন আমরা সবাই পাশাপাশি।

এর সবই সম্ভব হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে। এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপদান করার জন্যে যে প্রযুক্তিটি সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে সেটি হচ্ছে ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স। তাই আমরা অনেক সময় বলি এই যুগটাই হচ্ছে ডিজিটাল যুগ। শুধু তাই না, আমরা বলি আমাদের প্রিয় দেশকে আমরা ডিজিটাল দেশে পরিণত করে ফেলব-যার অর্থ একেবারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের সব মানুষের জীবন সহজ করে দেবো, সবার দুঃখ দুর্দশা দূর করে জীবনকে আনন্দময় করে দেবো।

তোমরা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছ প্রযুক্তি বলতে আমরা কী বোঝাই। বিজ্ঞানের তথ্যের ওপর নির্ভর করে তৈরি করা নানা রকম যন্ত্রপাতি আর কলাকৌশল ব্যবহার করে যখন মানুষের জীবনটাকে সহজ করে দেওয়া হয় সেটাই হচ্ছে প্রযুক্তি।

এখানে তোমাদের কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে-অনেক প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করতে গিয়ে জীবনটাকে আরো জটিল করে দেয়। কিছু প্রযুক্তি পরিবেশ নষ্ট করে বিপদ ডেকে আনছে। আবার অনেক প্রযুক্তি আছে যার প্রয়োজন নেই, তবুও আমরা সেই প্রযুক্তির জন্যে লোভ করে অশান্তি ডেকে আনি।

একটা সময় ছিল যখন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করত শুধু বড়ো বড়ো দেশ কিংবা বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠান। তার কারণ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন হতো কম্পিউটার আর সেই কম্পিউটার তৈরি করা কিংবা ব্যবহার করার ক্ষমতা সবার ছিল না। তখন একটা কম্পিউটার রাখার জন্যে বড়ো আকারের ঘর লেগে যেত। তার কার্যক্ষমতাও ছিল খুব কম। সেই কম্পিউটার একদিকে দেখতে দেখতে ছোটো হতে শুরু করেছে; অন্যদিকে তার কার্যক্ষমতাও বাড়তে শুরু করেছে। তোমরা শুনলে অবাক হয়ে যাবে এক সময় যে কম্পিউটার কিনতে লক্ষ লক্ষ টাকা লাগত, এখন তার থেকে শক্তিশালী কম্পিউটার তোমার পরিচিতজনের মোবাইল ফোনের ভেতরে আছে।

কাজেই বুঝতেই পারছ, কম্পিউটার এখন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। যে তথ্যপ্রযুক্তি একসময় ব্যবহার করত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং অল্প সংখ্যক মানুষ, এখন সাধারণ মানুষও সেটা ব্যবহার করতে শুরু করেছে। কম্পিউটারের পাশাপাশি নতুন নতুন যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে, কম্পিউটার আর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার জন্যে নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরি হচ্ছে, যোগাযোগ সহজ করার জন্যে অপটিক্যাল ফাইবার কিংবা উপগ্রহ ব্যবহার করা হচ্ছে, তথ্য দেওয়া-নেওয়ার জন্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। বাস, ট্রাক চালানোর জন্যে যে রকম রাস্তা বা হাইওয়ে তৈরি করতে হয় ঠিক সেরকম তথ্য দেওয়া-নেওয়ার জন্যে ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে তৈরি হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে একদিকে যেমন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের তথ্য দেওয়া-নেওয়া সহজ হয়ে গেছে, ঠিক সেরকম পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী মানুষ যে তথ্যটি নিতে পারে, একেবারে সাধারণ একজন মানুষও ঠিক সেই তথ্যটি নিজের জন্যে নিতে পারে। কাজেই বলা যেতে পারে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারা পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার একটা বিপ্লব শুরু হয়েছে। সেই বিপ্লব কোথায় থামবে কেউ বলতে পারে না!

তোমরা সবাই নিশ্চয়ই এতক্ষণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে আমরা কী বোঝাতে চেয়েছি তার একটি ধারণা পেয়ে গেছ। তথ্য দেওয়া-নেওয়া, বাঁচিয়ে রাখা বা সংরক্ষণ করা আবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা, বিশ্লেষণ করা এবং নিজের কাজে ব্যবহার করার প্রযুক্তিই হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি!

সম্পর্কিত বহুনির্বচনী প্রশ্ন সমূহ